ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুন ২০১৭  ,
২০:৪৮:২১ জুন  ১৮, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


সরকারি হাসপাতালে জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি

এই হাসপাতাল যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন এর শয্যা সংখ্যা ছিল ২৫০। এখন এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬ শত। শয্যা সংখ্যা ১১ শত করার সময় নতুন জনবল নিয়োগ করা হয়েছিল। এরপর আর জনবল নিয়োগ করা হয়নি

চিকিৎসাসেবা পাওয়া মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। দেশের প্রত্যেক নাগরিককে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকার বিনামূল্যে কিংবা স্বল্পমূল্যে জনগণকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সারাদেশে প্রতিষ্ঠা করেছে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার জন্য হাজার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করে। যেসব চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করেন তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন রোগীদের সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য। তবুও জনগণ আক্ষেপ করে বলে সরকারি হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। তাদের এই আক্ষেপের মূল কারণ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তীব্র জনবল সংকট। বর্তমানে যে জনবল হাসপাতালগুলোতে রয়েছে তা দিয়ে ক্রমবর্ধমান রোগীর সেবা দেওয়া দিনদিন কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে। প্রায় একযুগ আগে থেকে ধাপে ধাপে সব হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হলেও এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এমনকি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৩০ হাজার পদ শূন্য থাকলেও পদগুলো পূরণ করা হচ্ছে না।
দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কথাই ধরা যাক। এই হাসপাতাল যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন এর শয্যা সংখ্যা ছিল ২৫০। এখন এই হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬ শত। শয্যা সংখ্যা ১১ শত করার সময় নতুন জনবল নিয়োগ করা হয়েছিল। এরপর আর জনবল নিয়োগ করা হয়নি। ১১শ’ শয্যার জনবল দিয়েই হাসপাতালটি চালানো হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা দারুণভাবে বিঘিœত হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনোমতে কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য ‘স্পেশাল’ কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে। এরা সব অবৈতনিক কর্মচারী। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে তারা যা বকশিশ পান তাই দিয়ে তাদের সংসার চলে। এই স্পেশাল কর্মচারীদের চাকরির কোনো বৈধতা নেই। তবুও হাসপাতালে এদের দাপট কম নয়। প্রায়ই রোগীর স্বজনদের সাথে বকশিশের পরিমাণ নিয়ে এদের ঝগড়াঝাটি হয়। কিন্তু তারপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ  এই স্পেশাল কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মাচারীর অভাবে প্রায় সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। এতে রোগ-জীবানুর সৃষ্টি হয় যা রোগীদের রোগ দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করে।
কেন নতুন জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে না এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য হলো, নতুন জনবল নিয়োগ দিতে কিছু আইনি জটিলতা আছে। তাই জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা আশা করি,  আইনি জটিলতা শীঘ্রই দূর হবে এবং শূন্য পদ পূরণসহ দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে নতুন জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি