ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২১:৩২:৪০ জুন  ১৫, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


জনবান্ধব খাদ্যনীতি জরুরি

আগেই সরকারের আপৎকালীন মজুদ গড়ে তোলা উচিত ছিল। অপর্যাপ্ততার কারণে হঠাৎ করে দেশে চালের মূল্য আরো বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এ নিয়ে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে



স রকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৮৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল কিনবে। এর মধ্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও দুই লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল। এলসি খোলার ১৫ দিনের মধ্যে দু’টি জাহাজ উভয় ধরণের চাল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ভিয়েতনাম বন্দর ছাড়বে। বাকি চাল ৬০ দিনের মধ্যে দেশের বন্দরে এসে পৌঁছাবে। দেশে বর্তমানে সরকারের কাছে মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন চাল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের হাতে আপৎকালীন সময় মোকাবিলার জন্য কমপক্ষে ১০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা প্রয়োজন। সম্প্রতি দেশের হাওর অঞ্চলের ব্যাপক এলাকায় বাঁধ ভেঙে প্রায় ঘরে তোলার উপযোগি যে ধান ডুবে গেছে তাতে দেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু সরকার প্রতি বছর যে পরিমাণ চাল ও গম চাষীদের উৎপাদন থেকে সংগ্রহ করবে বলে মনে করা হয়েছিল সে পরিমাণ মজুদ সরকার গড়ে তুলতে পারেনি। এ কারণে হঠাৎ করে দেশে খাদ্য মজুদ নিয়ে শংকার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বর্তমান চাহিদা মোকাবিলা করতে তাই সরকার ভিয়েতনাম থেকে চাল সংগ্রহ করছে। এ ছাড়াও সূত্রে প্রকাশ, ভিয়েতনাম থেকে আরো ১ লাখ টন ও থাইল্যান্ড থেকে আরো ৪ লাখ টন চাল আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে সাবলম্বী দেশের তকমা পেয়েছিল। কয়েক হাজার টন চালও রপ্তানি করেছিল। সেই চাল রপ্তানীকারক দেশ এখন কেন এতো বেশি চাল আবারো বিদেশ থেকে আমদানী করছে, কারণটি খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। এর মূলে রয়েছে, সরকারের সঠিক খাদ্যনীতি ও মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্যের অভাব।
আগেই সরকারের আপৎকালীন মজুদ গড়ে তোলা উচিত ছিল। অপর্যাপ্ততার কারণে হঠাৎ করে দেশে চালের মূল্য আরো বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এ নিয়ে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে। চাল আমদানিতে দেশের ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য বর্তমানে সরকারের ২৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। বিষয়টি নিয়েও সরকারের ভাবা দরকার। বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি করতে এতো বেশি কর কমিয়ে আনার কথাও সরকার বিবেচনা করতে পারে।
বিষয়টিকে যেভাবেই দেখা যাক না কেন, সরকারের বর্তমান আশু কর্তব্য হবে, কঠোর হাতে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখা। দেশে এখনো ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের হাতে বেশ কয়েক টন চাল রয়েছে। সরকারকে দেশে মাঠ পর্যায়ে মোট কতো পরিমাণ চাল রয়েছে তারও একটি সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি করে সামনের নতুন ধান না ওঠা পর্যন্ত একটি জনবান্ধব খাদ্যনীতি তৈরি করে দেশের মানুষকে স্বস্তির মধ্যে রাখতে হবে।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি