ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুন ২০১৭  ,
২৩:৪৪:০৬ জুন  ১৮, ২০১৭ - বিভাগ: জাতীয়


বাস টার্মিনালে চলছে চাঁদাবাজি

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক

সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্র
নির্বিকার প্রশাসন

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর তিনটি বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনটি মালিক সমিতি ও দুটো শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিটির একাধিক কমিটির নামে এই চাঁদাবাজি চলছে। দিন-রাত চাঁদা আদায়ের কাজটি করে থাকে লাঠি বাহিনী, যানজট বাহিনী ও লাইন বাহিনী। চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি ২০ লাখ পরিবহন শ্রমিক। সরেজমিনে অনুসন্ধান এবং বাস মালিক, চালক ও চাঁদা আদায়কারীদের সাথে কথা বলে সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির এ তথ্য পাওয়া গেছে। জানা যায়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ কয়েকটি সংগঠনের নামে চলছে এই চাঁদাবাজি। আর এসব কমিটি নিয়ে চলছে মামলা-মোকদ্দমা।
এছাড়া টোলের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ফাঁড়ির সামনেই প্রকাশ্য এই চাঁদাবাজি বন্ধে নির্বিকার পুলিশ। অভিযোগ আছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মনোনীত ইজারাদার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সহায়তায় চলছে এই চাঁদা আদায়।
স্থানীয় এমপির ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাকে কেউ কিছু বলছে না। গাবতলী বাস টার্মিনালে এই হাতাহাতির দৃশ্য প্রতিদিনের। দাবি করা টাকা না দিলেই যাত্রীদের ওপর চড়াও হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা। টার্মিনালে বাস থেকে মালামাল নামানোর সাথে সাথেই টোলের নামে চাঁদা আদায়ে যাত্রীর সামনে হাজির চাঁদাবাজরা। টার্গেট বাসপ্রতি অন্তত পাঁচশ টাকা আদায়। সে হিসাবে দিনশেষে শুধু যাত্রীদের কাছ থেকেই তোলা হয় কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার টাকা।এ হয়রানির শিকার সিএনজি চালকরাও। সংঘবদ্ধ এ চক্রের সর্দার আসাদ, মফিজ, কাওছার, সাগর, শামিমসহ অন্তত ১০ জন। তাদের সবার অধীনে চাঁদা আদায়কারী আছে আট থেকে ১০ জন করে। ২০০৯ সালে গাবতলী টার্মিনালে রাজস্ব আদায়ের সহযোগিতাকারী হিসেবে মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে মনোনয়ন দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ইজারার শর্তনামা বলছে, বাস, ভ্যান, লেগুনা, ঠেলাগাড়ী ও সিএনজি অটো থেকে টোল আদায় করা যাবে রশিদের মাধ্যমে। এর বাইরে, রাজস্ব আদায়ের এখতিয়ার নেই। তবে এসব শর্তের ধার ধারেন না ইজারাদার জসিম উদ্দিন। কার্যালয়ে চাঁদাবাজদের নিয়েই বৈঠক করতে দেখা গেছে তাকে। এ নিয়ে কথা বলতেও জানালেন অস্বীকৃতি। এদিকে, ফাঁড়ির সামনেই প্রকাশ্য এই চাঁদাবাজিতে নির্বিকার পুলিশ। অভিযোগ আছে, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ইজারাদার জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি নিয়ন্ত্রণ করছে চাঁদাবাজি। বড় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রভাবশালী নেতা চাঁদাবাজিতে উৎসাহ জোগান বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রম আইনে শুধু সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু এরশাদ আমল থেকে টার্মিনালে মাস্তান নামিয়ে অবাধে চাঁদাবাজি শুরু হয়। আড়াই দশকে শুধু কয়েকটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ চাঁদাবাজি বন্ধ বা কম ছিল। ঢাকা-নোয়াখালী রুটে চলাচলরত একটি মিনিবাসের চালক বাবুল হোসেন জানান, সায়েদাবাদ টার্মিনালে ৭০ টাকার একটি স্লিপ দিয়ে তার কাছ থেকে ৫৫০ টাকা চাঁদা নিয়েছে একটি বাহিনীর লোকজন। বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা সমিতির (নিবন্ধন-২২৭) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, টার্মিনালে একসাথে কয়েকটি সংগঠন অর্থ তুলছে। শ্রমিকদের কাছ থেকে এই অর্থ তুলে কী কাজে লাগানো হচ্ছে তা আমরা জানতে পারছি না। আমাদের তো এসবের বিরুদ্ধে কথা বলার শক্তি নাই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক বলেন, টার্মিনালে চাঁদাবাজি বন্ধে তৎপর রয়েছে পুলিশ। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক দাবিদার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমরা যে অর্থ তুলছি তা পরিবহন খাতের উন্নয়নেই ব্যয় করা হচ্ছে। সরকার আমাদেরকে সমিতির নামে অর্থ তোলার জন্য হার নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য এ ধরনের অর্থ তোলা হচ্ছে। এটা চাঁদাবাজি নয়। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক দাবিদার আবুল হাসেম দেওয়ান বলেন, রাজধানীর সব টার্মিনালে এখন এনায়েতউল্লাহ গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি চলছে। বিভিন্ন মালিক সমিতির কিছু অংশের নেতা তাঁর সাথে এক হয়ে হয়তো সহযোগিতাও করছেন।


জাতীয় 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি