ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২১:৫২:৪৩ জুন  ১৯, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


পুলিশকে আইনের আওতায় আনা জরুরি

যেহেতু তারা পুলিশের পোশাক পরে থাকে তাই তারা যে কোন সময় সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত বলে পার পাবার সুযোগ পায়। তাছাড়াও তাদের হাতে মারণাস্ত্র থাকার কারণে জনগণ জীবনের ভয়ে তাদের সাথে জোর  দেখাতে সাহস পায় না


ই দানিং কিছু পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভীতি প্রদর্শন ও ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ আসছে। তারা জোর করে মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে থানায় আটক, অত্যাচার ও মামলা দেবার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। সম্প্রতি যশোরে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের সাধারণ নিরীহ জনগণের ওপর অত্যাচার, ভীতি প্রদর্শন ও টাকা আদয়ের ঘটনা খুব বেড়ে গেছে। অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ ১২ জন পুলিশ সদস্যকে হাতেনাতে ধরে থানায় সোপর্দ করে। ভূক্তভোগী মানুষের পক্ষে টিআইবি বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক কমিটি যশোরের সহসভাপতি এ নিয়ে অভিযোগও করেছেন। এমনকি যশোর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের প্রকাশিত বক্তব্যেও এসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, যশোরে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করার ঘটনায় ২১৮ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কিন্তু এর পরও তাদের অপকর্ম থেমে নেই। গত শনিবার সদর উপজেলার বারীনগর বাজারে কোতোয়ালী থানার কনস্টেবল এক ব্যবসায়ীর পকেটে জোর করে ইয়াবা ঢুকিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। তার চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে কনস্টেবল সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশকে আটক করলে পরে ফাঁড়ি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় ঐ ব্যবসায়ীকেও আসামী করা হয়। এ ছাড়াও সম্প্রতি শার্শা উপজেলার হাতেম আলীকে ডিবির পরিচয়ে কয়েকজন বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। গত ১১ জুন মনিরামপুর প্রেসক্লাবে ঝুমুর নামের এক নারী সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ করেন, তাকে ও তার শ্বশুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় কোতোয়ালী থানার এসআই আসাদ ও দেবাশীষ। তারা তিন লাখ টাকা দাবী করে। এক লাখ টাকা দিয়ে তিনি ও তার শ্বশুর ছাড়া পান। এরপর সড়কে তাদের কিস্তিতে কেনা ট্রাকটি আটক করলে লোকজনের বাধার মুখে পুলিশ কর্মকর্তা তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
যেহেতু তারা পুলিশের পোশাক পরে থাকে তাই তারা যে কোন সময় সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত বলে পার পাবার সুযোগ পায়। তাছাড়াও তাদের হাতে মারণাস্ত্র থাকার কারণে জনগণ জীবনের ভয়ে তাদের সাথে জোর  দেখাতে সাহস পায় না। এ সুযোগে তারা ইদানিং বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিজেদের আর্থিক লাভালাভের জন্য বেআইনী কোন কাজ করতেও দ্বিধা করে না। যে কোন সময় সাধারণের ওপর চড়াও হয়ে বসে। সরকারকে এ অবস্থা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে হবে এবং পুলিশ প্রশাসনকে সংযত করতে হবে।
সরকার যদি পুলিশ প্রশাসনকে সংযত করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সরকারকেই পুলিশের এসব কাজের দায় বহন করতে হবে।



সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি