ঢাকা, বুধবার ২৮ জুন ২০১৭  ,
২০:০৬:০৭ জুন  ১৮, ২০১৭ - বিভাগ: সিলেট


চুনারুঘাট থানা ফল বাগান

Image

রায়হান আহমেদ, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)

বছর তিনেক বয়সের ছোট ছোট আমগাছ। কিন্তু গাছভর্তি কাঁচাপাকা আম। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার মেইন ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সারিবদ্ধ ছোট ছোট আমগাছ। উন্নত জাতের তিন শতাধিক গাছের প্রত্যেকটিতে কাঁচাপাকা আম দুলছে। দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি পাকা আমের ঘ্রাণ মুখরিত করে থানা প্রাঙ্গণ। বাগানে আম চাষে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিষমুক্ত আম চাষ করতে পেরে থানার পুলিশ সদস্যরা মহা খুশি। এখানে শুধু আম ছাড়াও আছে হরেক ফলের গাছ। প্রায় ১৫ একর জায়গার মাঝখানে থানা ভবন। ভবনের দুদিকে রয়েছে বিশাল দুটি পুকুর। নানা প্রজাতির মাছে ভরা পুকুর আর অন্য প্রান্তের পতিত জমি আবাদ করে ২০১৪ সালের শেষের দিকে সৃজন করা হয়েছে পেয়ারা ও আম বাগান। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্রের পরিকল্পনায় এসব বাগান তৈরিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন এই থানার সাবেক ওসি ও বর্তমানে সিলেটের এএসপি অমূল্য কুুমার চৌধুরী ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। অমূল্য কুমার চৌধুরীর বদলির পর ওসি হিসেবে যোগদান করেন নির্মলেন্দু চক্রবর্তী। বাগান উন্নয়নে হাল ধরেন তিনিও। ওসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী নিজে উপস্থিত থেকে শ্রমিক দিয়ে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করান। এতে  রোপণকৃত গাছে গাছে মুকুল আসে। ধরে গাছে গাছে আম। গাছের গোড়ায় প্রাকৃতিক সার হিসেবে গোবর দেওয়া হয়। আগাছা পরিষ্কার করা হয় গাছগুলো থেকে পোকা দমন করতে। আর এ পরিচর্যা করা হয় বাগান স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে। থানার পতিত জায়গায় তিন শতাধিক আম গাছ ও দুশতাধিক গাছ নিয়ে পেয়ারা বাগান ছাড়াও থানা এলাকায় রয়েছে ৮০টি কাঁঠাল, ১৫টি লিচু, ৫টি আপেল কুল, ৫টি জলপাই, ৫৫টি নারিকেল, ৪টি দেশি বড়ই, ১টি তাল, ১০টি খেজুর, ১টি লেবু, ১০০টি ঝাউ, ৪টি লাল গোলাপ (ইন্ডিয়ান), ৪টি গন্ধরাজ (ইন্ডিয়ান), ৪টি হাসনাহেনা, ৪টি কামিনী, ৪টি মুসন্ডা, ৪টি কাঁঠালিচাপা, ৫০টি মেহগনি, ২০টি মেনজিয়াম, ১২টি কড়ই, ১টি অরকেরিয়া, ২টি কাঁঠাল গাছ। আজ থানার চিরচেনা সেই পুরনো চেহারাটা পাল্টে গেছে।
থানার প্রবেশপথে বিশাল প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। বাকি স্থানে বাঁশে রং করে রশি টানিয়ে শোভাবর্ধন করা হয়েছে। থানা ভবনের সামনে বসার জন্য নির্মিত গোলঘর বাড়িয়েছে থানার সৌন্দর্য। এ ছাড়াও পশ্চিম পাশে আধুনিক অডিটরিয়াম নির্মিত করা হয়েছে। থানার প্রকৃতগত সৌন্দর্য দেখতে প্রায় প্রতিদিন বিকেলে এখানে আসে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ওসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তীর সময়ে। আর এ থানায় যারাই যোগদান করছেন তারাই এখানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম আজমিরুজ্জামান যোগদানের পর তিনিও ফলের বাগানের পরিচর্যায় আÍনিয়োগ করেন। তিনি জানান, আম বাগানের প্রতিদিন শ্রমিক দিয়ে পরিচর্যা করা হয় এবং পুলিশ সদস্যরা ডিউটির ফাঁকে বাগানের পরিচর্যা করেন। এ ছাড়াও থানার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। তিনি আরও জানান চুনারুঘাট থানাকে একটি পরিবেশবান্ধব থানা গড়ে তুলায় যা যা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করবেন। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব কুমার ভদ্র বলেন, থানা প্রাঙ্গণে সৃজীত ফল ও ফুলের বাগান দেখে মন ভরে যায়। এ যেন এক মিনি বাগান। বিভিন্ন পেশার মানুষসহ পুলিশ সদস্যরা এ বাগান থেকে ফর্মালিনমুক্ত আম খেতে পারেন। চুনারুঘাট থানা পরিদর্শনকালে মাধুবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এসএম রাজু আহমেদ বলেন, চুনারুঘাট থানা পরিবেশ মিশ্রিত। এ থানার ফল বাগান দেখে অন্য থানাও এ ধরনের বাগান করতে উৎসাহিত হবে বলে আশা করছি।


সিলেট'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি