ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৯:৩৮:৫২ জুন  ২০, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


শৃঙ্খলা থাকলেই মহাসড়কগুলো নিরাপদ থাকবে

আর দু’এক দিনের মধ্যে সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে ঘরে ফেরা মানুষের আরো বেশি ঢল নামবে। তখন আরো বেশি যানবাহন সড়ক-মহাসড়কগুলোতে নামবে। এর চেয়েও বেশি ব্যস্ততার সৃষ্টি হবে

এ সপ্তাহেই বেড়ে গেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। একদিকে বাড়তি মানুষের চাপের মুখে বাস মালিকরা বেশ কিছু বাড়তি বাস সড়কে নামিয়েছে। একইসাথে দেশে কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে, এতে করে দেশের বিভিন্ন সড়কে কোথাও কোথাও জল জমেছে। তাতে যান চলাচলে এসেছে ধীরগতি। তা ছাড়াও বেশ কিছু মালামাল-বোঝাই ট্রাক সড়কে নেমেছে। এতে সব মিলিয়ে দেশের আন্তঃজেলা সড়ক, মহাসড়কগুলোর ওপর চাপ পড়েছে। কোথাও কোথাও মহাসড়কগুলোর দুর্বল অংশে পানি জমে বা যানবাহনের প্রবল চাপে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেরিয়ে যাওয়ার সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গত পরশু থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল. ঢাকা-সিলেট মহসড়কের অনেক স্থানে, ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের বেশ কিছু স্থানে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। যাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অস্বস্তি ও বিরক্তির।
গত পরশু ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটারব্যাপী ছিল যানজট। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও ১৫ কিলোমিটারব্যাপী যানজট ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও দেখা গেছে ২০ কিলোমিটারব্যাপী তীব্র যানজট। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কও এ থেকে বাদ ছিল না। এসব মহাসড়কের কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানির ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য অনেক স্থানেই সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এসব স্থানে যানবাহনগুলোকে ধীরে চলতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও মহাসড়কেই যানবাহন বিকল হয়ে পড়তে দেখা গেছে। দায়িত্বে নিয়োজিত হাইওয়ে পেট্রোল পুলিশ বলছে, এসব যানবাহন মহাসড়ক থেকে সরাতে প্রয়োজনীয় রেকার তাদের হাতে নেই।
আর দু’এক দিনের মধ্যে সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে ঘরে ফেরা মানুষের আরো বেশি ঢল নামবে। তখন আরো বেশি যানবাহন সড়ক-মহাসড়কগুলোতে নামবে। এর চেয়েও বেশি ব্যস্ততার সৃষ্টি হবে। আরো বেশি মালামাল নিয়ে ট্রাকবহর এর সাথে যুক্ত হবে। হয়ত বৃষ্টির পরিমাণও বাড়তে পারে। এ কারণে আমাদের আগে থেকে আরো সাবধান হওয়া উচিত।
গত বছর সরকার দেশের অধিকাংশ হাইওয়ের মোড়ে মোড়ে স্কাউট, আনসারের পাহারা দেবার ব্যবস্থা করেছিল। এতে করে হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত স্থানীয় বিভিন্ন মোড়ের যানজট কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হয়েছিল। এবারেও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। হাইওয়ে টহল পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। কোথাও হাইওয়েতে কোন যান বিকল হলে বা জটলার সৃষ্টি হলে তা তাড়াতাড়ি সরিয়ে নেয়ার জন্য আনসার বা পুলিশকে সদা তৎপর থাকতে হবে। মহাসড়কগুলোর কোন মোড়ে সড়কের ওপর কোন গাড়িকে দাঁড়িয়ে থাকার অনুমতি দেয়া যাবে না। আমাদের বিশ্বাস সুশৃঙ্খলভাবে যদি যানবাহনগুলো ঠিকমতো আইন মেনে চলে তাহলে সামান্য বিলম্ব হলেও কোন অতিরিক্ত ভোগান্তি হবে না ঘরে ফেরা মানুষের। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেশের মহাসড়কগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি