ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
২০:৩১:৫২ জুন  ২১, ২০১৭ - বিভাগ: খুলনা


নদী ভাঙনের কবলে দাকোপ

Image

বিএম রাকিব হাসান, খুলনা

খুলনা জেলার দাকোপে ভয়াবহ নদী ভাঙনে কয়েকটি স্থান মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামত না করলে যে কোনো সময়ে বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পৃথক তিনটি দ্বীপের সমন্বয়ে এ উপজেলা গঠিত। এখানে প্রায় সারা বছরই চলে নদী ভাঙন। স্থানীয় বাসিনন্দারা ভাঙনের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত তাদের সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। শুধুমাত্র নদী ভাঙনের কারণে সর্বস্ব হারিয়ে অনেকে ভারতেও চলে গেছে এমন সংখ্যা কম হবে না। উপজেলার চারপাশজুড়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদীর মধ্যে শিবসা, ঢাকী, চুনকুড়ি, পশুর, ঝপঝপিয়া ও মাঙ্গা নদীর ভাঙন এখনও পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য। যে কারণে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে এ উপজেলার মানচিত্র। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে উপজেলার কয়েকটি স্থানে নদী ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এসব স্থানের লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামতের প্রতিশ্রুতি দিলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় দিন দিন ওই সব স্থানের জনসাধারণ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো হলো পানখালী ইউনিয়নের খলিসা স্লুইস গেটের পূর্ব পাশে, ফেরিঘাটের পূর্ব পাশে, খোনা ইটভাটার সামনে। তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বৈদ্যনাথ গাইনের বাড়ির দক্ষিণ পাশে, গোবিন্দ স্কুল ও পুলিশ ফাঁড়ির সামনে, ঝালবুনিয়ার খেয়াঘাটের উত্তর পাশে, বটবুনিয়া শিকারি বাড়ির সামনে। সুতারখালী ইউনিয়নের গুনারী কালীবাড়ি, মন্টু  বৈদ্যের বাড়ির পশ্চিম পাশে, নলিয়ান বাজার ও ফরেস্ট অফিসের সামনে, কালাবগী বাজার সংলগ্ন মোস্তফার বাড়ির সামনে, আবুল মেম্বরের বাড়ির সামনে, কালাবগী শশিভূষণের ডাক্তারের বাড়ির সামনে ও মালেক সাহেবের হ্যাচারির সামনে, সুতারখালী মল্লিক বাড়ির সামনে ও এমপি মাহবুব আলম হানিফের হ্যাচারির সামনে। কামারখোলা ইউনিয়নের জালিয়াখালী, পার জয়নগর বাজার সংলগ্ন, পশ্চিম শ্রীনগর ও কামারখোলা এলাকায়। বাজুয়া ইউনিয়নের চুনকুড়ি খেয়াঘাট ও পোদ্দারগঞ্জ বাজার সংলগ্ন। বানিশান্তা ইউনিয়নের বানিশান্তা বাজার, পূর্ব ঢাংমারী খ্রিস্টান বাড়ি ও ভোজনখালী গেট সংলগ্ন। দাকোপ ইউনিয়নের পোদ্দারগঞ্জ বাজার ও সাহেবের আবাদ লঞ্চঘাট সংলগ্ন এবং কালীনগর খেয়াঘাট সংলগ্ন। কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের রামনগর বাজার ও বুড়ির ডাবর রবি মেম্বরের বাড়ির সামনে। চালনা পৌরসভার নলোপাড়ার পূর্ব পাশে। এ সকল ঝঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর ওয়াপদা ভেড়িবাঁধের এক-তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হলেও মাত্র কয়েকটি স্থানে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের সহায়তায় এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত ও বিকল্প বেড়িবাঁধের কাজ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয় বলে এলাবাসীর অভিযোগ। অতি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলি মেরামত বা বিকল্প মজবুত বেড়িবাঁধ না দিলে আগামী অমাবস্যা বা পূর্ণিমার গোনে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। বটবুনিয়া এলাকার গোপাল চন্দ্র সরদারের ছেলে লাবণ্য সরদার বলেন, নদী ভাঙনে প্রথমে আমার তিন বিঘা জমিসহ বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। পরে একটু ভিতরে বিকল্প বেড়িবাঁধের গায়ে নতুন বাড়ি করেছিলাম, বর্তমানে সেখানেও ভাঙন লেগেছে। আমরা খুব ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। তার মতো যদুবর সরদারসহ আরও অনেকে একই অভিমত ব্যক্ত করেন। দাকোপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আবুল হোসেন জানান, প্রতিনিয়ত ভাঙনে ভেঙে যাচ্ছে আর আমরা নিজেদের এবং কিছু অনুদানের টাকা খরচ করে কোনো রকম বেড়িবাঁধ মেরামত বা বিকল্প বাঁধ দিচ্ছি, তাও যথেষ্ট নয়।


খুলনা'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি