ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৯:৪০:৩৭ জুন  ২০, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


সংসদে অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা

শেখ সেলিম তার বক্তব্যে অর্থমন্ত্রীকে একগুঁয়েমি বন্ধ করে কম কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদের ৩৫০ জন প্রতিনিধি ঠিক করবেন জনগণের কল্যাণে কোনটা থাকবে, কোনটা থাকবে না

জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত খুব বিপদে আছেন। প্রধান বিরোধী দল তো বটেই, খোদ সরকারি দলের নেতারাও তার বিরুদ্ধে সমালোচনার তীর নিক্ষেপ করছেন। এই বাজেটকে অনেকে নির্বাচনী বাজেট বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এটি মোটেই নির্বাচনী বাজেট নয়- এ মন্তব্য সরকারি দলের অনেক নেতার। তাদের এ মন্তব্যের পেছনে যুক্তি হলো, এটি যদি নির্বাচনী বাজেট হতো তবে বাজেটে ব্যাংকে আমানতের ওপর বাড়তি আবগারি শুল্ক আরোপ, ঢালাওভাবে ১৫% ভ্যাট আরোপ এবং সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর কথা থাকত না। আমরা এ যুক্তির সঙ্গে একমত। বাজেট পেশ হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঢালাওভাবে ১৫% ভ্যাট আরোপের ফলে সকল পণ্যের দাম যে বেড়ে যাবে তার আলামত আমরা এখন থেকেই দেখতে পাচ্ছি। বাজেট পাস না হতেই সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ব্যাংকে আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপের ফলে আমানতকারীরা যে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের একমাত্র আয়ের উৎস সঞ্চয়পত্রের সুদ, তারা সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন। এসব কারণে এবারের বাজেটের বিরুদ্ধে মানুষের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ক্ষোভ এখন সঞ্চারিত হয়েছে সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও নেতাদের মধ্যে। গত সোমবার জাতীয় সংসদে কড়া ভাষায় অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও আরো ১০ জন সংসদ সদস্য বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। গত সোমবার পর্যন্ত বাজেট অধিবেশনে ১২৬ জন সংসদ সদস্য আবগারি শুল্ক ও ভ্যাটের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। শেখ সেলিম তার বক্তব্যে অর্থমন্ত্রীকে একগুঁয়েমি বন্ধ করে কম কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদের ৩৫০ জন প্রতিনিধি ঠিক করবেন জনগণের কল্যাণে কোনটা থাকবে, কোনটা থাকবে না। মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, হল-মার্কের ৪ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পর অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন এ টাকা কোনো টাকা নয়। তাহলে আবগারি শুল্কের সামান্য টাকার জন্য সারা দেশের মানুষের মধ্যে তিনি কেন আক্ষেপ তৈরি করলেন।
সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক নিয়ে অর্থমন্ত্রীর যে সমালোচনা করেছেন আমরা তাকে যৌক্তিক মনে করি। আমরা আশা করি, জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বাড়তি ভ্যাট ও ব্যাংকে আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার এবং সঞ্চয়পত্রের সুদ না কমানোর জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ না হলে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হবে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি