ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৯:২৭:০৬ জুন  ১৬, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


লন্ডনে বহুতল ভবনে আগুন

লন্ডনের মত জায়গায় একটি বহুতল ভবনে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে না এমনটা ধারণা করাও কঠিন। তবে গভীর রাতে আগুন লাগায় ঘুম ভেঙে যাওয়া মানুষগুলি হয়তো একটু বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল




ল ন্ডনের একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগে পুড়ে গেছে ভবনটি। প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ১২ বলা হলেও মৃত্যুর পরিমাণ বাড়বে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞজনেরা। পশ্চিম লন্ডনে অবস্থিত গ্রেনফেল টাওয়ার নামে এই ভবনটি ছিল ২৪ তলা। মনে করা হচ্ছে এই ভবনটির দুইতলা থেকে আগুনটির উৎপত্তি। যখন আগুন লাগে তখন বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। ফলে যখন পুরো ব্যাপারটা তারা টের পায়, ততক্ষণে আগুন বেশ ভালভাবে ছড়িয়ে গেছে। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে এসে গেছে দমকল বাহিনী। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে অনেকে। দমকল কর্মীদের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গেছেন অনেকে। উদ্ধারকৃত শতাধিক লোককে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে, যার মধ্যে অনেকেই বাঁচবে না। জীবনের ভয়ে ওপর থেকে লাফিয়ে নামতে চেয়েছে অনেকে। প্রাণে বাঁচতে জানালার কাচ ভেঙে কেউ শিশুসন্তানদের নিয়ে মাটিতে ঝাঁপ দিয়েছে।  ধোঁয়ায় দম আটকে মরেছে কেউ। দমকল-কর্মীরা ওই ভয়ঙ্কর আগুনের মধ্য থেকে অনেককে বের করে আনলেও লন্ডনের মেয়র আশঙ্কা করছেন, এখনো বহু মানুষ ওই বহুতল আবাসনে আটকে রয়েছেন।
লন্ডনের মত জায়গায় একটি বহুতল ভবনে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে না এমনটা ধারণা করাও কঠিন। তবে গভীর রাতে আগুন লাগায় ঘুম ভেঙে যাওয়া মানুষগুলি হয়তো একটু বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে আগুন নেভানোর কথা না ভেবে প্রাণ বাঁচানোর কথাই আগে মাথায় এসেছে। লন্ডনের মেট্রোপলিটান পুলিশের কমান্ডার স্টুয়ার্ট কান্ডি মনে করছেন যে আগামী কয়েক দিনে যখন ওই বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরানো হবে তখন মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। ইতোমধ্যেই মৃতদেহ শনাক্ত করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। দেহগুলো গলে যাওয়ায় কাউকেই চেনা যাচ্ছে না।
আমাদের দেশেও নানা সময়ে বেশ বড় বড় কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণে সম্পত্তিহানির পাশাপাশি মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। কয়েক বছর আগে বসুন্ধরা শপিংমলে আগুন লাগার ঘটনায়ও প্রচুর সম্পত্তিহানি হয়েছে। কড়াইল বস্তি, মোহাম্মদপুর বস্তিসহ বিভিন্ন বস্তিতে আগুন লেগে অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আগুন বিষয়ে সচেতনতার অভাব ঘটলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাসাবাড়ি বা অফিসে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা থাকা যেমন জরুরি, তেমনি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা-ও সকলের জানা থাকা দরকার।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি