ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১০:০১:৪৬ জুন  ২২, ২০১৭ - বিভাগ: ঢাকা


রাজবাড়ীর টুপি যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে
Image

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ বছরও সৌদি আরব, কাতার, দুবাই, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে টুপি রপ্তানি করছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের গাড়াকোলা গ্রামের টুপি তৈরির কারিগররা। গত অর্ধযুগ ধরেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে রাজবাড়ীর টুপি রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। বছরজুড়ে কারিগররা এই টুপি তৈরি ও রপ্তানিতে ব্যস্ত থাকলেও ঈদের মৌসুমে এর চাপ বেড়ে যায়।


টুপি কারিগররা জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদের মৌসুমে টুপি তৈরির চাপ অনেক বেশি থাকে। প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে অর্ধ শতাধিক পরিবারের অসহায় নারী গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরি করে বাড়তি উপার্জনের মাধ্যমে সংসারের চাহিদা মেটাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এসব নারী তাদের হাতের নিপুণ কারুকাজের মাধ্যমে তৈরি করছে আধুনিক মানের টুপি।

প্রবাসে টুপি রপ্তানিকারক মো. হুমায়ুনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, তার স্বামী প্রায় দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ওমান থাকেন। সেখান থেকেই কাপড় আসে। কাপড় কেটে ২০০ থেকে ৫০০ এর মতো টুপি কাটা হয়। কাপড় কেটে ছাপ দিয়ে তাতে নকশা তেরি করা হয়। টুপিতে সুই সুতা দিয়ে নানা ধরনের নকশা কাটা হয়। পরে এই টুপি ফেনীতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রক্রিয়া শেষেই তা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।

টুপি তৈরির কারিগর মোছা. কহিনুর বেগম জানান, প্রতিদিন গড়ে তিনটি টুপি তৈরি করতে পারেন তিনি। প্রতিটি টুপির মজুরি হিসেবে ৩৫ টাকা পান তিনি। এই মজুরিতে তাদের চলতে খুব কষ্ট হয়। তবে সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি সেলাই করে সংসারের বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা হয়েছে।

দরিদ্র পরিবারের ছাত্রী সাদিয়া আফরীন বলেন, আমাদের মতো অসহায় নারীদের উন্নত সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা যদি সরকার করে তাহলে গ্রামের নারীরা সংসারে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করতে পারবে।

স্থানীয় মুসল্লী মো. মুরাদ বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের গাড়াকোলা গ্রামের প্রায় প্রতি বাড়ির নারী পুরুষেরা এই টুপি তৈরিতে যুক্ত। বিদেশে এই টুপি বিক্রি করে টাকা উপার্জন করছে। এই টুপি ওমানে প্রায় বাংলাদেশের টাকায় ৩/৪ হাজারে বিক্রি হয়।

নারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, এলাকার অসহায় নারীরা টুপি তৈরির এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে স্থানীয়ভাবে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরির কাজ করায় তাদের আর্থিক উন্নয়ন ঘটছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, গাড়াকোলা গ্রামের নারীদের নিখুঁত সূচিকর্ম খচিত টুপিগুলো মধ্যপ্রাচ্যোর বিভিন্ন দেশে সমাদৃত। গ্রামের অসহায় নারী ও পুরুষ এই টুপি তৈরি করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করছে।

ঢাকা'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি