ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২১:০৯:৫৩ জুন  ২০, ২০১৭ - বিভাগ: বরিশাল


বরগুনায় রাস্তা উন্নয়নের কাজ শেষের পথে

শাহ্ আলী, বরগুনা

‘আমি কোনোদিন হপ্পোনেও দেহি নাই যে, মোগো এলাকায় রাস্তা পামু। এতদিন মোরা আডু হোমান পানি ভাইঙ্গা আটছি। এ্যাহোন মোরা পানি ছাড়াই রাস্তা দিয়া টনটনাইয়া আটতে আছি। মোগো জীবনডাই আছেলে পানি কাদায়। আইজ রাস্তা পাইয়া রাস্তা না থাহার যে কি জ্বালা হেইডা মোরা সবাই বোজদে হারছি। এই রাস্তা পাইয়া যে এত খুশি অইছি হ্যা আপনাদের বুঝাইতে পারমুনা’ ফোঁকলা দাঁত বের করে একগাল হেসে পরম খুশিতে কথাগুলো বললেন, ঢলুয়া ইউনিয়নের রায়ভোগ গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া। সদর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময় শর্ত সাপেক্ষে বরগুনা সদর উপজেলায় ৭নং ঢলুয়া ইউনিয়নে ৮টি প্রকল্পে সর্বমোট ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮৬ টাকা বরাদ্দ হয়। এ সকল রাস্তার কাজ প্রায় শেষের পথে। জানা যায়, বিগত দিনে ঢলুয়া ইউনিয়নের এ রাস্তাগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মাটি ধুয়ে এবং সংস্কারের অভাবে শস্যক্ষেতের সাথে মিলেমিশে প্রায় একাকার হয়ে যায়। এর দরুন বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তাগুলো পানিতে প্রায় ডুবে থাকে। তাই এই ডুবে থাকা রাস্তা দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। ফলে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন রাস্তায় এলাকার শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে যাচ্ছে। লেবার সর্দার দেলোয়ার হোসেন জানান, আমার আওতাধীন প্রায় ৩০০ শ্রমিক প্রতিদিন ৮টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নিয়মিত কাজ করছে। ৫টি রাস্তার কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। বাকি ৩টির কাজও প্রায় শেষের পথে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে যদি শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করা হতো তাহলে তারা আরও বিপুল উদ্যমে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই কাজ শেষ করতে পারত। এলাকার বাবুল মল্লিক জানান, এই রাস্তা সংস্কার হয়ে আমরা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছি। বিগত দিনে বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা দিয়ে কাপড় উপরে তুলে চলাচল করতে হতো। এখন আর তার দরকার হয় না। রাস্তার কাজ খুব ভালো হয়েছে। এই সরকারের উন্নয়নে হাজার ছালাম।  রায়ভোগ মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী রিনা জানান, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আমরা মাদরাসায় যাতায়াত করি। বিগত দিনে বিশেষ করে বর্ষার দুই তিন মাস মাদরাসায় যেতে পারতাম না, কারণ রাস্তা পানিতে ডুবে থাকত।


বরিশাল'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি