ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭  ,
০০:১৯:৪৮ জুন  ২৩, ২০১৭ - বিভাগ: জাতীয়


আইটিইউসির বার্ষিক প্রতিবেদন
বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই

ডেস্ক রিপোর্ট

শ্রমিক অধিকার বিবেচনায় সবচেয়ে খারাপ বিশ্বের ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে বৈশ্বিক শ্রম অধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি)। বৈশ্বিক শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত ভিয়েনাভিত্তিক সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ‘আইটিইউসি গ্লোবাল রাইটস ইনডেক্স ২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের ওপর সরকার ও নিয়োগকর্তার চাপিয়ে দেওয়া অব্যাহত ভোগান্তির কারণে বাংলাদেশ র‌্যাটিংয়ে ৫ পেয়েছে, যার অর্থ হলোÑ শ্রমিকদের ‘অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই’।
এই ১০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে কলাম্বিয়া, মিসর, গুয়াতেমালা, কাজাখস্তান, ফিলিপিন্স, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারও র‌্যাটিং ৫ পেয়েছে; নেপাল ও শ্রীলংকা ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ দুটি দেশের র‌্যাটিং ৩, যার অর্থ সেখানে নিয়মিত অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নেই। আইটিইউসির মহাসচিব শারান বারো বলেন, অনেক দেশেই করপোরেট স্বার্থের নিচে পড়ে আছে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। পুলিশের বর্বরতা, গণগ্রেফতার ও বৈষম্যকে বাংলাদেশে শ্রমিক সংগঠনের ওপর নির্যাতনের প্রধান দিক হিসেবে গত ১৩ জুন প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ধরনের নির্যাতনের উদাহরণ হিসেবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে চলা শ্রমিক ধর্মঘটের পর ৩৫ জন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও শ্রমিক অধিকারকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১ হাজারের বেশি শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। ওই ধর্মঘটের পর বিজিএমইএ ৫৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় উইন্ডি অ্যাপারেলস ও ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড ২৩৯ শ্রমিকের বিরুদ্ধে এবং হা-মীম গ্র“প ৭টি মামলা করে, যাতে হয় হাজারের বেশি শ্রমিককে আসামি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইটিইউসি বলছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারির শুরুতে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক বরখাস্ত করেছে এবং ৬০০ শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটীদের ঘরে ফিরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশ এবং তাদের বিরুদ্ধে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেওয়ার বিষয়টিও আমলে নিয়েছে আইটিইউসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পদ্ধতিগতভাবে এবং ব্যবহারিক পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য বিরাজমান রয়েছে।
আইইউটিসি বলেছে, ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতির বাধ্যবাধকতার কারণে বাংলাদেশের সাড়ে ৪ হাজার তৈরি পোশাক কারখানার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ কারখানায় আংশিকভাবে নিবন্ধিত ইউনিয়ন আছে। তার সাথে জটিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতার বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হওয়ায় উপযোগী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না।
ট্রেড ইউনিয়ন বিরোধী নীতির কারণে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতির উদাহরণ দিতে গিয়ে বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের কথা উল্লেখ করেছে আইইউটিসি। ২০১৫ সালের মে মাসে ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টার পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর ১৪৫ শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাবিব ফ্যাশনস নামে পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টা আটকে দেয় এবং তারপর ২০১৬ সালের আগস্টে কারখানা বন্ধ করে দেয়। ইউনিয়নবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বরগুনায় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা মো. হায়দার আলী হত্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে।


জাতীয় 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি