ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুন ২০১৭  ,
২০:৪৭:১৬ জুন  ১৮, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে নির্গত পারদ ও জনস্বাস্থ্য

এখানে উৎপাদিত মাছ ও অন্যান্য প্রাণীদেহে প্রবেশ করা এই পারদ মানুষের দেহেও প্রবেশ করবে। তাতে মানুষ ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পারদ কণিকা সহজে বিনষ্ট হয় না। এটি শতাব্দীকাল ধরে থাকে

সুন্দরবনের রামপালে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে সরকার এখনো দৃঢ়প্রত্যয়। এখানে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মিত হলে তার প্রভাব গোটা সুন্দরবনে পড়বে, এখানে বসবাসকরা জীবজন্তুর জীবন সংকটে পড়বে, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণির জীববৈচিত্রে প্রভাব পরবে- এতো কিছু মতামতের পরও সরকার সুন্দরবনের কাছ থেকে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি অন্য স্থানে স্থানান্তর করছে না। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শ্যালা নদীতে একবার তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে গিয়ে তেল নদীতে মিশে যাবার জন্য এখানকার দুর্লভ প্রজাতির সাদা ডলফিন, কুমির ও অন্যান্য প্রাণির মরে যাবার ঘটনাও ঘটেছে। গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের এক পরিবেশ প্রকৌশলী, নিউইয়র্কের সিরাকাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ চার্লস টি ড্রিসকল তার গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সুন্দরবনের সন্নিকটে বিদ্যুতের জন্য যে কয়লা পোড়ানো হবে তা থেকে যে পারদ উৎপন্ন হবে তা নির্গত হয়ে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি করবে। এ পরিবেশবিজ্ঞানী এক বছর ধরে এ প্রকল্পের দরপত্র, এখানকার বৃষ্টিপাত, মাটি ও নদীর বৈশিষ্ট্য, বাতাস প্রবাহ, বাতাসের গতিবেগসহ আরো কিছু তথ্য উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
সুন্দরবনের সন্নিকটে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বহুদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। সরকার বার বারই বলছে এতে সুন্দরবনের কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু দেশ-বিদেশের পরিবেশবাদী ও বিজ্ঞানীরা বার বারই বলছে এটি সুন্দরবনের ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করবে। এবার যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে তাতে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে কয়লা পোড়ানো হবে তা থেকে যে পারদ তৈরি হবে তা এ এলাকায় জলে, স্থলে ছড়িয়ে পড়বে। পারদের সুক্ষ্ম কণিকা জলের সাথে মিশে মাছের খাদ্যের সাথে তাদের শরীরে প্রবেশ করবে। পারদের ক্ষুদ্র কণিকা মাটিতে মিশে পাখি ও বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্যের সাথে তাদের শরীরে প্রবেশ করবে। এখানে উৎপাদিত মাছ ও অন্যান্য প্রাণীদেহে প্রবেশ করা এই পারদ মানুষের দেহেও প্রবেশ করবে। তাতে মানুষ ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পারদ কণিকা সহজে বিনষ্ট হয় না। এটি শতাব্দীকাল ধরে থাকে। আর এ পারদ তরল বলে সহজেই অন্য পদার্থের সাথে মিশে যেতে পারে।
গত কয়েক বছরে দেশে অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পেরেছি আমরা। সুন্দরবনে এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে মাত্র সাড়ে তেরশ’ মেগা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এ বিদ্যুতে সারা দেশের চাহিদার এক-চতুর্থাংশও পুরণ হবে না। সুন্দরবন বাংলাদেশে প্রকৃতির দান। আমরা এ বিশাল সম্পদ-ভাণ্ডারটি কোনো আবেগে, বা জেদে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। আমরা আশা রাখি সরকার এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি অন্য স্থানে স্থানান্তর করবে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি