ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
২৩:৩৬:৩৬ জুন  ২০, ২০১৭ - বিভাগ: খুলনা


পাল্টেছে গ্রামীণ জীবনযাত্রা

খুলনা প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ সংযোগে পাল্টে দিয়েছে গ্রামীণ জীবনযাত্রা। এলাকার ঘরে ঘরে বৈদ্যুতিক সংযোগ এলাকাবাসীর জীবনধারা বদলে দিয়েছে এবং তা গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বলে জানান বাটিয়াঘাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক বাসুদেব মণ্ডল। বাটিয়াঘাটা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বাসব নন্দী (২০) এখন প্রতিদিনের হোম ওয়ার্ক শেষ করেই কলেজে যেতে পারেন। তিন মাস আগে তার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রাই বদলে গেছে। এজন্য সে খুব খুশী। জেলার বাটিয়াঘাটা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঝড়ভাঙা গ্রামের বাসিন্দা বাসবের বাবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী একজন ক্ষুদ্র চাষি। বাসব বলেন, আমার এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্ততি নিয়ে আমি সত্যিই খুব চিন্তিত ছিলাম। কারণ, আমার বাবা যা আয় করেন তা দিয়ে আমার পড়ালেখার জন্য কেরোসিন কেনার সামর্থ্য তার নেই। কিন্তু তিন মাস আগে সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচির অংশ হিসেবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় শুধু আমার পরিবার নয়, পুরো গ্রামের চিত্রই বদলে গেছে। বাসবের মতো এই এলাকার ক্ষুদ্র চাষিরাও বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে খুশী। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় তারা এখন কম খরচে জমি সেচের পাশাপাশি টেলিভিশন দেখা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক সুবিধা ব্যবহার করতে পারছেন। হাটবাটিয়া গ্রামের কৃষক প্রহ্লাদ চন্দ্র জোয়ার্দার (৬৫) বলেন, আগে আমাদের ফসল বোনার জন্য বৃষ্টির পানির জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিল না। বৃষ্টির ভরসায় থেকে যথাসময়ে সেচ ও ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। আশানুরূপ ফসল ফলানোও ছিল কঠিন। কিন্তু এখন জোয়ার্দারের মতো শত শত কৃষক সেচের জন্য পানির পাম্প ব্যবহার করতে পারছেন। যথাসময়ে ফসল চাষ শুরু করায় একই পরিমাণ জমিতে উৎপাদনও বেড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাত ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পল্লী বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। বাকি ৮ হাজার পরিবার ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাঈদ হোসেন বলেন, বিদ্যুতের সরবরাহ ভালো থাকায় এই এলাকায় লোড শেডিং নেই। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রাখায় সমিতি এখনও লোকসানে রয়েছে। তিনি বলেন, পিডিপি’র কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৪.৫১ টাকা দরে কিনে ৩.৮১ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এ কারণে ১১.৫৪ শতাংশ সিস্টেমলস রয়েছে। উপজেলার কিসমত ফুলতলা, গাগমারি এবং হাটবাটি এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার জরাজীর্ণ অনেক ঘরেই চলছে টেলিভিশন। অনেক বাড়িতেই বৈদ্যুতিক পাখা, ফ্রিজ, রাইস কুকার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। মো. আলী, লুৎফর রহমান, শংকর মণ্ডলসহ অনেক গ্রামবাসী বিদ্যুৎ সংযোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় আগে আমরা টেলিভিশন দেখতে পেতাম না। বিদ্যুৎ সংযোগ তাদের জীবনে বিনোদনের ব্যবস্থাও করেছে।


খুলনা'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি