ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
২১:১৯:২৮ জুন  ০৩, ২০১৭ - বিভাগ: শিক্ষা


বাংলা প্রথম পত্র
সপ্তম শ্রেণির লেখাপড়া

Image

সময়ের শিক্ষা ডেস্ক

আমার বাড়ি: জসীমউদ্দীন। সৃজনশীল প্রশ্ন- উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়, গাছের ছায়ায় লতায়-পাতায় উদাসী বনের বায়, মায়া-মমতায় জড়াজড়ি করি মোর দেহখানি রহিয়াছে ভরি, মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়। (ক) ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় কাজলা দিঘির কাজল জলে কী ভাসে? উত্তর: ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় কাজলা দিঘির কাজল জলে হাঁসগুলো ভাসে। (খ) ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় কবি বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কেন? উত্তর: ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় কবি বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আপ্যায়ন করার জন্য। ‘আমার বাড়ি’ কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন তাঁর শহুরে কোনো বন্ধু বা প্রিয়জনকে গ্রামের বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছেন পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি তাকে বিভিন্নভাবে আপ্যায়ন করবেন বলে। গ্রামের মানুষজন যা দিয়ে অতিথিকে আপ্যায়ন করে তা হলো শালি ধানের চিড়া, বিন্নি ধানের খই, বাড়ির গাছের কবরী কলা ও হাতে পাতা ঘন দই দিয়ে। কবি ওই সব খাবার দিয়ে বন্ধুকে আপ্যায়নের সাথে সাথে তার আনন্দ, বিনোদন ও বিশ্রামের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থাও করে রাখবেন, যাতে সব কিছু দেখে বন্ধু মুগ্ধ ও পরিতৃপ্ত হয়। (গ) উদ্দীপকের প্রথম চরণের সাথে ‘আমার বাড়ি’ কবিতার কোন অংশের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো। উত্তর: উদ্দীপকের প্রথম চরণের সাথে ‘আমার বাড়ি’ কবিতার পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য ও এর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যের সাথে মিল রয়েছে। ‘আমার বাড়ি’ কবিতার কবি তাঁর শহুরে প্রিয়জনকে নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আপ্যায়নের পাশাপাশি নিজের ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে নিয়ে যাবেন আনন্দ-বিনোদনের জন্য। সেখানে কবি তাঁর প্রিয়জনকে আম-কাঁঠালের বনের ধারে আঁচল পেতে শুয়ে থাকার ব্যবস্থা করবেন আর গাছের শাখা দুলিয়ে তাকে সারা রাত ধরে বাতাস করবেন। চাঁদের স্নিগ্ধ আলো তাঁর বন্ধুর সুন্দর মুখে সুখের পরশ বুলিয়ে দেবে আর রাতের আকাশের অসংখ্য তারাফুল দিয়ে মালা গেঁথে বন্ধুর বুকে জড়িয়ে দেবেন। পরদিন সকালে গাভির দুধ দোহানোর শব্দে বন্ধুর ঘুম ভেঙে গেলে কবি তাকে নিয়ে সারা দিন খেলা করবেন। তাঁদের বাড়ির ডালিমগাছে থোকা থোকা ফুটে থাকা ডালিম ফুল দেখলে মনে হয় যেন হাসছে, আর দিঘির গভীর কালো জলে হাঁসগুলো কেমন করে ভেসে বেড়ায়, এ সবই বন্ধুকে দেখাবেন। কবির বাড়ি যাওয়ার পথে কবি-বন্ধু যেখানে মৌরি ফুলের সুগন্ধ পাবে, সেখানেই যেন তার যাত্রা শেষ করে অর্থাৎ সেখানেই কবির বাড়ি। উদ্দীপকের কবি তাঁর শহুরে বন্ধুকে তাঁদের ছোট গাঁয়ে যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করেছেন। তাঁদের গ্রামও গাছ-গাছালির ছায়ায়, লতায়-পাতায় ঢাকা, আর সেই বনের ওপর দিয়ে উদাসী বাতাস বয়ে যায়। উদ্দীপকের প্রথম চরণের এই অংশের সাথে ‘আমার বাড়ি’ কবিতার উপর্যুক্ত অংশের মিল আছে। (ঘ) উদ্দীপক ও ‘আমার বাড়ি’ কবিতার ভাবার্থ কি এক? বিশ্লেষণ করো। উত্তর: উদ্দীপক ও ‘আমার বাড়ি’ কবিতার কবি উভয়ে শহুরে বন্ধুকে নিজেদের গ্রামে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্যÑ এই অর্থে ভাবার্থ এক। তবে ‘আমার বাড়ি’ কবিতার কবি জসীমউদ্দীন শুধু বন্ধুকে গ্রামের সৌন্দর্য দেখাবেন আর আন্তরিকতার বন্ধনের কথা বলেই শেষ করেননি। তিনি কিভাবে বন্ধুকে আপ্যায়ন করবেন তারও বিবরণ দিয়েছেন। যেমন- শালি ধানের চিড়া, বিন্নি ধানের খই, বাড়ির গাছের কবরী কলা ও গামছা বাঁধা দই খাওয়াবেন। যুগ যুগ ধরেই অতিথি আপ্যায়নে বাঙালির যে সুনাম রয়েছে, তা গ্রামবাংলার মানুষের মধ্যে আরও বেশি প্রকাশ পায়। উদ্দীপকে শুধু শহুরে বন্ধুকে গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়ে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে থাকার কথা বলা হয়েছে। ‘আমার বাড়ি’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্য উঠে আসেনি। তাই উভয় ক্ষেত্রে শহুরে বন্ধুকে গ্রামীণ পরিবেশে আমন্ত্রণ জানানোর দিকটির মিলই শুধু পরিলক্ষিত হয়, সম্পূর্ণ ভাব অর্থাৎ অতিথিকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সৌজন্য, শিষ্টাচার ও মানব প্রেমের দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।


শিক্ষা 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি