ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২১:৫২:০৫ জুন  ১৯, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়



বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা ন্যক্কারজনক

দেশে যখন এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে তখন এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত দেশকে অশান্ত করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত রবিবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে




দে শের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ কিছুদিন থেকেই স্থিতিশীল। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে হরতাল-অবরোধ আর যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো ধ্বংসাÍক কর্মসূচি নেই। সবচেয়ে বড় কথা দেশের দুটি বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এখন আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, দেশে নির্বাচনের আগে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি হবে না। দেশে যখন এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে তখন এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত দেশকে অশান্ত করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত রবিবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ত্রাণ দিতে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে যখন রাঙামাটি যাচ্ছিলেন তখন ৫০/৬০ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গাড়িবহরে হামলা করে। তারা ৬/৭টি গাড়ি ভাংচুর করে। তাদের হামলায় মির্জা ফখরুল, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শামীমসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা এই হামলার পেছনে  আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের হাত রয়েছে বলে দাবি করেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হামলাকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে।
বিএনপির মহাসচিবসহ দলের অন্যান্য নেতারা এক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাঙামাটি যাচ্ছিলেন। অথচ তাদের গাড়িবহরে হামলা করা হলো। এই হামলার পেছনে কারা ছিলেন তা আমরা জানি না। আমরা বিশ্বাস করি, সরকারি দল আওয়ামী লীগের ওপর মহলের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়নি। কারণ এ ধরনের হামলায় আওয়ামী লীগের কোনো লাভ নেই, বরং ক্ষতি। তবে যেহেতু এই হামলা বিএনপির নেতাদের ওপর চালানো হয়েছে, মানুষ বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে আওয়ামী লীগের ইন্ধনেই এই হামলা। আমরা আশা করি, সরকার এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেবে।
আমরা আবারো বলছি, দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যই বিএনপির নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে অতর্কিতে পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালায় এবং অফিস ভাংচুর করে। এটাও ছিল দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি ষড়যন্ত্র। এইসব ষড়যন্ত্রের পেছনে কোন কুচক্রীমহল জড়িত তাদের মুখোশ উšে§াচন করা জরুরি। নতুবা সরকারকেই এর দায়ভার বহন করতে হবে। আমরা বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি