ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১২:৫২:৪৯ জুন  ১৬, ২০১৭ - বিভাগ: লাইফস্টাইল


খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ ও চিনিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে 

Image

বর্তমান সময়ে স্বাভাবিক খাবারের পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে আগ্রহ বাড়ছে। আর এসব প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে অসাড়ে শরীরে ঢুকছে মাত্রাতিরিক্ত লবণ ও চিনি। ফলে অতিরিক্ত লবণসমৃদ্ধ এসব খাবার গ্রহণের ফলে বাড়ছে হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকি। এবং অস্বাভাবিক মাত্রায় চিনিতে বাড়ছে আরেক অসংক্রামক ব্যাধি ডায়াবেটিসের ব্যাপকতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মান অনুযায়ী, দৈনিক একজন মানুষের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ গ্রাম লবণই যথেষ্ট। এর বেশি হলে উচ্চরক্তচাপসহ হূদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। কিন্তু  বাংলাদেশে এর চেয়ে বেশি লবণ পরিভোগ হচ্ছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বাংলাদেশে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, দেশে জনপ্রতি দৈনিক লবণ গ্রহণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশে জনপ্রতি দৈনিক লবণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯ গ্রামে। এ লবণের ৮০ শতাংশই আসছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য থেকে।

ডব্লিউএইচওর গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চরক্তচাপজনিত কারণে সারা বিশ্বে বছরে মারা যাচ্ছে প্রতি লাখে প্রায় ৩০০ জন। এ রোগে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, এমন ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। গত তিন দশকে বাংলাদেশে উচ্চরক্তচাপে ভোগা ও আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপক হারে। ১৯৮৩-৯৯ সাল পর্যন্ত দেশে উচ্চরক্তচাপে ভোগা মানুষ ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাবে তা ১৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

এদিকে সরকারি প্রতিবেদনেও দেশে উচ্চরক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে । স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া রোগীদের বড় অংশ উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৮ শতাংশ এতে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে উচ্চরক্তচাপে পুরুষের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নারীরা। রোগটিতে প্রায় ১৫ শতাংশ নারী আক্রান্ত হলেও পুরুষের মধ্যে এ হার প্রায় ৯ শতাংশ।

আর্থিক সামর্থ্যের বিবেচনায় আবার অতিদরিদ্রদের মধ্যে এর ব্যাপকতা তুলনামূলক কম। উচ্চ ও মধ্যবিত্তরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে রোগটিতে। ডায়াবেটিস ও স্থূলতার অন্যতম কারণ চিনি। দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তির সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সরাসরি চিনি থেকে গ্রহণের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডব্লিউএইচওর নীতিমালা অনুযায়ী, দৈনিক ছয় চা চামচ চিনি প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য যথেষ্ট।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রাইমারি হেলথকেয়ার) ডা. খালেদা ইসলাম জানান, খাদ্যাভ্যাসের কারণে অতিরিক্ত লবণ শরীরে প্রবেশ করায় অসংক্রামক ব্যাধি বেড়ে যাচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন খাবার চিপস, সস, পনির ও ফাস্টফুডে মাত্রাতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা হয়। এসব খাবারের সঙ্গে বাড়ছে লবণ গ্রহণের পরিমাণ। এতে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক বিভিন্ন রোগের দেশে ব্যাপকতা বাড়ছে। এখনই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: বণিক বার্তা


লাইফস্টাইল'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি