ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭  ,
০০:১৩:২৫ জুন  ২২, ২০১৭ - বিভাগ: রাজনীতি


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
মনোনয়ন দৌড়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুর, মাগুরা ও ফরিদপুরের জনসভায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন আওয়ামী সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই ভোট চাওয়ায় রাজনীতিতে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে কাজ করতে বলেছেন। জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিও নানা হিসাব কষতে শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বেশিরভাগ আসনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং অপেক্ষাকৃত তরুণ আওয়ামী লীগ নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশায় নির্বাচনী আসনে সময় দিচ্ছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ।
সূত্র জানায়, বর্তমানে আওয়ামী লীগ দলীয় শতাধিক সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে খারাপ খবরের শিরোনাম হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী মহল এসব বিতর্কিত সংসদ সদস্যদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তা করছেন। এমন বার্তার কারণে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা এখন নির্বাচনী আসনে গিয়ে জোরালোভাবে কাজ করা শুরু করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে একাধিক প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার নির্বাচনী জরিপ রিপোর্ট এরই মধ্যে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা পড়েছে। ওই জরিপে অধিকাংশ আসনে তরুণ নেতাদের নাম এসেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সংসদীয় দলের বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় এমপিদের উদ্দেশে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে অনেকে মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন। এ নিয়ে কলহ-বিবাদ করা যাবে না। তবে বিতর্কিত কিছু এমপিকে এখনো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নিজ এলাকায় গণসংযোগ বাড়াতে বলা হয়েছে। বৈঠকে আ্ওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কে কী করছেন, তার রিপোর্ট আমার কাছে আছে। নিয়মিত এসব তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। এলাকায় যার অবস্থান ভালো না তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এবারের নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতের সব ভোটের তথ্য নির্বাচন কমিশন থেকে জোগাড় করতে হবে। ওইসব নির্বাচনে কারা প্রার্থী ছিল, কে, কত ভোট পেয়েছিল- সব তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। কার কী দোষগুণ আছে, তাও উপলব্ধি করতে হবে। দলীয় প্রধানের এমন মন্তব্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দলে ও দলের বাইরে নানা সময়ে সমালোচিত এমপিরা। তারা নিজেদের রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে তাদের দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসে বসে থাকতে দেখা গেছে। তারা দলের সাধারণ সম্পাদকের সাথে সাক্ষাৎ করতে চেষ্টা করছেন । অনেকেই দেখা না পেয়ে মনক্ষুণœ হয়ে ফিরে এসেছেন। জানা গেছে এসব বিতর্কিত এমপিরা বাদ পড়তে পারেন এ রকম সংবাদের ভিত্তিতে সভাপতির কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পদচারণা বেড়ে গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ  নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, যাদের কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি বিগত দিনে নষ্ট হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা মনোনয়ন পাবেন না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত তরুণ স্বচ্ছ নেতাদেরই গুরুত্ব দেওয়া হবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এরই মধ্যে যারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হয়েছেন তারা হলেনÑ খুলনা-৬ অ্যাডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক, ঝালকাঠি-১ বজলুল হক হারুন, ফেনী-২ নিজাম উদ্দিন হাজারী, চট্টগ্রাম-১১ এমএ লতিফ, নেত্রকোনা-২ আরিফ খান জয়, গাজীপুর-৩ রহমত আলী, ঢাকা- ১৪ আসলামুল হক আসলাম, ঢাকা-১৯ ডা. এনামুর রহমান এনাম, খুলনা-১ ননী গোপাল মণ্ডল, চট্টগ্রাম-১৬ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, বরগুনা-২ শওকত হাছানুর রহমান রিমন, টাঙ্গাইল-৩  আমানুর রহমান খান রানা, খুলনা-৫ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, কক্সবাজার-৪ আবদুর রহমান বদি,  সিলেট-৩ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ ইমরান আহমদ, যশোর-১ শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-৪ রণজিৎ কুমার রায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ গোলাম রব্বানী, রাজশাহী-৪ মো. এনামুল হক, ঠাকুরগাঁও-২ দবিরুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন রয়েছেন।
যেসব আসনে পরিবর্তন হতে পারে-
দিনাজপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, ঢাকা, সুনামগঞ্জ ও চট্টগ্রাম, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোণা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, যশোর, খুলনা, রাজশাহী, লক্ষ্মীপুরসহ আরও বেশ কিছু জেলায় এক বা একাধিক আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। জরিপে এবং সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগের নেতারা অনেকে নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে বেশ ভাল অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন- অরুনাংশু দত্ত টিটু (ঠাকুরগাঁও-১), অধ্যাপক শহীদুল হক (ঠাকুরগাঁও-৩), অ্যাড আনোয়ারুল ইসলাম (রংপুর-৩), মাহমুদ হাসান রিপন (গাইবান্ধা-৫), ইঞ্জিনিয়ার আকতারুল আলম (নওগাঁ-২), রফিকুল ইসলাম লিটন (পাবনা-৪), অ্যাড. এ বি এম আহসানুল হক আহসান (যশোর-২), কামরুল হাসান বারী (যশোর-৫), সাইফুজ্জামান শিখর (মাগুরা- ২ ও ১) পংকজ সাহা (মাগুরা-১), নিজাম উদ্দিন খান নিলু  (নড়াইল-১), বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), বলরাম পোদ্দার (বরিশাল-১), শাহে আলম (বরিশাল-২), মনিরুজ্জামান মনির (ঝালকাঠি-১), এস এম মশিউর রহমান শিহাব (বরগুনা-১), মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর-৫), অসীম কুমার উকিল ও সামসুল কবীর রাহাত (নেত্রকোনা-৩), শফি আহমেদ (নেত্রকোনা-৪), মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল (ময়মনসিংহ-১০) অজয় কর খোকন (কিশোরগঞ্জ-৫), গোলাম সরোয়ার কবীর (মুন্সিগঞ্জ-১), ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবদুল ওয়াহিদ (মুন্সিগঞ্জ-২), আনিসুজ্জামান আনিস ও ফয়সাল বিপ্লব (মুন্সিগঞ্জ-৩), পনিরুজ্জামান তরুন (ঢাকা-১), আলতাফ হোসেন বিপ্লব (ঢাকা-২), ড. আওলাদ হোসেন (ঢাকা-৪), অ্যাড মোল্লা আবু কাউসার (ঢাকা-৮), গোলাম রব্বানী চিনু ও  জয়ন্ত সরকার  (ঢাকা-১৩), নাজিম উদ্দিন (ঢাকা-১৮), ইকবাল হোসেন সবুজ (গাজীপুর-৩), অ্যাড. রিয়াজুল কবীর কাউসার (নরসিংদী-৫), এম এইচ মাসুদ দুলাল (নারায়ণগঞ্জ-৩), শেখ সোহেল রানা টিপু (রাজবাড়ী-১), লিয়াকত সিকদার ও খান মঈনুল হোসেন মোস্তাক, ইস্তাক আহমেদ শিমুল (ফরিদপুর-২), ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও   আনোয়ার হোসেন (মাদারীপুর-৩), ইকবাল হোসেন অপু ও রফিকুল ইসলাম কতোয়াল (শরীয়তপুর-১), এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), বাহাদুর বেপারী (শরীয়তপুর-৩), অ্যাড. আক্তারুজ্জামান সেলিম (সুনামগঞ্জ-১), শামীম আহমেদ চৌধুরী (সুনামগঞ্জ-৫), হাবিবুর রহমান হাবিব (সিলেট-৩), মঈন উদ্দিন মঈন (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-২), ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস সবুর (কুমিল্লা-১), অ্যাড নুরুল আমিন রুহুল (চাঁদপুর-২), সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), ড. মোস্তফা কামাল খান (চঁাঁদপুর-৫), জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন ও দিদারুল কবির রতন (ফেনী-৩), জাহাঙ্গীর আলম (নোয়াখালী-১), এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-২), মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন (চট্টগ্রাম-৬), খোরশেদ আলম সুজন (চট্টগ্রাম-১১), আমিনুল ইসলাম আমিন ও  মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪)।


রাজনীতি'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি