ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
২১:৫৫:২৬ জুন  ০৭, ২০১৭ - বিভাগ: ময়নামতি


ঈদে বেড়েছে কুমিল্লার খাদির

Image

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ কুমিল্লার খাদি শিল্প আদি ও অনন্তকাল ধরে দেশে ও দেশের বাইরে ব্যাপক জনপ্রিয়। পোশাকপ্রেমী ও সৌন্দর্য পিপাসুদের কাছে ‘কুমিল্লার খাদি’ একটি অতিপরিচিত ব্রান্ড। প্রথমদিকে সংগ্রামী খেটে খাওয়া, গরিব, মাটি ও মানুষের পছন্দের পোশাক ছিল কুমিল্লার খাদি। শতবর্ষের লালিত ঐতিহ্যের খাদি মূলত আলোচনায় আসে ১৯২১ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়। সে সময় মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে গোটা ভারতবর্ষে অসহযোগ আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। বরাবরের মতো এবার ঈদেও এই কাপড়ের জামার বিক্রি ভালো যাচ্ছে। রোজার আগেই খাদির থান কাপড় বিক্রির বাজার বেশ ভালো ছিল।
কুমিল্লার কান্দিরপার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটা সময় বাঙালি জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যে ও সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়ায় ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লার খাদি শিল্প। এটা ঈদের সময় প্রায় এক দশক ধরে আবারো এই খাদির পুরোনো ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে। কুমিল্লার কান্দিরপাড়স্থ ঐতিহ্যবাহী খাদি বস্ত্রবিতানের অন্যতম কর্ণধার ফেরদৌস হোসেন খন্দকারের সাথে কথা হয়। প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন। বর্তমানে খাদির অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে একটু বাড়লেও, যতটা বাড়ার দরকার ততটা বাড়েনি। যদিও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সারা বাংলাদেশ থেকে এখানে আসছে। আগ্রহ দেখাচ্ছে। তার মতে, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, কক্সবাজার, রংপুরসহ প্রায় সারা দেশেই খাদির চাহিদা আছে।
আর বিদেশের বাজারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিদেশের বাজারেও মোটামুটি খাদির চাহিদা মন্দ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ ইউরোপ আমেরিকার অনেক দেশেই খাদির তৈরি পোশাক রফতানি হচ্ছে। সমস্যা হলো, আগের তুলনায় পরিবহন খরচটা প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। প্রতি কেজি কাপড়ের বিপরীতে প্রায় ১৫০০-২০০০ টাকা খরচ গুনতে হয়। এখানেই আমাদের নাভিশ্বাস ওঠে যাচ্ছে। কোন ধরনের পোশাকের বাজারে চাহিদা বেশি। পুরুষের পায়জামা পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও শার্টের পাশাপাশি মহিলাদের শাড়ি থ্রিপিস ও সেলোয়ার কামিজ। কুমিল্লার চান্দিনা, রামচন্দ্রপুর ও দেবপুরকে ঘিরে মূলত বৃহৎ খাদি পল্লী গড়ে ওঠেছে। ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এ শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অবশ্য তার আশা ততটা নেই। তার মতে, এখন দেশীয় বাজারে বিদেশি কাপড়ে সয়লাব। নতুন প্রজন্ম ওদিকে ঝুঁকে পড়েছে। এভাবে অব্যাহত চলতে থাকলে এই শিল্প অচিরেই হারিয়ে যাবে। যদিও এ শিল্পের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে নিজেকে খুব গর্বিত মনে করছি। কিন্তু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আর্থিক সাহায্য ও মানুষের বিদেশি পোশাকনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনই পারে এ শিল্পটাকে বাঁচাতে।
কুমিল্লার খাদি শিল্প আজ ক্রমশ হারিয়ে যেতে চলেছে। একসময়ের এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে আজ আর্থিক অভাব-অনটনে জর্জরিত হয়ে এখন অন্যান্য পেশা বা ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কেউ কেউ আবার এ শিল্পটাকে পরম যতœ, ভালোবাসা ও আবেগে বুকে আগলে ধরে এখনো মাটি কামড়ে পড়ে আছেন। অথচ একটুখানি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সাহায্যের খাদি বা খদ্দর শিল্পকে বাঁচাতে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সর্বাগ্রে আমাদের সবচেয়ে বেশি সচেতন ও কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে।


ময়নামতি'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি