ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৯:৩৬:৫৩ জুন  ২২, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


আমদানিকৃত চাল খালাসের ব্যবস্থা করুন

এসব আমদানি করা শত শত চালের ট্রাক এখন স্থল বন্দরগুলোতে আটকা আছে। ব্যবসায়ীরা চাল খালাস করতে পারছেন না। কারণ আমদানি শুল্ক কমানোর এনবিআরের প্রজ্ঞাপন বন্দরের কাস্টমস হাউসে এখনো পৌঁছেনি

বেশ কিছুদিন থেকে দেশে চালের বাজার অস্থির। দফায় দফায় সব ধরনের চালের দাম বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। সীমিত আয়ের মানুষের প্রধান ভরসা মোটা চাল। কারণ এ চালের দাম কম। কিন্তু মোটা চাল এখন ৪৪-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সংসারের বাজেট ঠিক রাখতে শ্রমজীবী মানুষ ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন- এমন সংবাদও পত্রিকার পাতায় স্থান পেয়েছে। চালের দাম বাড়ার প্রধান কারণ সরকারি গুদামে চালের মজুতের পরিমাণ অত্যন্ত কম। সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযান পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে চাল উৎপাদনের ঘাটতি না থাকলেও বাজারে চালের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হলে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। কিন্তু চালের আমদানি শুল্ক সরকার বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে আমদানিকারকরা চাল আমদানি করছেন না। ফলে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকার ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশ থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানি করার জন্য ওই দেশগুলোর সাথে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। কিন্তু এসব চাল দেশে আসতে বেশ সময় নেবে। তাই সরকার সব দিক বিবেচনা করে চাল আমদানিতে আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং নিয়ন্ত্রণমূলক ৩ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে আমদানকিারকরা এই প্রজ্ঞাপন জারি করার আগেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল ভারত থেকে আমদানি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। কারণ তারা আভাস পেয়েছিলেন সরকার আমদানি শুল্ক কমাবে। এসব আমদানি করা শত শত চালের ট্রাক এখন স্থল বন্দরগুলোতে আটকা আছে। ব্যবসায়ীরা চাল খালাস করতে পারছেন না। কারণ আমদানি শুল্ক কমানোর এনবিআরের প্রজ্ঞাপন বন্দরের কাস্টমস হাউসে এখনো পৌঁছেনি। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, এখন চাল খালাস করতে হলে ২৮ শতাংশ শুল্ক দিয়েই চাল খালাস করতে হবে। ফলে ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়েছেন। তারা অপেক্ষা করছেন কখন শুল্ক কমানোর প্রজ্ঞাপন বন্দরে এসে পৌঁছুবে।
আমাদের দেশে কোনোকিছুই দ্রুতগতিতে হয় না। মঙ্গলবার যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে তা সাথে সাথেই বন্দরে পাঠানো উচিৎ ছিল। আমরা আশা করি, অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন বন্দরে পৌঁছুবে এবং ব্যবসায়ীরা চাল খালাস করতে পারবেন। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আমদানি করা চাল বাজারে এলেই চালের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা কমে যাবে। সরকারও এমন কথা বলেছে। চালের বাজার সহনীয় পর্যায়ে আনতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে জনগণের এটাই প্রত্যাশা।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি