ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২০:৩১:০৪ জুন  ০৮, ২০১৭ - বিভাগ: সিলেট


সবর্স্ব হারানো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বাঁধে
মনুর ভাঙনে নিঃস্ব ৫০ পরিবার

Image

আশীষ কুমার ধর, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)

মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে সৃষ্ট ভাঙনের মুখে সর্বস্বহারা কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ও ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের কমপক্ষে ৫০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধে। আশ্রিত এসব মানুষের দিন কাটছে অনাহারে অর্ধাহারে। নদের পানি কমলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ। বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। প্রতিরক্ষা বাঁধে সৃষ্ট ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি। টিলাগাঁও ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রিত আসুক মিয়া, উস্তার মিয়া, শাহাব উদ্দিন, আনাছ মিয়া, খালিক মিয়া, মনির মিয়া, তকলিফ মিয়া, মজিদ মিয়া, ফরিদ মিয়া, ইউছুফ মিয়া, আখলাছ মিয়া, ইব্রাহিম আলী, আইয়ুব আলী, উছমান মিয়া, কুদ্দুছ মিয়া এবং শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রিত মুসলিম মিয়া, তসলিম আলী, তাজুল ইসলাম জানান, পানির সে াতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। কতদিন এই প্রতিরক্ষা বাঁধে থাকতে হবে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। ইউনিয় পরিষদের তরফ থেকে কিছু চিড়াগুড় পেয়েছিলেন। আর কোনো সহায়তা তারা পাননি। নদের পানি কমেছে। পানি নামছে বাড়িঘর থেকে। কিন্তু বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষ এখনই ফিরতে পারছেন না নিজ বাড়িতে। কেননা বাড়িঘর মেরামত করে তারপর ফিরতে হবে। তবে অনিশ্চয়তা হলো ভাঙন এলাকাগুলো মেরামত করা না হলে, বৃষ্টিপাত হলেই ফের ভাঙন দিয়ে পানি বের হবে। ফলে আগে ভাঙন মেরামত করার দাবি এসব বানভাসি মানুষের।
টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মালিক জানান, মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে মিয়ারপাড়া ও বলাকান্দি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত কমপক্ষে ২৫টি পরিবার প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সৃষ্ট ভাঙনে ১৫-২০টি পরিবার প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। ত্রাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি ত্রাণ বুধবার বিকেলে পর্যন্ত ইউনিয়নে গিয়ে পৌঁছবে। এরপর সেগুলো বিতরণ করা হবে। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি জানান, ত্রাণ হিসেবে কুলাউড়া উপজেলায় দুর্গত মানুষের জন্য মাত্র ৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। দ্রুত যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানগণকে বলা হয়েছে। এদিকে কুলাউড়া উপজেলার মনু ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, তাৎক্ষণিকভাবে আমার হাতে যা ছিল, সবটাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ দিয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেছি। বরাদ্দ এলেই দ্রুত তা দেওয়া হবে।


সিলেট'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি