ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২০:৩১:৫৯ জুন  ২২, ২০১৭ - বিভাগ: ঢাকা


খানাখন্দে-কাদা-জলে পরিপূর্ণ শ্রীপুরের পথে পথে দুর্ভোগ

সাঈদ ইশতিয়াক মিঠু, শ্রীপুর (গাজীপুর)

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার আন্তঃসড়কগুলোতে অতি ভারী যান চলাচল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল নির্মাণ কাঠামো আর পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে উপজেলার প্রায় ১৫টি আন্তঃসংযোগ সড়ক যানচলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিটি সড়ক ভরে গেছে খানাখন্দে। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার ওপর জমে যায় হাঁটু পানি। ঈদুল ফিতরের আগে শ্রীপুরের পথে পথে কাদা-জল আর খানাখন্দে দুর্ভোগে পড়ছে যাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর-বরমী সড়কটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেহাল দশায় পড়ে আছে। সংস্কার উন্নয়নের নামে বারবার দরপত্র আহ্বানের কথা বলা হলেও তা এগুয়নি বাস্তবে। বর্ষার শুরু থেকে ওই সড়কে বন্ধ হয়ে আছে গণপরিবহন চলাচল। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে বালুবাহী ট্রাক। এ ছাড়া উপজেলার কাওরাইদ-শ্রীপুর, কাওরাইদ-জৈনা বাজার, শ্রীপুর-রাজাবাড়ী, আনসাররোড, বরমী-কাওরাইদ, জৈনা-বাঁশবাড়ী, বরমী-গোসিংগা, শ্রীপুর-কাপাসিয়া, গোসিংগা-কাপাসিয়া, টেংরা রোড, শ্রীপুর-রাজাবাড়ী, শ্রীপুর, মাস্টারবাড়ি সড়কসহ প্রায় একডজন অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসংযোগ সড়কে স্থানে স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। এসব সড়কে প্রতিনিয়তই কাদা-জলের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে যানবাহন। পথচারীরা নিত্যদিনই পোহাচ্ছেন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। আলোর নিচেই অন্ধকার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে  ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা ফ্লাইওভারের নিচে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় মহাসড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফ্লাইওভারের পশ্চিমপাশে জমে থাকে হাঁটু পানি। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে প্রতিদিনই নাকাল হয়ে থাকেন পথচারীরা। স্থানীয়দের ধারণা, জলাবদ্ধতা নিরসন না হলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে ফ্লাইওভার। এছাড়া ফ্লাইওভারের পাশে মাওনা-ফুলবাড়িয়া সড়কটির ওপর এক হাঁটু কাদা। যানবাহন চলাচলসহ পায়ে হেঁটে চলা এ সড়কে দুরূহ। ফ্লাইওভারের পাশে শ্রীপুর সড়কের ওপর প্রতিনিয়তই জমে থাকে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি কাদা। গাজীপুরের ব্যবসার প্রাণকেন্দ  মাওনা চৌরাস্তার গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি সড়কের কাদাজল অপসারণে নেই কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি। এ ছাড়া শ্রীপুর পৌর শহরের সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনের সড়ক পরিণত হয়েছে জলাশয়ে। এক হাঁটু পানি পেরিয়ে যেতে হয় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ  ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে করে শ্রীপুর এসআর অফিসের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র রক্ষণাবেক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইতোমধ্যেই নারীর টানে ঘরমুখো মানুষ ফিরছে গ্রামে। শ্রীপুরে এসেই পড়ছেন তারা রাস্তাঘাটের বিড়ম্বনায়। এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুজায়েত হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঈদের আগে এসব রাস্তা সংস্কার করা সম্ভব না। অতি জরুরি স্থানগুলোর বিষয়ে তারা ব্যবস্থা নিবেন।


ঢাকা'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি