ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২০:১১:৪৮ জুন  ২৩, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


দেশ আগাবে না, যদি না থাকে শ্রমিক অধিকার

আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার উৎসই জনগণ বলে দলটি দাবী করলেও গত কয়েক বছরে দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। সরকার বহুবার শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের উৎপাদকরা কোনমতেই তাদের মাথাচাড়া দেবার সুযোগ দেয়নি





বাং লাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে। শ্রমিক সমাজসহ সর্বশ্রেণির মানুষের সমান অধিকার নিয়ে একটি দেশের ৪৬ বছর আগে পথ চলা শুরু হলেও আজও দেশে শ্রমিক শ্রেণির গণতান্ত্রিক শ্রম অধিকার ফিরে আসেনি। বিশ্বে বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকারের দিক দিয়ে আজো সবচেয়ে খারাপ দেশের রেটিংয়ে দশম স্থানে রয়েছে। বৈশ্বিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন, আইটিইউসি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘গ্লোবাল রাইট্স্ ইনডেক্স ২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ভিয়েনাভিত্তিক সংগঠনটির মতে এই রেটিং-এর মানে ‘বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারের কোন নিশ্চয়তা নেই।’
আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার উৎসই জনগণ বলে দলটি দাবী করলেও গত কয়েক বছরে দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। সরকার বহুবার শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশের উৎপাদকরা কোনমতেই তাদের মাথাচাড়া দেবার সুযোগ দেয়নি। মালিকপক্ষ তাদের বিশাল সংখ্যক শ্রমিকদের নিয়ে নিজেদের উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলেও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী-দাওয়া, চাকরির সুযোগ-সুবিধা, আইন-কানুন, বেতন-ভাতা, ইত্যাদির প্রতি কোন দৃষ্টিপাত করছে না। সরকারের সাথে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা কর্মীদের নির্ধারিত রেটে বেতন দেবার একটি অঙ্গীকার করে। কিন্তু আজো সে বেতন কার্যকরী করেনি। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার দাবী মালিকপক্ষ মেনে নিলেও কোন কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেনি শ্রমিকরা। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশুলিয়ায় ২০১৬ সালে পোশাক শ্রমিকদের সপ্তাহব্যাপী ধর্মঘট চলার পর ৩৫ জন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও শ্রমিক অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক হাজারেরও বেশি শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আইটিইউসি বলছে, ২০১৭ সালে বিভিন্ন পোশাক তৈরি কারখানায় ১৬০০ জনেরও বেশি শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ৬০০ শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্মঘটকারীদের ঘরে ফিরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশ ও শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ নেবার হুমকি দেয়ার বিষয়টিও আমলে নিয়েছে আইটিইউসি।
আজকের বিশ্বের অধিকাংশ উন্নয়নমুখী দেশ অন্যান্য দেশের বিভিন্ন জোটে নিজেদের জোটভূক্ত করে নিজেদের অর্থনৈতিক উৎপাদনকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের নীতিমালায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনগুলোর আইন-কানুন ও নীতিমালা মানার প্রবণতা অনেক কমে গেছে। সরকার নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছে বটে কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের ও যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেয়া কমপ্লায়েন্সগুলো এখনো কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। যদি এ ব্যাপারে সরকার যতœবান হতো, তাহলে আমাদের বস্ত্রশিল্পের মালিকরা আরো বহু দেশে অনেক কম কর দিয়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করতে পারতো। দেশের নিরন্ন মানুষদের প্রতি, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সরকারের উদাসীনতা অর্থনৈতিক উন্নতির পথে সফলতা বয়ে আনতে বিঘেœর সৃষ্টি করবে বৈকি।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি