ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭  ,
২০:০৫:২১ জুন  ১৮, ২০১৭ - বিভাগ: চট্টগ্রাম


চট্টগ্রাম দোহাজারী রেলপথের সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ

Image

গোলাম কাদের, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে ৫৪টি ছোট-বড় সেতুর মধ্যে বর্তমানে ১০টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম দোহাজারী রেলপথের পটিয়া শ্রীমাই রেলব্রিজ এখন হুমকির মুখে। যে কোনো মুহূর্তে ব্রিজের পিলার ধসে মারাÍক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে প্রাণহানিসহ রেলের সম্পদ ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টানা দুসপ্তাহ ভারী বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে পটিয়ার শ্রীমতি খালে ওপর রেলসেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সংস্কার করা না হলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো ব্রিজের নিচ থেকে পটিয়া বাইপাস সড়কের জন্য বালু উত্তোলনের ফলে সেতুটি ফিলারের দুপাশ থেকে মাটি সরে যায় এবং টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানিতে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। পটিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি ও ছড়ার পানি দিয়ে শ্রীমাই খালের বিভিন্ন স্পটে বালি জমা হয়। এ বালি সরকার প্রতিবছর ইজারা নিলাম দিয়ে থাকে। ইজারা নিলামের শর্তে রয়েছে ব্রিজ, কালভার্ট, দালান, ঘরবাড়ির আশপাশ এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় ও জনস্বার্থ রক্ষার্থে বালি উত্তোলন ক্ষেত্রে শর্তগুলো পালন অবশ্যই অপরিহার্য। কিন্তু সম্প্রতি বাইপাস সড়কের জন্য বালু উত্তোলন করতে গিয়ে রেলব্রিজের দুই পাশে মাটি সরে গিয়ে ব্রিজ এখন সম্পূর্ণ হুমকির সম্মুখিন। স্ক্যাবেটার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করায় দুই পিলারের পাকা অংশ ভেঙে যাচ্ছে। যার দরুন উক্ত রেলব্রিজের আশপাশ থেকে বালি উত্তোলনের ফলে পিলারের নিচের অংশের মাটির ক্ষয় দেখা দিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্রিজের মাঝখানের একটি পিলার ইতোমধ্যে ভেঙে অস্তিত্ব হারিয়েছে। অন্য দুটি পিলার রক্ষায় ৪-৫টি রেলবিটের খুঁটি স্থাপন করে কোনোরকম ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে পিলারের আশপাশ এলাকায় বালি উত্তোলন চলছে এতে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার প্রহর গুনছে। শ্রীমাই খালের রেলব্রিজ এলাকায় বালি উত্তোলন বন্ধসহ ব্রিজটি নির্মাণে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের শুভদৃষ্টি কামনা করেছে। চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো হলো চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনের বেঙ্গুরা স্টেশনের শাইরারপুল সেতুর ধলাঘাট স্টেশনের সিগন্যাল সংলগ্ন রেলসেতু, ধলঘাট কৃষ্ণা খালী খাল রেলসেতু, পটিয়া শ্রীমাই খাল রেলসেতু, খরনা খাল রেলসেতু, উত্তর মুরাদাবাদ রেলসেতু, কাঞ্চননগর গুইলধ্যা ছড়ি খাল রেলসেতু, খান হাট স্টেশনের সন্নিকটে বরগুনী খাল রেল সেতু, হাসিম পুর স্টেশনের কাছাকাছি ধোপাছড়ি খাল রেলসেতু, ষোলশহর চশমা হিল রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাথরবিহীন রেললাইন, পুরাতন ভাঙ্গা কাঠের শ্লিপার, ব্রিটিশ আমলের স্থাপিত রেলবিট এখনো কোন পরিবর্তন হয়নি এ রেল পথে।
ঝাউতলা স্টেশনের পর খেকে পটিয়া স্টেশন পর্যন্ত কিছু কিছু স্থানে রেললাইনের স্লিপার, রেলবিট পরিবর্তন ও পাথর দেওয়া হলেও অধিকাংশ রেলপথ সংস্কারবিহীন রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও সংস্কারবিহীন রেলপথের কারণে এ লাইনে চলাচলরত মাত্র একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ও তেলের ওয়াগন দ্রুত গতিতে চলাচল করতে পারে না। যার ধরুন ধীরগতিতে ট্রেন চলতে গিয়ে ব্যাপক সময়ের অপচয় হয়।  এ ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল প্রকল্প পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ সংস্কারের জন্য বর্তমানে পাওয়া বরাদ্দ থেকে সেতু সংস্কারের কাজ করা হবে।


চট্টগ্রাম'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি