ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
১০:৩৯:২৬ জুন  ০১, ২০১৭ - বিভাগ: ইসলাম


ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

Image

রমজানের রোজায় সাহরি খাওয়া যেমন সুন্নত, তেমনি আরেকটি সুন্নত হলো দ্রুত ইফতার করা। রোজাদারের ইফতার করার ক্ষেত্রে বিধান হল- সূর্য অস্ত যেতে হবে এবং রাত শুরু হতে হবে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন- ‘আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।’ –(সূরা বাক্বারাহ, ১৮৭)

রোজাদারের জন্য সুন্নত হলো অবিলম্বে ইফতার করা। সাহ্‌ল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘মানুষ ততদিন পর্যন্ত কল্যাণে থাকবে যতদিন তারা অবিলম্বে ইফতার করবে।’ (বোখারী, ১৮৫৬) ও (মুসলিম, ১০৯৮)

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন- ‘যখন এখান থেকে রাত্রির আগমন ঘটে ও ওখান থেকে দিন চলে যায় এবং সূর্য অস্ত যায় তখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে।’ –(বোখারি ও মুসলিম)। তাই ইফতারের আদব হল সূর্য অস্ত যাওয়া মাত্রই তাড়াতাড়ি ইফতার করা।

তিনি আরো বলেছেন- ‘যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন দ্বীন বিজয়ী থাকবে। কেননা ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা ইফতারিতে দেরি করে।’ -(আবু দাউদ)

রাসূলে করিম (সা.)-এর সাহাবিগণ তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে কত যত্নবান ছিলেন সেটা লক্ষণীয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের মাঝে কিছু শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন, অনেকে নিশ্চিত হয়েছেন যে সূর্যাস্ত হয়েছে তারপরও ইফতার শুরু করার জন্য আজানের অপেক্ষা করেন। আবার অনেকে মনে করেন সূর্য ডুবে গেছে কিন্তু মাগরিবের আজান না শুনে ইফতার করব কীভাবে ? আবার অনেকে আজান শোনার পর ইচ্ছে করেই সতর্কতা অবলম্বন করতে যেয়ে কিছুক্ষণ বিলম্ব করেন। অনেক সময় আজান হয়ে যাওয়ার পর দোয়া-প্রার্থনা করতে দেখা যায়। এসব পরিহার করা উচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা কর্তব্য।

যা দ্বারা ইফতার করা মোস্তাহাব : আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) সালাতের পূর্বে তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না পাওয়া যেত তবে শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুর না পাওয়া যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন।’

এ হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ইফতারির আদব হল: মাগরিবের সালাতের পূর্বে ইফতার করা। তাজা খেজুর বা শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করা। খেজুর দিয়ে ইফতার করার উপকারিতা হল, খেজুর সহজপাচ্য। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার কারণে খাওয়ার পর যে সমস্যা হওয়ার কথা খেজুর খেলে তা হয় না। উপরন্তু খেজুর হালকা খাবারের একটি। পানি, খেজুর এগুলো দ্বারা ইফতার করলে অলসতা সৃষ্টি হয় না।

ইফতারের সময় দোয়া করা উত্তম। এসময় রোজা পালনকারীর দোয়া কবুল হয়। কারণ ইফতারের সময়টা হল বিনয় ও আল্লাহর জন্য ধৈর্য ধারণের চরম মুহূর্ত। এ সময় জাহান্নাম থেকে মুক্তি দানের মুহূর্ত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল না করে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—১. ন্যায়বিচারক শাসনকর্তার দোয়া, ২. ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়া এবং ৩. মাজলুমের (নির্যাতিত ব্যক্তির) দোয়া।

রোজাদারকে ইফতার করালে অশেষ সওয়াব হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে, তাকে রোজাদারের সম পরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে। তবে রোজাদারের সওয়াবে কোন কর্তন করা হবে না। -(তিরমিযি)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত- যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তার গোনাহ মাফ হবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং সে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। এতে ওই রোজাদারের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের সবার তো আর রোজাদারকে ইফতার করানোর মতো সামর্থ্য নেই। রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে খেজুর, পানি অথবা সামান্য দুধ দিয়ে ইফতার করাবে মহান আল্লাহ তাকেও এই সওয়াব দেবেন। (ইবনে খুজায়মা, বায়হাকি)

এ থেকে বোঝা যায়, শুধু সামর্থ্যবানদের জন্যই নয়, বরং ধনী-দরিদ্র সবার জন্য এটা সহজ নেকি। প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছার। ইচ্ছা করলেই আমরা এই সওয়াব অর্জন করতে পারি। রাব্বুল আলামিন আমাদের সঠিকভাবে রোজাপালন এবং রাসূলের (সা.) সুন্নত অনুযায়ী আমলের তাওফিক দান করুন। -আমিন।


ইসলাম'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি