ঢাকা, বুধবার ১৮ অক্টোবর ২০১৭  ,
২৩:৫২:৪৬ জুন  ১৮, ২০১৭ - বিভাগ: শিক্ষা


অর্থনীতি
নবম ও দশম শ্রেণি

Image

সময়ের শিক্ষা ডেস্ক

যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দরকার দক্ষ জনশক্তি। নবম অধ্যায়: বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ-অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: ১। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে কী বোঝো? উত্তর: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে একটি দেশের দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনের পরিমাণগত বৃদ্ধিকে বোঝায়। সাধারণত কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা মোট জাতীয় আয়ের অব্যাহত বৃদ্ধির প্রক্রিয়া দ্বারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পরিমাপ করা হয়। ২। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে কী বোঝো? উত্তর: অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে অর্থনীতির সামগ্রিক পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের মাথাপিছু আয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধিকে বোঝায়। অতএব, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধিই যথেষ্ট। আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে বুঝতে হবে প্রবৃদ্ধির সাথে অর্থনৈতিক অবস্থার গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এ জন্য লেখা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন = অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি + অর্থনীতির গুণগত পরিবর্তন। ৩। উন্নত দেশের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। উত্তর: উন্নত দেশের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ: ক) মূলধন গঠন অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি প্রাথমিক শর্ত। উন্নত দেশ এ শর্ত পূরণ করে। অর্থনীতিতে সঞ্চয় বৃদ্ধির দ্বারা মূলধন গঠন করা হয়। এই সঞ্চয় বিনিয়োগ করা হয়। খ) যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি একান্ত প্রয়োজন। কোনো দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ইত্যাদি পর্যাপ্ত থাকলেও যদি দক্ষ জনশক্তি না থাকে, তাহলে সে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয় না। উন্নত দেশ দক্ষ জনশক্তি গঠনে বিশেষ নজর রাখে। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়। ৪। অনুন্নত দেশের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। উত্তর: অনুন্নত দেশের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ: ক) অনুন্নত দেশের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক হওয়ায় ছদ্মবেশী ও মৌসুমি বেকারত্ব প্রকটভাবে পরিলক্ষিত হয়। খ) অনুন্নত দেশে মাথাপিছু আয় ও সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কম হয়। ৫। উন্নয়নশীল দেশের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। উত্তর: উন্নয়নশীল দেশের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ: ক) উন্নয়নশীল দেশে প্রতিবছর রপ্তানির মাধ্যমে যে পরিমাণ আয় আসে তার চেয়ে অনেক বেশি আমদানির মাধ্যমে ব্যয় হয়। ফলে এ দেশকে প্রতিবছর বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয়। খ) উন্নয়নশীল দেশে পণ্যসামগ্রী বেশির ভাগই কৃষি থেকে প্রাপ্ত। এসব পণ্যের মূল্যের উত্থান-পতন হয় বেশি। পণ্যের মূল্য উত্থান-পতন হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তার অভাবে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ৬। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দুটি অন্তরায় লেখো। উত্তর: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দুটি অন্তরায় নিম্নরূপ: ক) বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার দেশ। উৎপাদন ও কর্মক্ষেত্রে এই জনসংখ্যা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জাতীয় সঞ্চয়ের বড় অংশ এই জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় হয় বিধায় উন্নয়নে বাধা হিসাবে কাজ করছে। খ) বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম অন্তরায় দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র। অধ্যাপক নার্কসের মতে, একটি দেশ গরিব, কারণ সে দেশ দরিদ্র। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র হলো উৎপাদন কম, আয় কম, চাহিদা ও সঞ্চয় কম, বিনিয়োগ কম ও মূলধন গঠন কম। ৭। বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা কী? উত্তর: বেসরকারি সংস্থাগুলো মূলত বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য কাজ করে থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় এদের কার্যক্রমে আরও ব্যাপ্তি ও গতি লাভ করে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান (এনজিও) ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। দারিদ্র্য দূরীকরণে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট এনজিও কাজ করছে। বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান এনজিও হচ্ছে ব্র্যাক, আশা, প্রশিকা, শক্তি ফাউন্ডেশন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ, টিএমএসএস, কারিতাস, সোসাইটি ফর সোশাল সার্ভিস ও বাংলাদেশ ব্যুরো। ৮। ব্র্যাক কী? উত্তর: ব্র্যাকের পূর্ণরূপ হচ্ছে বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি। এটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থা। সংস্থাটি দেশের ৭০ হাজার গ্রাম এবং ২০০০ বস্তিতে কাজ করে থাকে। সংস্থাটি ঋণদান কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, অতি দরিদ্র, চরবাসী, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে। ক্ষুদ্রঋণের সুবিধাভোগী ৮০,৫৪,৪১৫ জনের মধ্যে মহিলার সংখ্যা ৭৬,১৪,৩২৬ জন। ৯। স্বনির্ভর বাংলাদেশ কী? উত্তর: স্বনির্ভর বাংলাদেশের আÍপ্রকাশ ১৯৭৫ সালে। শুরুতে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সংযুক্ত সেল হিসেবে কাজ করে। বেসরকারি সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থা হিসেবে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ শুরু করে ১৯৮৫ সালে। আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সব রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং পিকেএসএফের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় শুরু থেকে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত ১,০৪,৪৬১ কোটি টাকা ১৬,০৬,১৪৪ জন বিত্তহীন ঋণ গ্রহীতাকে ঋণ হিসেবে বিতরণ করেছে এবং ঋণ আদায় হয়েছে ৮৪,২৫৬ কোটি টাকা। এতে প্রায় ৮০,৩০,৭২০ জন লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়। ১০। প্রশিকা কী? উত্তর: প্রশিকা বাংলাদেশের একটি অন্যতম বেসরকারি সংস্থা। ১৯৭৫ সালে ঢাকা ও কুমিল্লা জেলার কয়েকটি গ্রামে কাজ শুরু করে। প্রশিকা সমিতির সদস্যদের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির আওতায় পরিবেশসম্মত কৃষি, সেচ, পশু সম্পদ বৃদ্ধি, মৌমাছি পালন, মৎস্য চাষ, সামাজিক বনায়ন, বসতবাড়িতে বাগান, বীজ উৎপাদন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি খাতে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত ৪,৪৯৫ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দিয়ে এক কোটি ২৩ লাখ মানুষের জন্য আয় ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। ১১। আশা কী? উত্তর: আশা বাংলাদেশের একটি অন্যতম বেসরকারি সংস্থা। ১৯৯২ সাল থেকে এটি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। ক্ষুদ্রঋণদানকারী সংস্থার মধ্যে আশা হচ্ছে সর্বনিম্ন ব্যয়ে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের একমাত্র সংস্থা। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের শেষ নাগাদ আশা বাংলাদেশে ৪১,১২১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে এবং ৩৭,৪৭৯ কোটি টাকা আদায় করে। ১২। শক্তি ফাউন্ডেশন কী? উত্তর: শক্তি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের একটি অন্যতম বেসরকারি সংস্থা। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা, বগুড়া, রাজশাহীসহ অন্য বড় বড় শহরের বস্তির দুস্থ মহিলাদের এ সংস্থা ঋণ প্রদান করে। এ ছাড়া এসব মহিলার স্বাস্থ্য, ব্যবসা ও সামাজিক উন্নয়নেও সংস্থাটি কাজ করে থাকে। জুন ২০১০ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করে ৫১৩.৮৯ কোটি টাকা এবং আদায় করে ৪১৩.৯৬ কোটি টাকা। ১৩। টিএমএসএস কী? উত্তর: টিএমএসএসের পূর্ণরূপ হচ্ছে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ। এ সংস্থা বাংলাদেশের নারী উন্নয়নের বড় সংগঠন। এই সংগঠন মহিলাদের দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মহিলাদের ক্ষমতায়নে ১৯৮০ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের অশিক্ষিত, বঞ্চিত ও অত্যাচারিত এবং ০.৫ একর পর্যন্ত জমির মালিকরা এ সংস্থার সদস্য। জুন ২০১০ পর্যন্ত এ সংস্থা বিতরণ করে ৩৮৮৮.০২ কোটি টাকা এবং আদায় করে ৩৪৫৭.০৮ কোটি টাকা। ১৪। এসএসএস কী? উত্তর: এসএসএসের পূর্ণরূপ হচ্ছে সোসাইটি ফর সোশাল সার্ভিসেস। সমাজের দরিদ্র, অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের দারিদ্র্য বিমোচন, অধিকার আদায় ও তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিসহ সমন্বিত সেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে ১৯৮৬ সালে এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। সমাজের দরিদ্র, অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের দারিদ্র্য বিমোচন, অধিকার আদায় ও তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন করাই এ সংস্থার লক্ষ্য।


শিক্ষা 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি