ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৯:৩৩:৫৫ জুন  ২১, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


ঈদবাজারে ক্রেতার ভিড় নেই

শুধুমাত্র পোশাকই নয়, ক্রেতারা একই সঙ্গে প্রসাধনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে আনছে বাইরে থেকে। দেশের ভেতর থেকে কেনার চাইতে খরচ যেমন কম পড়ছে তেমনি একসাথে বেড়ানোর আনন্দও পাওয়া যাচ্ছে

আজ রমজান মাসের ছাব্বিশ তারিখ। অন্য বছর এ সময়ে রাজধানীর দোকানগুলিতে ভিড় সামলানো কঠিন হলেও এবার অবস্থা তার উল্টো। বহু দোকানেই এবার ক্রেতা নেই। যেসব দোকানে ভিড়ের কারণে ঢোকা যেত না, সেসব দোকানে এখন বেশি ক্রেতা চোখে পড়ে না। বিক্রেতারাও বলছেন, এ বছর ব্যবসা তেমন জমজমাট নয়। বিক্রেতারা মনে করছেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির কলকাতায় গিয়ে ঈদ কেনাকাটার প্রবণতাই এই ক্রেতাশূন্যতার কারণ।
কথাটা কিছুটা হলেও সত্য। গত বছর থেকে ঈদের সময় ভারত বিপুল পরিমাণ ভিসা ইস্যু করায় বহু বাংলাদেশি ঈদের কেনাকাটা করার জন্য কলকাতায় চলে যাচ্ছেন। হিসেব করে দেখা যাচ্ছে দশ হাজার টাকার জিনিস কেনাকাটা করলে দেশে না করে কলকাতা যাওয়া ভাল। ক্রেতারা বলছেন, কলকাতার শো-রুমে যত বৈচিত্র্যময় পোষাক পাওয়া যায় ঢাকায় তা পাওয়া যায় না। তাছাড়া ঢাকার দোকানদাররা কেনা দামের চার পাঁচ গুণ বেশি দামে পোশাকের দাম নির্ধারণ করায় ঢাকার দোকানগুলি থেকে পোশাক কেনা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
আগে অবশ্য করার কিছু ছিল না সাধারণ ক্রেতাদের। শুধুমাত্র বিত্তবানরাই দেশের বাইরে থেকে পোশাক আনতে পারত। এখন ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় দেশের চাইতে বিদেশ থেকে পোশাক কেনা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র পোশাকই নয়, ক্রেতারা একই সঙ্গে প্রসাধনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে আনছে বাইরে থেকে। দেশের ভেতর থেকে কেনার চাইতে খরচ যেমন কম পড়ছে তেমনি একসাথে বেড়ানোর আনন্দও পাওয়া যাচ্ছে।
অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, তাদের ব্যবসাজীবনে এমন মন্দা তাদের চোখে পড়েনি। শুধু ঈদে নয়, যেকোনো শুক্রবারও রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়ে হাঁটা কষ্টকর ছিল। অথচ সেখানে এখন তেমন ভিড় নেই। এ অবস্থার জন্য বিক্রেতাদেরই দায়ী করছেন অভিজ্ঞমহল। তারা বলছেন কেনা দামের পাঁচ ছয় গুণ বেশি দামের ট্যাগ লাগিয়ে বসে থাকলে এরকম হবেই। এছাড়া অন লাইনে কেনা কাটার সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই দোকানে যাবার চিন্তা বাদ দিয়ে ঘরে বসে নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করছেন। মোবাইলে দেখে জিনিস পছন্দ করার পর দামদস্তুর সারা হলে জিনিস পৌঁছে যাচ্ছে ঘরের দুয়ারে। হাতে জিনিস পেয়ে দাম দিচ্ছেন ক্রেতারা। গরম এবং ভিড় এড়িয়ে কেনাকাটার এই ব্যবস্থাও বাজারে ভিড় কমার জন্য দায়ী। গত কয়েক বছরে ঢাকার বাইরের শহরগুলিতে বড় বড় শপিং মল গড়ে ওঠাও ক্রেতা কমে যাওয়ার একটা বড় কারণ। আগে ঈদের কেনাকাটার জন্য সবাই ঢাকা আসত। এখন একই পণ্য নিজ নিজ শহরে পাওয়ায় ঢাকা আসতে হয় না ক্রেতাদের।  সব মিলিয়ে ঢাকার দোকানদারদের দিনকাল ভাল যাচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি