ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২১:৩৩:১১ জুন  ১৫, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


১০ হাজার শিক্ষার্থীর মশক নিধন অভিযান

১০ হাজার স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষার্থীর একযোগে রাজধানীতে মশক নিধনের কর্মসুচি যদি বাস্তবায়িত  হয় তবে তা হবে এ ধরনের প্রথম ঘটনা। আমরা আশা করি, ১০ হাজার শিক্ষার্থীর এই অভিযান এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসসহ জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গভীর অবদান রাখবে



এ ক মূর্তিমান যন্ত্রণার নাম মশা। এই ক্ষুদ্র প্রাণীটি শুধু মানুষকে কামড়িয়ে বিরক্ত করে না, কয়েকটি রোগের জীবানুও বহন করে। একসময় মানুষ জানতো মশার কামড়ে শুধু ম্যালেরিয়া রোগ হয়। কিন্তু কালে কালে মানুষ জানতে পারে একেক মশার কামড়ে একেক রোগ হয়। যেমন এনোফিলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া, কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া, এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ হয়। ম্যালেরিয়ার প্রকোপে একসময় সারা বাংলার মানুষ তটস্থ ছিল। এই রোগে প্রাণহানির সংখ্যা কম ছিল না। কিন্তু মশক নিধনে সর্বাÍক ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে ম্যালেরিয়া দেশ থেকে প্রায় উচ্ছেদ হয়ে যায়। অবশ্য এখনো আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। এরপর দেশে শুরু হয় ডেঙ্গুর প্রকোপ, যে রোগের কথা মানুষ আগে জানতো না। বর্তমান শতকের শুরুতে রাজধানীতে শুরু হয় ডেঙ্গুর প্রকোপ। শত শত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। মৃত্যুও হয় অনেকের। জনসচেতনতা বাড়ার কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ বছর রাজধানীতে চিকুনগুনিয়া রোগে বেশ কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগটি প্রাণঘাতি নয়, তবে যন্ত্রণাদায়ক। চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশা বৃদ্ধির কারণে এ রোগ ছড়াচ্ছে। রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে মশক নিধনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এমনি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এডিস মশার প্রজনন স্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ, চিকনগুনিয়া সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার জন্য ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আগামীকাল ১৭ জুন ঢাকার ৯২টি স্থানে ঢাকার বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ, বিভিন্ন নার্সিং ইনস্টিটিউট, প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউট, হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, জনস্বাস্থ্যবিষয়ক øাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হেলথ টেকনোলজি এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখাপড়া করছেন এমন শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে থাকবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইডিসিআর) এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই কর্মসূচিতে সহায়তা করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রমতে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলবে।
১০ হাজার স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষার্থীর একযোগে রাজধানীতে মশক নিধনের কর্মসুচি যদি বাস্তবায়িত  হয় তবে তা হবে এ ধরনের প্রথম ঘটনা। আমরা আশা করি, ১০ হাজার শিক্ষার্থীর এই অভিযান এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসসহ জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গভীর অবদান রাখবে। তাছাড়া অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও মশক নিধনে উৎসাহিত হবে। তবে এ ধরনের কর্মসূচি কিছুদিন পরপর গ্রহণ করলে জনগণ যেমন মশাবাহিত রোগের হাত থেকে মুক্তি পাবে, তেমনি মশার জ্বালাতন থেকেও রক্ষা পাবে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি