ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২৩:২৬:১০ জুন  ২০, ২০১৭ - বিভাগ: বাংলাদেশ


শাপলার রাজ্যে একদিন

Image

ডেস্ক রিপোর্ট

বিলের জলে শাপলা হাসে। বিল রূপ নিয়েছে শাপলার রাজ্যে। বিলে ফুটে থাকে অজস্র শাপলা। লতাপাতা-গুল্মে ভরা বিলের পানিতে ফুটে আছে হাজারো লাল শাপলা। বিলে ফুটে থাকে অজস্র লাল শাপলা। লতা-পাতা-গুল্মে ভরা বিলের পানিতে শত-হাজারো লাল শাপলা হার মানায় ভোরের সূর্যের আলোকেও। সবুজ পাতার আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে বিস্তীর্ণ জলরাশি। ভোরের আলোয় শাপলার হাসি আরও আলোকিত করে দেয় বিলগুলোকে। প্রকৃতি তার নিজ হাতে লাল শাপলার হাসিতে সাজিয়ে দিয়েছে বিলগুলোকে। বেড়াতে আসা যেকোনো ভ্রমণপিপাসুদের মনের দুয়ার খুলে দেবে এই শাপলা বিল। সিলেটের বিলগুলোও কিন্তু বেশ নামকরা। জৈন্তাপুর সেরকমই একটি জায়গা। জৈন্তরাজ্যের রাজা রাম সিংহের স্মৃতিবিজড়িত ডিবির হাওর, ইয়াম, হরফকাটা কেন্দ্রী বিলসহ রয়েছে চারটি বিল। বিলগুলোকে কেন্দ্র করেই নাম করা হয়েছে ডিবির হাওর। চারটি বিলের অবস্থান আবার যেখানে সেখানে নয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে। রাম সিংহের বিলগুলো এখন রূপ নিয়েছে শাপলার রাজ্যে। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উত্তর-পূর্বদিকে পাশাপাশি চারটি বিল। সেখানে দেখা মিলবে চোখজুড়ানো এমন দৃশ্যের। সিলেট শহর থেকে ৪২ কিলোমিটারের যাত্রাপথ। আগেই বলে রাখা ভালো, শাপলার পরিপূর্ণ হাসি দেখতে ভ্রমণপিপাসুদের পৌঁছাতে হবে ভোরে। সূর্যের আলো ফোটার আগেই ফুটন্ত শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।
শাপলার রাজ্য। চার বিলের মধ্যখানে মেঠোপথ। বিলের সামনেই এলাকাবাসীর বসবাস। ভোরের সূর্যের আলোয় চিকচিক করে হাসছে লাল শাপলা। মেঘালয় পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে আছে কুয়াশা। আকাশের বুকে উড়ছে অতিথি পাখি। লাল শাপলার বিলে এই সময়ে আসতে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। পাখির কলতানে মুখর থাকে বিলগুলো। পূর্ব আকাশে সূর্যের আলোকেও হার মানায় বিলের শতসহস্র রক্তিম লাল শাপলা। রাতের øিগ্ধতায় ফুটে থাকা লাল শাপলা দিনের আলোয় পাপড়ি দিয়ে অনেকটা লুকিয়ে রাখে নিজেকে। বিলের পাশে মেঘালয়, পাহাড়ের নিচে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। হরফকাটা ও ডিবি বিলের মধ্যে রয়েছে রাজা রাম সিংহের সমাধিস্থল। দূর পাহাড়ে দেখা মিলবে খাসিয়াদের পান-সুপারির বাগান। প্রকৃতির বুকে শিল্পীর তুলিতে আঁকা এ যেন এক নকশিকাঁথা।
কীভাবে যাবেন: সিলেট থেকে সরাসরি সিলেট-তামাবিল সড়কপথে বাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা প্রাইভেট কারে আসতে হবে জৈন্তাপুরে। জৈন্তাপুর বাজার থেকে কিছ দূর গেলেই সড়কের ডান দিকে দেখা যাবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্প। ক্যাম্পের পাশ দিয়ে কাঁচা সড়কে এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাবেন শাপলা বিলে। নৌকার ভাড়া নেবে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। সারা দিনের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নেবে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। কাছাকাছি কোনো রেস্টুরেন্ট না থাকায় সাথে শুকনো খাবার রাখতে পারেন। তবে খাবার শেষে পলিথিন ব্যাগ বা অন্য কিছু হাওরে ফেলবেন না।


বাংলাদেশ'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি