ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৮:৪৬:০১ জুন  ১৭, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এমন ধস আবারো ঘটবে

দেশে আইন-কানুন আছে, সরকার আছে, একটি জনসমাজ আছে, তাদের নির্বাচিত ও কর দিয়ে চলা প্রতিষ্ঠিত একটি সরকার আছে। কিন্তু দেশের জনসমাজকে রক্ষা করতে কে দায়িত্বপ্রাপ্ত তা জানা নেই সাধারণ মানুষের

গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় পাহাড়ধসে ১৪৭ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ হারিয়েছে। বিষয়টি জাতির জন্য বিশাল এক শোক সংবাদ বয়ে আনে। দুর্ঘটনার পর দেশের সশস্ত্র বাহিনীর লোকজন উদ্ধার-কর্ম পরিচালনা করে অবশেষে গতকাল তা সমাপ্ত করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এই পাহাড়ধসের কারণ উদ্ঘাটন করতে ও তা থেকে জনপদ রক্ষা করতে সামনের সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছে একটি মহাপরিকল্পনার তৈরির জন্য। এ জন্য ২১ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে।
কয়েক বছর ধরে দেশে বর্ষাকালে প্রবল বর্ষণে পাহাড়িয়া এলাকায় ভূমিধস হচ্ছে। আমাদের দেশের পাহাড়গুলো পাথুরে পাহাড় নয় বলে বর্ষাকালে পানির প্রবাহ মাত্রাতিরিক্ত হলে পাহাড়ধস হয়ে থাকে। তা ছাড়াও পাহাড়ের পাদদেশে মাটি কেটে সমতল করে বস্তি গড়ে তোলার জন্য পাহাড়ের গোড়ার মাটি আলগা হয়ে আসছে। দেশের এক শ্রেণির পেশীবহুল মানুষ পাহাড়ের পাদদেশের মাটি কেটে সমতল করে সেখানে বস্তি উঠিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের ভাড়া দিচ্ছে। এসব পেশীশক্তির মানুষরা আইন-কানুনকে অর্থ দিয়ে নিজেদের কব্জায় রাখে। তা ছাড়াও এদের পেছনে রয়েছে অনেক রাজনৈতিক নেতার সমর্থন। ফলে দেশের পাহাড়গুলো ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, এসব স্থানের বস্তিগুলোয় যেসব মানুষ বাস করছে তারাও অকালেই মরে যাচ্ছে।
২০০৭ সালেও পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সেবার কোন বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বা, নেয়া হলেও তার কোন ফলাফল জানা যায়নি। এর পর থেকে প্রতি বছরেই পাহাড়ধসে কিছু না কিছু মানুষ মরছেই। এসব মানুষকে রক্ষা করতে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। যদি সত্যিই কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হতো তাহলে এ বছর দেশের এতো বিশাল জনক্ষয় হতো না।
দেশে আইন-কানুন আছে, সরকার আছে, একটি জনসমাজ আছে, তাদের নির্বাচিত ও কর দিয়ে চলা প্রতিষ্ঠিত একটি সরকার আছে। কিন্তু দেশের জনসমাজকে রক্ষা করতে কে দায়িত্বপ্রাপ্ত তা জানা নেই সাধারণ মানুষের। একইসাথে আরো একটি জনগোষ্ঠী আমাদের দেশেই রয়েছে যারা এ জনসমাজকে শোষণ করে ও দেশের সম্পদকে লুণ্ঠন করে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ছে। বিপদ দেখলে দেশের বাইরে পালায় এরা। আর এদের কারণেই আমাদের সাধারণ জনসমাজের এতো ভোগান্তি।
যতো মহাপরিকল্পনাই করা হোক না কেন, তা সঠিকভাবে ও ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রয়োগ করা না গেলে এভাবে প্রতিবছর মানুষ মরতেই থাকবে। প্রতিবছরই পাহাড়ের মাটি কেটে অবৈধ বস্তি ও জনবসতি গড়ে উঠছে। এসব কারা তৈরি করছে তা দেশের সবাই জানে। তারা চিহ্নিত ব্যক্তি। তাদেরকে না রুখলে সিলেটের পাথুরে এলাকাও বসে যাবে, চট্টগ্রামেও পাহাড়ধস আরো ঘটবে। এটি অনিবার্য, কেউ তা থামাতে পারবে না। এখন প্রয়োজন সরকারের সৎ উদ্যোগ।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি