ঢাকা, শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭  ,
২৩:২৮:২১ জুন  ১৮, ২০১৭ - বিভাগ: জাতীয়


বিআইবিএম’র গবেষণা প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নামে অর্থ পাচার হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নামে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে অর্থ পাচারকারীরা ৪টি কৌশল গ্রহণ করছে। এগুলো হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওভার অ্যান্ড আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভার অ্যান্ড আন্ডার শিপমেন্ট, পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা ও একাধিক ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে। গতকাল রোববার বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ট্রেড সার্ভিস অপারেশনস অব ব্যাংকস শীর্ষক এক কর্মশালায় এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অর্থ পাচার প্রতিরোধের নীতিমালাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও এগুলো আরও উন্নতি ঘটাতে হবে। স্বীকৃত ব্যাংকগুলোকে আমদানি-রপ্তানি মূল্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, ট্রেড সার্ভিসের মাধ্যমে কেউ যেন ঋণখেলাপি হতে না পারে সেজন্য যথোপযুক্ত তথ্য সরবরাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর উচিত হবে, অধিক স্বচ্ছতা নির্ধারণের জন্য এসব তথ্য যাচাই করা।
অনুষ্ঠানে এসকে সুর চৌধুরী বলেন, বাণিজ্যকেন্দ্রিক অর্থ পাচার উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এটা কেবল অর্থ পাচার নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অন্যান্য আর্থিক অপরাধগুলোও ঘটছে। এসব দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরে কড়া নজরদারি করছে। প্রতিদিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেন তদারকি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যাংকিংসেবায় আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিতেও আধিপত্য হারাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছে ১৮ শতাংশ। সেখানে ২০১৬ সালে কমে ঠেকেছে ১০ শতাংশ। এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটানো হয় ২৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ২০১১ সালে স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৬৪ শতাংশ আমদানি ব্যয় মিটিয়েছে। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশ।
বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ওভার ইনভয়েসিং এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসেবায় আরও গতিশীলতা আনতে ব্যাংকগুলোকে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধূরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মেহমুদ হোসাইন প্রমুখ।


জাতীয় 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি