ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৯:২৬:২৮ জুন  ১৬, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


দেশের স্বার্থ আগে বিবেচ্য

সম্প্রতি চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে যে, চীনা প্রতিষ্ঠান এ কাজটি কোন টেন্ডার ছাড়াই করতে চায়। বিষয়টি আমাদের ভাবায় বৈকি। সরকারি কোন বড় কাজ আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমেই করার বিধান রয়েছে আমাদের দেশে





আ ওয়ামী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে অনেক উন্নয়নমূলক কাজের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু এ সময় দেশে খুব বেশি বিদেশী বিনিয়োগ হয়নি। এ কারণে সরকার এশিয়ার জায়ান্ট দেশ চীন ও জাপান সফর করেন। চীন ও জাপান বাংলাদেশকে বেশ কিছু প্রকল্পে বেশ কয়েক মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেয়। ইতিমধ্যে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু করে। চীনা প্রতিষ্ঠানও এ সেতুর বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ করছে। গত ৬ মে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জিটুজি পদ্ধতিতে ২৮৬ কোটি ৫৫ লাখ ডলার (প্রায় ২২ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা) চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দেবে। বাকি ৩৪ কোটি ডলার বাংলাদেশ যোগান দেবে। চীনা ব্যাংক ৪৩ কোটি ডলার সহজ শর্তে ঋণ দেবে। বাকি ৮৫ শতাংশ বা ২৪৩ কোটি ডলারের পণ্য কিনতে হবে চীন থেকে।
সম্প্রতি চীনা দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে যে, চীনা প্রতিষ্ঠান এ কাজটি কোন টেন্ডার ছাড়াই করতে চায়। বিষয়টি আমাদের ভাবায় বৈকি। সরকারি কোন বড় কাজ আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমেই করার বিধান রয়েছে আমাদের দেশে। এই মেরিন ড্রাইভওয়ে করতে যেহেতু চীন বেশিরভাগ অংশের অর্থায়ণ করবে, সেহেতু চীনা কোম্পানিকে বিধির বাইরে গিয়ে কাজ দেয়া হলে সরকারি কাজে অনিয়মের একটি নজির স্থাপিত হবে।  এর আগেও ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের সড়ক নির্মাণে চীনা কোম্পানি তিনবার সময় বাড়িয়ে নিয়েছে এবং ব্যয় বাড়িয়ে নিয়েছে। এতে দেশের অর্থের অপচয় হয়েছে। এর পরও আমরা তেমন একটা দর কষাকষি করতে পারিনি।
ইতিমধ্যে এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি নির্মাণে সরকার ব্যয় স্থির করেছেন প্রায় তেইশ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু চীনা কোম্পানি এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি নির্মাণ করে দিতে চাইছে সাড়ে পঁচিশ হাজার কোটি টাকায়। এটিও যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় না।
আমরা সবাই জানি বিদেশী যে কোন ঋণ নিয়ে দেশে যে কোন কাজই হোক, সে অর্থ পরিশোধ করা হবে জনগণের আয় থেকে ও দেয় কর থেকে। এজন্য এই সড়কটি নির্মাণে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক। এ কারণে কাজটিতে হাত দেবার আগে সরকারকে ভাবতে হবে কোন পথটি দেশের জন্য বেশি সুবিধাজনক হবে। একদিকে ঋণে আমরা জর্জরিত হবো ও অন্যদিকে আরো বেশি অর্থায়নে বিদেশী কোম্পানির কাছে কাজ দেব এমন কখনো কাম্য হতে পারে না।
সরকারকে যে কোন মেগা প্রজেক্টে হাত দেয়ার আগে দেশের স্বার্থের কথা আগে বিবেচনা করতে হবে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি