ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৯:২৯:০৫ জুন  ১৬, ২০১৭ - বিভাগ: উপ-সম্পাদকীয়


বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংগ্রামী সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া

সিরাজ উদ্দীন আহমেদ




(গতকালের পর)
ইতিমধ্যে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ইত্তেহাদ পত্রিকায় পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় তফাজ্জল হোসেনকে খন্দকার আব্দুল হামিদের পরিবর্তে সম্পাদক নিয়োগ করা হয়। কোন প্রেস মুসলিম লীগ সরকারের ভয়ে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকা ছাপাতে সম্মত হয়নি। আজগর হোসেন এমএলএ’র ঢাকার ৭৭ নং মালিটোলার বাসভবনের প্রেস থেকে ১৯৪৯ সালের ১৫ আগস্ট সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। কিছুকাল পর ঢাকার কলতাবাজার করিম প্রিন্টিং প্রেস থেকে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক প্রকাশিত হতে থাকে। মুসলিম লীগের ভয়ে প্রেসগুলো পত্রিকা ছাপাতে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক ঢাকার ৯নং হাটখোলা রোডে অবস্থিত প্যারামাউন্ট প্রেস থেকে মুদ্রিত এবং ৯৪ নং নবাবপুর থেকে প্রকাশিত হতে থাকে। আওয়ামী লীগের প্রথম অফিস ছিল ইয়ার মোহাম্মদ খানের ১৮/এ কারকুনবাড়ী লেনে। তার বাসায় মওলানা ভাসানী থাকতেন। ইত্তেফাক ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় ইয়ার মোহাম্মদ খানের অবদান অপরিসীম। পরে আওয়ামী লীগের অফিস ৯১ নবাবপুর রোডে স্থানান্তর করা হয়। ইত্তেফাক পত্রিকায় যারা সাংবাদিকতা করতেন তাদের মধ্যে ছিলেন ফয়েজ আহম্মেদ, আব্দুল হাফিজ, নুরুল ইসলাম ভান্ডারী, আব্দুল অদুদ পাটোয়ারী, এম এ আউয়াল, নুরুর রহমান, এম আর আখতার মুকুল প্রমুখ।
১৯৫০ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, শেখ মুজিবর রহমান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। কোর্টে তাদের বিচার চলছে। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া কোর্টে হাজির হয়ে তাদের জানালেন যে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে তার উচ্চ পদে চাকরি হয়েছে। তিনি চাকরিতে যোগ দেয়ার জন্য করাচী যাবেন। পত্রিকার আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। তার পক্ষে পত্রিকা চালানো সম্ভব নয়। তার স্ত্রী পুত্র পিরোজপুরে। এ কথা শুনে শেখ মুজিবর রহমান বলেন, মানিক ভাই আপনি আমাদের জেলে রেখে করাচী যেতে পারবেন না। ইত্তেফাক পত্রিকার আর্থিক সঙ্কট দূর করার জন্য কয়েকজন বন্ধুকে অনুরোধ করছি। পরের দিন মানিক মিয়া কোর্টে এসে বলেন তিনি করাচী যাবেন না। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মাওলানা ভাসানী, আতাউর রহমান খান এবং শেখ মুজিবর রহমানের সহযোগিতায় মানিক মিয়ার কর্ম দক্ষতায় ইত্তেফাক পত্রিকা জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।
১৯৫২ সালের রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলনে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২২শে ফেব্র“য়ারি ছাত্র হত্যা ও শেরে-বাংলা এ কে ফজলুল হকের প্রতিবাদ সংবাদ ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টি একত্রিত হয়ে ২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। ৫ ডিসেম্বর ইত্তেফাক পত্রিকার যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ২১ দফা প্রকাশিত হয়। শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। সারাবাংলায় গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। যুক্তফ্রন্টের মুখপত্র ইত্তেফাক প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা লাভ করে। আওয়ামী লীগ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানীর নির্দেশে ১৯৫৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ইত্তেফাক দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মুসাফির নামে কলাম লিখে বাঙালি জাতিকে ২১ দফার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে। গ্রামে গ্রামে তৃণমূল পর্যায়ে ইত্তেফাক পৌঁছে যায়। জনগণ মুসলিম লীগ সরকারের প্রতি বিদ্রোহী হয়ে উঠে। ১৯৫৪ সালে মার্র্চ মাসে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে। যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পেছনে ছিল তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ও দৈনিক ইত্তেফাকের অনন্য ভূমিকা। যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মন্ত্রী শেরে বাংলার ভাগিনা সৈয়দ আজিজুল হক নান্না মিয়ার সহায়তায় ১৯৫৪ সালের ২০ মার্চ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মালিকানা পরিবর্তন করে নিজেই পত্রিকার মালিক হন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ওলি আহাদ বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক সিলেট নিবাসী ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াহিয়া চৌধুরীকে দিয়ে ১৯৫৪ সালের ১৪ মে গভীর রাতে ইয়ার মোহাম্মদ খানের স্থলে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রিন্টার্স ও পাবলিশার্স করেন। মওলানা ভাসানীর নাম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতার পরিবর্তে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছাপা হয়। ঐক্যের জন্য মওলানা ভাসানী ও ইয়ার মোহাম্মদ খান পত্রিকার মালিকানা পরিবর্তন মেনে নেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অফিস ও প্রেসের জন্য ঢাকার টিকাটুলির হাটখোলায় জমি ক্রয় করেন ও প্রেসের ব্যবস্থা করেন। ১৯৫৫ সালে যুক্তফ্রন্ট ভেঙে যায়। এ সময় মানিক মিয়া যুক্তফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তার কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম ছিল সার্বজনিন ভোটাধিকার এবং যুক্ত নির্বাচন। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত নির্বাচন, পররাষ্ট্রনীতি, সংখ্যাসাম্যনীতি এবং কাশ্মিরনীতি তার লেখনির মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলেন। ১৯৫৬ সালের ১৪ অক্টোবর পাকিস্তান পার্লামেন্ট হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যুক্ত নির্বাচন পদ্ধতি পাশ করে। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দর মির্জা ও জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক আইন জারী করে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সামরিক আইনের বিরুদ্ধে লেখনি ধরেন। সামরিক সরকার ১৯৫৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায় মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে সামরিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে জেলে বন্দি করে রাখা হয়। তাকে বলা হয় মুচলেকা দিলে মুক্তি দেয়া হবে। তিনি রাজী হননি। পরে পুর্ব পাকিস্তানের চিফ সেক্রেটারি আলী আসগর সিএসপি প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সাথে আলোচনা করে তার মুক্তির ব্যবস্থা করেন। তিনি মুক্তিলাভ করে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন ও শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের সমালোচনা শুরু করেন। ১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের নির্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে করাচীতে গ্রেফতার করা হয়। তার গ্রেফতারের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রগণ আন্দোলন শুরু করে। ৬ ফেব্র“য়ারি শেখ মুজিবর রহমান দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াসহ শত শত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের মানষপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওর্দী বৈরুতে মৃতুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে মানিক মিয়া প্রচণ্ড আঘাত পান। সোহরাওয়ার্দীর শেষ জীবনে ঢাকায় এলে তার বাসভবনে থাকতেন। তার স্মরণে তিনি ইত্তেফাকে অনেক প্রবন্ধ লেখেন।
১৯৬৪ সালের জানুয়ারি মাসে কাশ্মীর মসজিদ থেকে হযরত মুহম্মদ (সা.) পবিত্র চুল চুরি হয়। হিন্দুরা চুল চুরি করেছে এই অজুহাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সবুর খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ইঙ্গিতে ঢাকা ও খুলনায় দাঙ্গা শুরু হয়। শত শত হিন্দুদের হত্যা, নারী নির্যাতন ও লুণ্ঠন চলে। এ সময় দাঙ্গা প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া শেখ মুজিবর রহমান এবং এনডিএফ-এর নেতৃবৃন্দ এগিয়ে আসেন। এ বছর ১৬ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা অফিসে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে আহ্বায়ক করে ৯৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ এ শিরোনামে প্রচারপত্র প্রকাশ করে। সরকার কমিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ১৯৬০ সালের প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স আইনে মানিক মিয়া, শেখ মুজিবর রহমানসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এ মামলা ১৯৬৯ সালে ৯ এপ্রিল প্রত্যাহার করা হয়।
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্র“য়ারি শেখ মুজিবর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ৬ দফার সমর্থন করেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক ৬ দফারÑ বাঁচার দাবি গ্রামেগঞ্জে পৌঁছে দেয়। ১৯৬৬ সালে ৮ মে সামরিক সরকার শেখ মুজিবর রহমান, তাজউদ্দিন আহম্মেদসহ অনেককে গ্রেফতার করে। ১০ মে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মুসাফির নামে পত্রিকায় রাজনৈতিক মঞ্চ কলাম লিখতেন। আইয়ুব মোনায়েম খানের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ৭ জুন হরতাল পালন করে। ১৯৬৬ সালের ১৫ জুন গর্ভনর মোনায়েম খান ক্ষিপ্ত হয়ে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে গ্রেফতার এবং ১৬ জুন পত্রিকা নিউ ন্যাশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্ত করে। আওয়ামী লীগের একমাত্র মুখপত্র দৈনিক ইত্তেফাক বন্ধ হয়ে যায়। পত্রিকা ঢাকা টাইমস ও পূর্বাণীও বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তিনি তার লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’য় ১৬ই জুন লিখেছেন ‘তফাজ্জল হোসেন সাহেবকে ভোরবেলা নিয়ে এসেছে। ১০ নম্বর সেলে রেখেছে। আমার মনে ভীষণ আঘাত লাগলো খবরটায়। এদেশে বিরোধী রাজনীতি মুছে যেতো যদি মানিক মিয়া এবং ইত্তেফাক না থাকতো। ১৮ই জুন পাকিস্তান দেশরক্ষা আইনের বলে নিউ নেশন প্রেস বাজেয়াপ্ত করিয়াছে সরকার।’
পত্রিকার সাংবাদিক ও কর্মচারীগণ দারুন অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। তারা প্রায় ৩ বছর সামরিক সরকারের নির্যাতন শিকার হন। সরকার তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে শর্তাধীন মুক্তি দিতে চায় কিন্তু মানিক মিয়া আইয়ুব মোনায়েম খানের নিকট মাথা নত করেননি। পত্রিকা ধ্বংস হয়েছে, সাংবাদিক কমীচারীরা না খেয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছে, তারপরও মানিক মিয়া আÍসমার্পণ করেনি।
১৯৬৬ সালের ৯ আগস্ট পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বিধি ৩২ দফা অনুসারে শেখ মুজিবর রহমান ও তফাজ্জল হোসেনকে আটক আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ঢাকা হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। হাই কোর্ট তাদের আটক বৈধ বলে রায় দেয়। একই দিনে বিচারপতি বি এ সিদ্দিকীর নেতৃতে বিশেষ বেঞ্চ প্রতিরক্ষা আইনে ৫২ (২)খ ধারায় দৈনিক ইত্তেফাকের মুদ্রণালয় নিউনেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াপ্তকরণকে অবৈধ ঘোষণা করে। কিন্তু গভর্নর মোনায়েম খান ১৭ নভেম্বর প্রতিরক্ষা বিধির ৩২ নং বিধির ২ নং উপধারা অনুসারে ইত্তেফাক প্রেস পুনরায় বাজেয়াপ্ত করে। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা জেলের ভেতর ম্যাজিস্ট্রেট এম এ রউফের কোর্টে বিচার শুরু হয়।
অবশেষে ১৯৬৭ সালের ২৯শে মার্চ আইয়ুব খান মানিক মিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। কিন্তু ইত্তেফাক পত্রিকা প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। ১৯৬৯ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি গণআন্দোলনকালে সামরিক সরকার ইত্তেফাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। দৈনিক ইত্তেফাক ১৯৬৯ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি ২ বছর ৭ মাস পর পুনঃপ্রকাশিত হয়। মানিক মিয়া গণঅভ্যুত্থানের সমর্থনে আবার লেখনি শুরু করেন। সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানসহ সকলকে ২২ ফেব্র“য়ারি মুক্তি দেয়। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯৬৭ সালের ২৪ মার্চ পদত্যাগ করেন। ১৯৬৯ সালের ২৬ মে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া রাওয়ালপিন্ডি গমন করে। ৩১ মে রাতে হƒৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার লাশ ঢাকায় এনে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে মানিক মিয়া দুই পুত্র মাঈনুল হোসেন, আনোয়ার হোসেন এবং দুই কন্যা এবং স্ত্রী মাজেদা বেগমকে রেখে যান। পুত্রদ্বয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা পরিচালনার ভার গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাক বাহিনী ৬ দফা আন্দোলনের মুখপত্র দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অফিস ও প্রেসে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করে। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া একজন সুলেখক ছিলেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘পাকিস্তানী রাজনীতির ২০ বছর’, নির্বাচিত প্রবন্ধ প্রভৃতি। তিনি আন্তর্জাতিক প্রেস ইনস্টিটিউটের পাকিস্তান শাখা সভাপতি এবং পিআইএর পরিচালক ছিলেন। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী এবং দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য যে সিঁড়ি নির্মাণ করে যান তা বেয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। (সমাপ্ত)
লেখক: ইতিহাসবিদ


উপ-সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি