ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২৩:২৫:১১ জুন  ০৮, ২০১৭ - বিভাগ: শিক্ষা


বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
নবম ও দশম শ্রেণি

Image

সময়ের শিক্ষা ডেস্ক

সপ্তম অধ্যায়- সৃজনশীল প্রশ্ন: উদ্দীপকটি পড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: দিলারার দল আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তার দেশের সরকারপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ লাভ করেছিল। দিলারার দেশটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় এবং দেশটির সরকারপ্রধানই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি যেকোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে পারেন এবং তাঁর ইচ্ছামতো যেকোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রী পদে নিয়োগও দিতে পারেন। তিনি মন্ত্রিসভার মূল স্তম্ভ। তাঁকে কেন্দ্র করেই শাসন ক্ষমতা পরিচালিত হয়। ক) বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে? খ) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদি ক্ষমতা ব্যাখ্যা করো। গ) দিলারার যার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল তার পদমর্যাদা ব্যাখ্যা করো। ঘ) দিলারার দেশের সরকার প্রধানের ক্ষমতা ও কার্যাবলীর রয়েছে অনেক গভীরতর উত্তরের পক্ষে তোমার যুক্তি তুলে ধরো। উত্তর: ক) বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে। খ) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ তার আদি ক্ষমতা বলে মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। কোনো ব্যক্তিকে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে অথবা কোনো কাজ করাকে বেআইনি ঘোষণা করতে পারে। গ) দিলারার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল। নিম্নে প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা ব্যাখ্যা করা হলো। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি সংসদ নেতা, মন্ত্রিসভার প্রধান এবং তিনিই মন্ত্রিসভা গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা সংসদের আস্থা হারালে সরকারের পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হলেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার মূল স্তম্ভ। প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই শাসনক্ষমতা পরিচালিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তাঁর শাসন পরিচালনার জন্য সংসদের কাছে জবাবদিহি করেন। ঘ) উদ্দীপক থেকে জানা যায়, দিলারার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল। নিম্নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যাবলী আলোচনা করা হলো। ১। শাসনবিষয়ক ও নির্বাহী ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রী পুরো শাসনব্যবস্থার কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান করেন। সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেন। সব নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। ২। আইনসংক্রান্ত ক্ষমতা: আইন প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় সংসদে সরকারি বিলের পৃষ্ঠপোষকতা করেন তিনি। ৩। সংসদ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রী সংসদের নেতা, প্রধানমন্ত্রী সংসদের সাফল্যজনক পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। ৪। অর্থবিষয়ক ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রী আর্থিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে উত্থাপন করেন। ৫। রাষ্ট্রীয় কাজের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী যেহেতু প্রশাসনের কেন্দ্রে অবস্থিত, তাই সব মন্ত্রণালয়, দফতর ও অধিদফতরের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধনে প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৬। জাতির মুখপাত্র হিসেবে প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নেতৃত্ব প্রদান করেন। তিনি জাতির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন।


শিক্ষা 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি