ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৩:৫৮:৩৭ জুন  ১৭, ২০১৭ - বিভাগ: রাজনীতি


দুদককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার করা হচ্ছে

Image

সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণকারীদের হয়রানি করতে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেব বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

‘আমার দেশ’ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজা মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার প্রতিবাদ জানাতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘আমার দেশ পরিবার’।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুদকের এই মামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের চিত্র এটি। আজকে গোটা বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আছে। শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগ সব রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা। কিন্তু এটিকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছে। যিনি রাজনীতি তো দূরের কথা কখনো জনসম্মুখেই আসেন না।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব অথবা পেশাজীবী নেতৃত্ব অথবা কোনো মানুষ যদি মুক্ত কথা বলেন, তাদের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদের অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ান, সোচ্চার হন; তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য সরকার এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। সম্পাদককে জেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এবার তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছে। আজকে সবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীসহ দলটির নেতাদের নামে হওয়া মামলাগুলো তুলে নিয়ে এখন দুদককে বিরোধী মতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা তাদের সব মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সাড়ে ৭ হাজার মামলা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলা ছিল। সেগুলোও তুলে নেওয়া হয়েছে। তারা এখন দুদককে ব্যবহার করে সৎ এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত ন্যায়ের পক্ষের মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। জনগণ ভালো করেই বোঝে এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।’

দেশে সব সমস্যার জন্য ‘গণতন্ত্রহীন’ পরিস্থিতিকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মূল সমস্যা হচ্ছে গণতেন্ত্রর অভাব। দেশে গণতন্ত্র নেই। মানুষের স্বাধীনতা নেই। আজকে একদিকে যেমন জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তেমনি উন্নয়নের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’

চালের ব্যাপক মুল্যবৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে এই রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। সারা দেশে মানুষ এখন এই সরকারের হাত থেকে রক্ষা চায়।’

সরকারের দুর্নীতির বোঝা জনগণের কাধে চাপাতে বাজেটে অত্যাধিক করারোপ করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাজেটে তারা যে হারে ট্যাক্স আরোপ করেছে সাধারণ মানুষ আরো চাপে পড়বে। মূলত তাদের দুর্নীতি ঢাকতেই জনগণের পকেট কাটার ব্যবস্থা করছে।’

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণমাধ্যম বন্ধ করছে, সাংবাদিকদের হয়রানি করছে।’ এর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে নিয়ে এই অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু প্রমুখ।

রাজনীতি'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি