ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২০:০২:৩৯ জুন  ১৪, ২০১৭ - বিভাগ: সম্পাদকীয়


পাহাড়ে মৃত্যুর ছোবল

পাহাড়িরা দীর্ঘকাল এসব পাহাড়ে বাস করলেও পাহাড়ে ভূমিধস হয়নি।
কিন্তু যখন পাহাড় কেটে রাস্তা বানানো হল, কিংবা সমতলের মানুষ
পাহাড় কেটে বসতি গড়ল, তখন থেকেই ভূমি ধসের শুরু





পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ১৪০ জন। আশংকা করা হচ্ছে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে শতাধিক। গত সোমবার ও মঙ্গলবারের প্রবল বৃষ্টিতে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে নানা জায়গায় পাহাড়ে ধস নামে। এর আগেও কয়েকদিন ধরে বেশ বৃষ্টি হচ্ছিল। পাহাড়ের মাটি এই বৃষ্টিতে নরম হয়ে ভূমিধসের সৃষ্টি করে। আর এইসব পাহাড়ের কোল ঘেঁষে যারা বাস করত, মাটির নিচে চাপা পড়ে তাদের অনেকে মারা যান।
যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন সেনা ক্যাম্প থেকে সেনা সদস্যদের পাঠানো হয়। মানিকছড়ি ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর একটি দল চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের মানিকছড়িতে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে গেলে তাদের ওপরই পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। মূল সড়ক থেকে তারা ৩০ ফিট নিচে পড়ে যায়। খবর পেয়ে একই ক্যাম্প থেকে আরেকটি দল আসে। তারা দুই কর্মকর্তাসহ চার সেনা সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ছাড়া ১০ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘকাল ধরে নিয়ম না মেনে দেশের নানা জায়গায় টিলা কেটে বসতি স্থাপন করা হচ্ছে। বেশির ভাগ টিলা বালুতে তৈরী হওয়ায় প্রবল বৃষ্টির কারণে টিলাগুলিতে ধস নামে। সমতলের বাঙালিরা এসব টিলা কেটে বসত গড়ে তুলছে। পাহাড়িরা দীর্ঘকাল এসব পাহাড়ে বাস করলেও পাহাড়ে ভূমিধস হয়নি। কিন্তু যখন পাহাড় কেটে রাস্তা বানানো হল, কিংবা সমতলের মানুষ পাহাড় কেটে বসতি গড়ল, তখন থেকেই ভূমি ধসের শুরু। পাহাড়িরা জানে কিভাবে পাহাড়ে ঘর বানাতে হয়। কিন্তু অতিলোভী সমতলের মানুষের তা জানা নেই। ফলে তারা ইচ্ছেমত পাহাড় কাটে আর ঘর তুলে উদ্বাস্তুদের বসিয়ে দেয়। উদ্বাস্তুরা খোঁজে আশ্রয় আর দখলদাররা খোঁজে টাকা।
২০০৭ সালে প্রথম বড় ধরণের ভূমিধসের  ঘটনা ঘটে। এ সময় ভূমিধসে মারা যায় ১২৭ জন। তখন থেকেই ভূমিধসের কারণগুলি চিহ্নিত করে পাহাড় কাটা বন্ধ রাখার ওপর জোর দেয় অভিজ্ঞ মহল। কিন্তু পাহাড় কাটা থেমে থাকেনি। পরবর্তী বছরগুলিতে ভূমিধসে মানুষ মারা গেলে আবারো বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ২০১৬ সাল বাদ দিলে পূর্ববর্তী বছরগুলিতে নিয়মিত ভূমিধসে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালই ব্যাতিক্রম। চলতি বছরে আবার বিরাট ভূমিধসে স্মরণাতীত কালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। আগামীতে যাতে এরকম দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু আর না ঘটে সে বিষয়ে এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন কঠোর শাস্তির বিধান করে পাহাড় কাটা বন্ধে আইন প্রণয়ন।


সম্পাদকীয়'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি