ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৯:৩৩:০৩ জুন  ২১, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি

বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে এটি সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং প্রকল্প ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ দুর্নীতি। বিষয়টি বাংলাদেশের জনগণের জন্য দারুণ বিব্রতকর। কারণ সরকার যতই ঢাকঢোল পিটাক না কেন দুর্নীতির তকমা আমাদের ললাট থেকে মুছবে না

বাংলাদেশে এটি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হোক না কেন তা নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে না এবং প্রকল্পের ব্যয় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া এখানে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয় অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রকল্প ব্যয় কয়েকগুণ বেশি। গতকাল শেরে বাংলা নগরস্থ বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের সড়ক নির্মাণে ভারত, চীন ও ইউরোপের চেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ভারতে প্রতি কিলোমিটার ৪ লেন সড়ক নির্মাণে খরচ হচ্ছে ১১ লাখ থেকে ১৩ লাখ ডলার, চীনে ১৩ লাখ থেকে ১৬ লাখ ডলার এবং ইউরোপে খরচ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩৫ লাখ ডলার। অন্যদিকে ঢাকা-মাওয়া ৪ লেন সড়ক নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হচ্ছে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলার, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৭০ লাখ ডলার, রংপুর-হাটিকুমরুল সড়কে ৬৬ লাখ ডলার। সবচেয়ে কম খরচ পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ ৪ লেন সড়কে। সেটিও ইউরোপের খরচের সমান অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ২৫ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্নীতির সূচকের সাথে প্রকল্প ব্যয়ের একটি সম্পর্ক আছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, যেসব দেশ তুলনামূলকভাবে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত সেসব দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশি বিলম্ব হয় এবং প্রকল্প ব্যয়ও বেশি।
বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে এটি সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং প্রকল্প ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ দুর্নীতি। বিষয়টি বাংলাদেশের জনগণের জন্য দারুণ বিব্রতকর। কারণ সরকার যতই ঢাকঢোল পিটাক না কেন দুর্নীতির তকমা আমাদের ললাট থেকে মুছবে না। অতীতে বাংলাদেশ পর পর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেই লজ্জা আমরা এখনো বহন করে চলেছি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিল। তারা বলেছিল দেশ থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু কার্যত দেশ থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলেও দেশে বড় বড় দুর্নীতির ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাও দেশে ঘটেছে।
একটি দেশ যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তবে যে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হোক না কেন সেখানে দুর্নীতি হবেই। যারা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকেন তারা ইচ্ছে করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ বিলম্বিত করেন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করার জন্য। কারণ প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি হলে তাদের সমূহ লাভ। আমরা মনে করি সরকারের পক্ষে একা দুর্নীতি উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। কেননা সরকারের মধ্যেই দুর্নীতিবাজ রয়েছে। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যদি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায় তবে সরকারও বাধ্য হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি