ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৪:৩৫:৩১ জুন  ১১, ২০১৭ - বিভাগ: স্বাস্থ্য


জরায়ুর ফাইব্রয়েডের লক্ষণ ও চিকিৎসা

Image

জরায়ুর ফাইব্রয়েডকে চিকিৎসাগতভাবে ইউটেরাইন লেইয়োমায়োমাটা বলে। এটি জরায়ুর প্রাচীরের একটি বৃদ্ধিজনিত সমস্যা, কিন্তু এটি ক্যান্সার সৃষ্টি করেনা। এই ফাইব্রোয়েডগুলো পেশীর কোষ এবং অন্যান্য কলা দিয়ে গঠিত। এর আকার একটি মটর দানার মত এবং ৫-৬ ইঞ্চি চওড়া হয়। আমেরিকার অফিস অন ওমেনস হেলথ (OWH) এর মতে, কোথায় জন্মায় এর উপর ভিত্তি করে ফাইব্রয়েডকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেন। সাবমিউকোসাল ফাইব্রোয়েডস জরায়ুর গহবরে বৃদ্ধি পায়। ইন্ট্রামুরাল ফাইব্রোয়েড জরায়ুর দেয়ালে বৃদ্ধি পায়। সাবসেরোসাল ফাইব্রোয়েড জরায়ুর বাইরে  উৎপন্ন হয়।

OWH এর মতে, ৭০-৮০ শতাংশ নারীর ফাইব্রয়েড উৎপন্ন হয় ৫০ বছর বয়সে। কতজন নারীর ফাইব্রয়েডের সমস্যা আছে তা সঠিকভাবে বলা যায় না, কারণ অনেকেরই কোন লক্ষণই প্রকাশ পায় না। আমেরিকান জার্নাল অফ অবস্টেট্রিক্স এন্ড গাইনেকোলজি এ প্রকাশিত ডি ডি বেইরড এর করা ২০০৩ এর গবেষণায় জানা যায় যে, ৩৫-৪৯ বছরের আমেরিকান নারীদের ১০০০ এর বেশি এই দলের বাহিরে হয়, বয়সের সাথে সাথে ফাইব্রয়েড হয়, মেনোপোজের পূর্বে ৩৫ শতাংশ নারীর ফাইব্রয়েড তৈরি হয়। OWH এর মতে, ফাইব্রয়েড সবসময় বিনাইন ধরনের হয়। বিরল ক্ষেত্রে ক্যান্সারাস ফাইব্রয়েড হয়। বিনাইন ফাইব্রয়েড থাকলেই তা ক্যান্সারাস ফাইব্রয়েড বা জরায়ুর অন্য ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করেনা।

কারণ

OWH এর মতে, ইউটেরাইন ফাইব্রোয়েডের সঠিক কারণ জানা যায়নি। কিন্তু মনে করা হয় যে, ডিম্বাশয়ে উৎপন্ন হরমোন যেমন- ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন এবং ব্যক্তির জিন এদের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষকেরা মনে করেন যে, ফাইব্রোয়েড বৃদ্ধি পায় ডিম্বাশয়ের হরমোনের কারণে। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগে খুব কম নারীরই ফাইব্রোয়েড হয় এবং ফাইব্রোয়েড গর্ভাবস্থার  সময় বৃদ্ধি পায় এবং মেনোপোজের পরে সংকুচিত হয়ে যায়।

বাল্টিমোর এর মার্সই মেডিকেল সেন্টারের ডা. কেভিন অডলিন বলেন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ফাইব্রয়েডের বৃদ্ধিকে ধীর গতির করতে পারে। উচ্চমাত্রার ইস্ট্রোজেনযুক্ত খাবার যেমন- সয়া, লাল  মাংস এবং সবুজ শাকসবজি ফাইব্রোয়েডের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এই খাবারগুলো গ্রহণ করা বাদ দিয়ে দিলে ফাইব্রয়েডের বৃদ্ধিকে বন্ধ করা যাবেনা বা প্রতিরোধ করা যাবেনা, কিন্তু বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির হতে সাহায্য করবে।

লক্ষণ

অনেক নারীর ক্ষেত্রেই ফাইব্রয়েডের কোন লক্ষণ দেখা যায় না। সাবমিউকোসাল ফাইব্রোয়েড জরায়ুর মাসিক রক্তপাতকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে পরিবর্তিত করে দেয়, যার ফলে দীর্ঘায়িত হয় মাসিকের  সময়। সাবমিউকোসাল ফাইব্রোয়েডের কারণে বন্ধাত্ত বা গর্ভপাতের সমস্যা হতে পারে।

ইন্ট্রামোরাল এবং সাবসেরোসাল ফাইব্রোয়েডের ক্ষেত্রে পিরিয়ড বেশি হওয়ার লক্ষণ দেখা যায় না। তারা এমন স্থানে হয় যে এর উপর ক্রমাগত চাপ পরে, ঘন ঘন প্রস্রাব হয়, মল নির্গমনে সমস্যা হয়, পিঠের নীচের অংশে ব্যথা হয় এবং শ্রোণি অঞ্চলে ব্যথা হয়।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ এর মতে, ফাইব্রয়েডের কারণে অ্যানেমিয়া হয়, ক্লান্ত লাগে, যদি পেঁচিয়ে যায় তাহলে রক্তনালী ও স্নায়ুকে ব্লক করে দিতে পারে। যার ফলে তীব্র ব্যথা হয়।

শনাক্তকরণ

আল্ট্রাসাউন্ড, কন্ট্রাস্টহিস্টেরোসনোগ্রাফি, এমআরআই, হিস্টেরোস্কপি এর মাধ্যমে ফাইব্রোয়েড নির্ণয় করা যায়।

জটিলতা

ইন্ট্রামোরাল এবং সাবসেরোসাল ফাইব্রোয়েড আছে যাদের তারা স্বাভাবিক গর্ভধারণ করতে পারে। কিন্তু গর্ভাবস্থার জটিলতা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। মায়ো ক্লিনিকের মতে কিছু নারীর গর্ভাবস্থার ২য় ও ৩য় তিন মাসে ব্যথার সমস্যা হতে দেখা যায়।

চিকিৎসা

ফাইব্রোয়েডের সাথে সম্পর্কিত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঔষধ দেয়া হয় বা অপারেশনের পরামর্শ দেয়া হয়।         

সূত্র: লাইভ সায়েন্স


স্বাস্থ্য 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি