ঢাকা, বুধবার ২৮ জুন ২০১৭  ,
২১:৩৫:৪৭ জুন  ১৫, ২০১৭ - বিভাগ: ইসলাম


ইসলাম ধর্মে যাকাতের গুরুত্ব ও ফযীলত

মোস্তাফা হাবিব আহসান



ইসলাম ধর্ম পঞ্চস্তম্ভের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। ইসলাম ধর্ম যে পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত সেই পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ (৪র্থ স্তম্ভ) হলো যাকাত। জাকাত শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো বৃদ্ধি। ইসলামের পরিভাষায় জাকাতের অর্থ ধনী ব্যক্তিদের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিব দুঃখি মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দেয়াকে জাকাত বলা হয়। জাকাত একটি বিশেষ ধরনের দান। সংসারে বার্ষিক যাবতীয় খরচাদি বাদে যে টাকা বা সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকে সেই টাকা ও সম্পদের মূল্য হিসাব করে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক তার নির্দিষ্ট অংশ গরিব, দুঃখি মানুষদের মাঝে দান করে দেয়াকে যাকাত বলে। নগদ টাকার হিসাব বা নেছাব হলো কারো কাছে উদ্বৃত্ত যদি চল্লিশ টাকা থাকে সেই টাকার চল্লিশ ভাগের একভাগ অর্থাৎ এক টাকা জাকাত দিতে হবে। আর সোনার নেছাব হলো সাড়ে সাত তোলা এবং রৌপ্যের নেছাব হলো সাড়ে বাহান্ন তোলা অর্থাৎ এই পরিমাণের স্বর্ণ ও রৌপ্যের বর্তমান বাজার মূল্য ধরে সেই মূল্যের চল্লিশ ভাগের একভাগ জাকাত দিতে হবে। অপরদিকে ব্যবসায়ের পণ্যের মূল্য ও গৃহপালিত পশু থাকলেও সেগুলোর মূল্য ধরে শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী জাকাত দিতে হবে।
জাকাত দিলে সম্পদ বা অর্থ ধনী ব্যক্তির  হাতে পুঞ্জীভূত থাকে না। সমাজের গরিব দুঃখিদের মাঝে চলে যায়। এতে সমাজের অর্থনৈতিক উন্নতি হয়। এদিক থেকে বিবেচনা করলে জাকাত অর্থ ‘বৃদ্ধি’। নিয়মিত অর্থাৎ প্রতিবছর জাকাত দিলে দাতার অন্তর কৃপণতা থেকে মুক্তি পায়। ইসলামের দৃষ্টিতে ধনী ব্যক্তিদের সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার রয়েছে। কাজেই বছরে উদ্বৃত্ত অর্থ জাকাত হিসাবে বিলিয়ে দিলে বাকি অর্থ বা সম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। জাকাত দিলে দাতার অর্থ ও সম্পদের উপর মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ বরকত বর্ষিত হয়। পবিত্র কোরআন মজিদে উল্লেখ রয়েছে, জাকাতে দরিদ্রদের অধিকার রয়েছে। জাকাত দেওয়া মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন মজিদে সূরা যারিয়াত-এর ১৯ নম্বর পারাতে বলেছেন ‘তাদের (ধনীদের) ধন সম্পদে অবশ্যই দরিদ্র ও বঞ্চিতের অধিকার রয়েছে’।
ইসলামী সমাজে জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। যে সকল ব্যক্তির উপর জাকাত দেওয়া ফরজ করা হয়েছে তা যদি তারা আদায় না করেন বা দিতে অস্বীকার করেন তবে তারা ইসলাম ধর্ম থেকে খারিজ হয়ে যাবেন। রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদের প্রতি দুই রকম ইবাদত নির্দিষ্ট করেছেন। একটি হলো কায়িক, অপরটি হলো আর্থিক। নামাজ, রোজা ইবাদতসমূহ হচ্ছে কায়িক। আর জাকাত, ফিতরা হলো আর্থিক ইবাদত।
জাকাতের ফজিলত অনেক। জাকাত দিলে তার অবশিষ্ট অর্থ বা সম্পদ পবিত্র হয়ে যায় এবং এই অর্থ ও সম্পদের উপর মহান আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত বর্ষিত হয়। মহান আল্লাহ্ পাক আরও বলেছেন, জাকাত দানকারীদের আখিরাতে এত বেশি পরিমাণ পুরস্কার দেয়া হবে যে সে কখনো তা কল্পনাও করতে পারবে না। অতএব জাকাত দেওয়া প্রত্যেক ধনী বা অবস্থাপন্ন মুসলমানদের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা কর্তব্য এবং ইসলামের দৃষ্টিতে এটা জায়েজ কাজ।


ইসলাম'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি