ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
২৩:৩৬:০৭ জুন  ১২, ২০১৭ - বিভাগ: ফরিদপুর


পদ্মার গর্ভে ৫৫ বাড়িঘর

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে ভাঙনের শিকার হয়ে ২১টি পরিবারের ৫৫টি ঘর চলে গেছে পদ্মা নদীর গর্ভে। একই সাথে বিলীন হয়ে গেছে সোয়া ১১ একর জমি। বিলীন হয়েছে ৩০০ মিটার সড়ক। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে আরও ১০টি পরিবারের ২৪টি বাড়ি। ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাত্তার বিশ্বাসের ডাঙ্গি ও শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গিতে গত চার দিনে ঘটেছে এ ঘটনা। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে সাত্তার বিশ্বাসের ডাঙ্গি এলাকায় গত মঙ্গলবার থেকে এ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ৬ দিনে ওই এলাকার বিশ্বাসের ডাঙ্গি মসজিদসহ ১৬টি পরিবারের ৩৩টি বাড়ির ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সাথে ওই এলাকার ৫টি পরিবারের ৮ একর ৯১ শতাংশ জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে হয়েছে। সরেজমিনে সাত্তার বিশ্বাসের ডাঙ্গি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে উত্তাল নদীর স্রোতে তীব্রবেগে ছুটে আছড়ে পড়ছে। আর পাড়ের মাটি ঝুপ ঝুপ করে ধসে পড়ছে। মাঝে মাঝে বড় বড় চাই বিরাট শব্দ করে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর ওই অংশে প্রায় সাড়ে ৯০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ৪০০ মিটার চওড়া হয়ে দেখা দিয়েছে এ ভাঙন। ভাঙনের হুমকির মুখে মানুষজন তাদের ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। এলাকাবাসী বলেন, ভাঙনের মুখে পড়ে ওই এলাকার পাঁচ কৃষকের প্রায় ৯ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা এক বৃদ্ধা বলেন, এবার নিয়ে আমার বাড়িঘর ১৯ দফা ভাইঙ্গা গেল। এহন কোথায় যাব, সে জায়গাডাও নাই। একই গ্রামের কবীর ব্যাপারী বলেন, আমার ১২ বিঘা ফসলি জমি নদীতে ভেঙে গেছে। তিন বছর আগে ভেঙে গেছে আরও ২৫ বিঘা। আমার আর কোনো জমি নাই, আমি নিঃস্ব হইয়া গেছি। এদিকে পদ্মা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গিতে গত ৪ দিনে ৫টি পরিবারের ২২টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একসাথে বিলীন হয়ে গেছে ওই পরিবারগুলোর ২ একর ২৭ শতাংশ জমি। নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিন্না বিশ্বাস অভিযোগ করেন, দুই মাস ধরে একটি চক্র সাত্তার বিশ্বাসের ডাঙ্গি এলাকায় নদীতে খননযন্ত্র বসিয়ে অবৈধভাবে বালু কেটে নিয়েছে। এর জন্যই ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ভাঙনের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব। এ ভাঙন শহররক্ষা বাঁধ ও মন্ত্রীর প্রতিশ্র“ত প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহলে এ ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রভাংশু সোম বলেন, এ ভাঙন সম্পর্কে আমি জানি। আজই আমি উপজেলা ত্রাণ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ করে তাকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


ফরিদপুর 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি