ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭  ,
০০:০৮:২৬ জুন  ২৩, ২০১৭ - বিভাগ: জাতীয়


ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় বাস টার্মিনালে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদযাত্রার প্রথম দিন ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে তেমন একটা ভিড় দেখা না গেলেও ছুটির আগের শেষ কর্মদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করে। গত বুধবার ট্রেনসূচিতে গড়বড় দেখা গেলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে বলে স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দিনের শুরু থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত মোট ২৫টি ট্রেন কমলাপুর ছেড়ে গেছে। সূচি মোটামুটি ঠিকই আছে। পরের ট্রেনগুলোও নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাবে বলে আশা করছি।
প্রতিটি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় লিখে রাখছেন কমলাপুর স্টেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। আনসার কমান্ডার ইয়ার হোসেন জানান, দিনের প্রথম ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস নির্ধারিত ৬টা ৩৫ মিনিটেই সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। সোনার বাংলা এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায় নির্ধারিত সময় ৭টায়।
এছাড়া এগারসিন্ধুর প্রভাতী ৭টা ১৫ মিনিটে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে, তিস্তা ৭টা ৩০ মিনিট দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে, মহানগর প্রভাতী ৭টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে এবং নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় চিলাহাটির উদ্দেশে, রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় রংপুরের পথে এবং অগ্নিবীনা এক্সপ্রেস সকাল পৌনে ১০টায় তারাকান্দির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে সকাল সাড়ে ৮টা কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ১৫ মিনিট দেরিতে চট্টগ্রামের পথে রওনা হয় বলে ইয়ার হোসেন জানান।
এবার ঈদে ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের জন্য গত ১২ জুন থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে রেলওয়ে। সেদিন যারা টিকিট কিনেছিলেন, তারা গন্তব্যে রওনা হয়েছেন গত বুধবার। আর ১৩ জুন যারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কমলাপুর থেকে আগাম টিকিট কিনতে পেরেছেন, তারা গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হন।
এবার ঈদে মোট ১ হাজার ৩৩২টি কোচ দিয়ে যাত্রীসেবা দিচ্ছে রেলওয়ে। ঢাকা থেকে ৬০ হাজার এবং চট্টগ্রাম থেকে ১৫ হাজার যাত্রীসহ সারাদেশে প্রতিদিন ২ লাখ ৬৫ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে রেলওয়ের।
এদিকে ঈদ ছুটি শুরুর আগে শেষ কর্মদিবসের সকালে গতকাল রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে। অতিরিক্ত যাবাহনের চাপে চট্টগ্রাম ও উত্তরের পথের মহাসড়কে মাঝেমধ্যে জট তৈরি হলেও গতকাল দুপুর পর্যন্ত টার্মিনাল থেকে সময়মতোই বাস ছেড়ে গেছে বলে কাউন্টারগুলো থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল সকালে থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং কল্যাণপুরের বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায় পরিস্থিতি অন্য বছরের তুলনায় স্বস্তিদায়ক। বড় কোম্পানিগুলোর টিকিট আগেই বুকিং হয়ে যাওয়ায় টিকিটধারী যাত্রীদের টার্মিনালে এসে বাসের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কোনো কোনো বাসের টিকিট তাৎক্ষণিকভাবেও পাওয়া যায়।
নাটোর-রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পথে চলাচলকরী তুহিন এলিট বাসের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মির্জা মামুন বলেন, তাদের ১৫টি করে বাস প্রতিদিন ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীরা আগেই টিকিট কিনে নিয়েছেন, ফলে কাউন্টারে ভিড় কম। এবার ঈদে যাত্রীদের চাপ এখনো কম। অন্য বছর ‘রানিং যাত্রীদের’ ভিড় থাকে। এবার এখনো তেমন দেখিনি।
গাবতলী থেকে রোজিনা পরিবহনে কুষ্টিয়ার খোকসায় যেতে সপরিবারে অপেক্ষা করছিলেন এলজিইডির কর্মী সাইফুর রহমান। ছুটি নিয়ে এবার আগেই গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন তিনি। সাইফুর বলেন, সরকারি ছুটি এখনো শুরু হয়নি। তাই টার্মিনালে এখনো অস্বস্তিকর ভিড় নেই। তবে ফেরি পারাপারে ঝামেলা হয় কি-না সেই ভয়ে আছি।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গাসহ কিছু এলাকায় গাড়ি ধীরগতিতে চললেও ‘অসহনীয় যানজট’ গতকাল তৈরি হয়নি। ফলে গাবতলী থেকে উত্তরবঙ্গের পথে চলাচলকারী বাসগুলো মোটামুটি নির্ধারিত সময়েই গন্তেব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে পারছে বলে পাবনার পথে চলাচলকারী শাহজাদপুর এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম জানান।
উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রাজশাহীর পথে চলাচলকারী সবচেয়ে বড় বাস সার্ভিস নাবিল পরিবহনের কাউন্টার ব্যবস্থাপক আবদুল আউয়াল জানান, এ বছর তাদের ৭৫ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। সে কারণে কাউন্টারের সামনে ঘরমুখো মানুষের চাপ তেমনভাবে বোঝা যাচ্ছে না। উত্তরবঙ্গের পথে চলা হানিফ পরিবহন, আগমনী, শ্যামলী পরিবহন, এসআর পরিবহন, মানিক এক্সপ্রেসেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। তবে আজ শুক্রবার সারাদিন ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদের ট্রিপ দেওয়ার জন্য গাড়ি সব সায়েদাবাদ চলে আসছে। সকাল থেকে বড়জোর ১০০ বাস ছাড়ছে। সম্ভবত আগামীকাল থেকে যাত্রী নামবে। সায়েদাবাদ থেকে বের হয়ে সিলেটের পথে গতকাল তেমন যানজট না থাকলেও চট্টগ্রাম যেতে মেঘনা ব্রিজের কাছে কিছুটা জটে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, শেরপুর এবং সিলেট ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার বাস ছাড়ে। ময়মনসিংহ লাইনের কোনো বাসেই অগ্রিম টিকিট দেওয়া হয় না, টিকিট কাটতে হয় কাউন্টারে এসে। বগুড়া ও নওগাঁর পথে চলাচলকারী শাহ ফতেহ আলীর কাউন্টার ব্যবস্থাপক তুহিন জানান, এসি/নন এসি মিলিয় প্রতিদিন তাদের ৩৯টি বাস ঢাকা ছেড়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবারসহ পরবর্তী দুদিনের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।


জাতীয় 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি