ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭  ,
২৩:৪৬:৫০ জুন  ২২, ২০১৭ - বিভাগ: বাংলাদেশ


সড়কে ৯ প্রাণহানি

ডেস্ক রিপোর্ট

পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় জনের ৯ প্রাণহানি হয়েছে। এসময় কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ সময়- এর প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদÑ
রাজধানীর শাহবাগের মৎস্যভবনের সামনে ছিনতাইকারীর মাইক্রোবাস চাপায় সজীব (২০) নামে এক মুরগি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গতকাল দিবাগত রাত ১টার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বাচ্চু মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত সজীবের মামা হজরত আলীর বরাত দিয়ে এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, সজীব ও তার মামা হজরত আলী ভ্যান নিয়ে কাপ্তান বাজার যাচ্ছিলেন। মৎস্য ভবন এলাকায় পৌঁছানোর পর একটি মাইক্রোবাস তাদের ভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তারা পড়ে গেলে মাইক্রোবাস থেকে তিন-চারজন যুবক নেমে আসে। অস্ত্রের মুখে সজীবের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। যাওয়ার সময় মাইক্রোবাস দিয়ে তাদের চাপা দেয় ছিনতাইকারীরা। পথচারীরা দুইজনকে উদ্ধার করে ঢামেকে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১টা ২০ মিনিটের সময়  সজীবকে মৃত ঘোষণা করেন। সজীবের বাবার নাম রাশিদ, বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর। লাশ ময়নাতদন্তের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই মো. বাচ্চু মিয়া।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ট্রাকের ধাক্কায় এক নারী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার স্বামী। নাওজোর হাইওয়ে ফাঁড়ির এসআই বিনয় কুমার সরকার জানান, গতকাল ভোরে মাস্টারবাড়ি এলাকায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহত শান্তি বেগম (৪৫) জামালপুরের ইসলামপুর থানার দর্জিপাড়া এলাকার হাসমত আলীর স্ত্রী। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুরে সপরিবার বসবাস করতেন। এসআই বিনয় বলেন, হাসমত আলী নিজের ভ্যানে করে স্ত্রীকে নিয়ে জয়দেবপুর থেকে ভাওয়াল মির্জাপুরে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাস্টারবাড়ি পৌঁছালে পেছন থেকে ট্রাক এসে ভ্যানটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান শান্তি। হাসমত সামান্য আহত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় জানিয়ে এসআই বলেন, পরিবারের আবেদনে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর প্রতিনিধি জানান, যশোরের শার্শার পল্লী-বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ত্রিপুরা-ঢাকা-কলকাতার সৌহার্দ্য পরিবহন ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে জাহিদুল ইসলাম (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় বেনাপোল বন্দর পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও তার দেহরক্ষী সাইদুল ইসলাম আহত হন। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের চালক বিশ্বজিৎকে আটক করে নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বেনাপোল পোর্ট থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি অপূর্ব হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাইওয়ে পুলিশের এসআই আফজাল হোসেন জানান, বেনাপোল বন্দর পরিচালক একটি প্রাইভেটকারে যশোর যাচ্ছিলেন। রাস্তায় শার্শার পল্লী-বিদ্যুৎ অফিসের সামনে আসলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ত্রিপুরা-ঢাকা-কলকাতা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে প্রাইভেটকার চালক জাহিদুল ইসলাম মারা যান। এসময় প্রাইভেটকারে থাকা বেনাপোল বন্দর পরিচালক আমিনুল ইসলাম ও আনসার সদস্য সাইদুল ইসলাম আহত হন। তাদেরকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলায় বাসের ধাক্কায় মানিক (৩১) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে উপজেলার একলাশপুর বাজারের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের একলাশপুর গ্রামের কাজী বাড়ির লুৎফুর রহমানের ছেলে। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুর রহমান সাজিদ জানান, মানিক সকালে একলাশপুর বাজারের রাস্তার পশ্চিম পাশ দিয়ে হাঁটার সময় পেছনে থেকে ঢাকাগামী একুশে এক্সপ্রেস বাসটি তাকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর হন। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাসের সাথে পুলিশের টহলরত একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার তারাব পৌরসভার মৈকুলী এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑ পুলিশ কনস্টেবল মনির হোসেন (৩৩) ও লেগুনা চালক জাহাঙ্গীর মিয়া (২৫)। আহতরা হলেনÑ রূপগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) একেএম সাইদুজ্জামান ও কনস্টেবল দ্বীন ইসলাম। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, রূপগঞ্জ থানার এসআই একেএম সাইদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা একটি লেগুনা নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টহল দিচ্ছিলেন। এসময় একটি বাসের সাথে লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশ কনস্টেবল মনির হোসেন ও লেগুনা চালক জাহাঙ্গীর মিয়া নিহত হন। গুরুতর আহত হন এসআই একেএম সাইদুজ্জামান ও কনস্টেবল দ্বীন ইসলাম। এদিকে, এ দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনা সরিয়ে যানজট নিরসন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় দ্রুতগামী একটি ট্রাকের চাপায় জয়নাল আবেদীন (২৮) নামে এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর ১টার দিকে রাজারহাট উপজেলা শহরের হাসপাতাল রোডের রেলগেট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জয়নাল আবেদীন রাজারহাট উপজেলার দেবীচরণ গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তিস্তা থেকে রাজারহাটের দিকে যাওয়া একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে রাজারহাট রেলগেট এলাকায় বাইসাইকেলসহ জয়নাল আবেদীনকে চাপা দেয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ট্রাকটি শহরে ঢোকার সময় ট্রাফিক পুলিশ আটক করে কাগজপত্র দেখতে চাইলে চালক পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়া শহরতলির তেলিরপুকুর এলাকায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাস চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় নিহত যাত্রীর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও শ্যালক আহত হন। গতকাল দুপুরে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑ ঢাকার উত্তরার আলিফ পিওর ড্রিংকিং প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক আনোয়ারুল ইসলাম (৪৫) ও মাইক্রোবাস চালক রফিকুল ইসলাম (৪০)। আনোয়ারুল ইসলামের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। নিহত মাইক্রোবাস চালকের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। বগুড়ার ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই আশুতোষ মিত্র জানান, আনোয়ারুল ইসলাম ঈদের ছুটি উপভোগ করতে সকালে মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৮৯২৫) স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও শ্যালককে নিয়ে দিনাজপুরে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা হন। বেলা দেড়টার দিকে তাদের বহনকারী মাইক্রোবাস বগুড়া শহরতলির তেলিরপুর এলাকায় বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে পৌঁছে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-০৯৫২) সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক রফিকুল ইসলাম মারা যান। আহত হন গৃহকর্তা আনোয়ারুল ইসলামসহ তার পরিবারের ৫ সদস্য। তাদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করলে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আনোয়ারুল ইসলামের মৃত্যু হয়। মাইক্রোবাস ও ট্রাক আটক করলেও ট্রাকের চালক-হেলপার পালিয়ে গেছে।


বাংলাদেশ'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি