ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২৩:৪৩:৫০ জুন  ২০, ২০১৭ - বিভাগ: খুলনা


২ মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট

খুলনায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যশোরে স্কুল ব্যাগ থেকে তরল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ২টি পৃথক আদালতের বিচার এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অর্থদণ্ডেরও আদেশ দেন আদালত।
খুলনায় ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় প্রাইভেট শিক্ষক ভুপতি কবিরাজকে (২৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমএ রব হাওলাদার এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ভুপতি কবিরাজ ডুমুরিয়া উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামের হিমাংশু কবিরাজের ছেলে। এ মামলার অপর আসামি ডুমুরিয়া উপজেলার পূর্ব বিল পাবলা গ্রামের প্রশান্ত বিশ্বাসের ছেলে টিটু বিশ্বাসকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলার নথির বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, ডুমুরিয়া উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রী প্রাইভেট শিক্ষক ভুপতির বাড়িতে পড়তে যেতো। ২০১১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে ভুপতি ধর্ষণ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখেন। ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিক বার ধর্ষণ করে। এ ঘটনা ছাত্রী তার মাকে জানালে ২০১২ সালের ১৯ আগস্ট  ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে ভুপতি ও টিটু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ওই বছরের ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিশিকান্ত সরকার আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ভুপতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
এদিকে, যশোরে স্কুল ব্যাগ থেকে চার লিটার তরল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় জাকির হোসেন ওরফে জনি (৩৬) নামে একজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে যশোরের স্পেশাল জজ (জেলা জজ) ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাইচন্দ্র সাহা এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন চৌগাছা উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে। যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসএম বদরুজ্জামান পলাশ বলেন, ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা যশোর-চৌগাছা সড়কের মান্দারতলায় একটি যাত্রীবাহী বাসে (পিরোজপুর জ-১১-০০১৬) অভিযান চালিয়ে জাকিরকে আটক করে। এ সময় তার কাছে থাকা স্কুলব্যাগ তল্লাশি করে পলিথিনে থাকা প্রায় চার লিটার ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের এসআই হেমায়েত হোসেন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তকারী এসআই শাহ দারা খান জাকিরকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ১৬ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দেন। আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণে জাকির দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক জাকিরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ জরিমানা টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন। তবে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জাকির বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।


খুলনা'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি