ঢাকা, শনিবার ২৫ নভেম্বর ২০১৭  ,
১০:২৫:৪৭ মে  ৩১, ২০১৭ - বিভাগ: ইসলাম


সাহরি- রোজা পালনে সহায়ক

Image

মাহে রমজানে মাসব্যাপী রোজার অন্যতম বৈশিষ্ট হলো ভোর রাতে খাবার গ্রহণ যাকে সাহরি বলা হয়। রোজার পাঁচ সুন্নতের একটি হলো এই সাহরি। মধ্যরাতের পর থেকে সুবহে সাদিক তথা ফজর ওয়াক্তের আগের সময়টাকে সাহরি বলা হয়। প্রকৃত তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য এর গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।


হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) বলেন: তোমরা সাহরি খাও, কেননা এতে বরকত রয়েছে। -(বোখারি শরিফ)। হজরত আমর ইবনুল আস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন- ‘আমাদের ও ইহুদি-খ্রীষ্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হল সাহরি খাওয়া আর না-খাওয়া।’ –(মুসলিম শরিফ)

সাহরি বিলম্বে খাওয়া সুন্নত। নবী করিম (সা.) সর্বদা শেষ সময়ে সাহরি খেতেন। ফজরের ওয়াক্ত আসার পূর্বক্ষণে সাহরি খেলে সিয়াম পালন অধিকতর সহজ হয়, ফজরের সালাত আদায় করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কষ্ট করতে হয় না। সতর্কতা অবলম্বন করে ফজরের অনেক আগে সাহরি শেষ করা সুন্নত নয়। শেষ সময়ে সাহরি করলে রাসুল (সা.) এর সুন্নত যেমন আদায় হয়, তেমনি রোজা রাখাও সহজ হয়।

রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন- ‘মোমিনের উত্তম সাহরি হল খেজুর।’ –( আবু দাউদ)। তিনি আরো বলেন- ‘সাহরি হল একটি বরকতময় খাদ্য, তাই তা তোমরা ছেড়ে দিও না। এক ঢোক পানি দ্বারা হলেও সাহরি করে নাও। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও ফেরেস্তাগণ সাহরিতে অংশ গ্রহণকারীদের জন্য দোয়া করে থাকেন।’ (আহমদ)

এ থেকেই সাহরির গুরুত্ব বোঝা যায়। এক ঢোক পানি, এক লোকমা খাদ্য, এক কাপ দুধ, সামান্য ফলমূল বা একটি খেজুরের মতো যত্সামান্য হলেও সাহরি গ্রহণ করা সুন্নত। এই বরকত ইহকাল এবং পরকাল উভয়ের জন্যই। সাহরি একদিকে শারীরিক শক্তি জোগায়, যা রোজা পালনে সহায়ক; অপর দিকে রূহানি শক্তি জোগায়, যা তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে।

সাহরির সময় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি সময়। এ সময় জাগ্রত হওয়ার কারণে আল্লাহ যা পছন্দ করেন এমন অনেক ভাল কাজ করা যায়। যেমন তিনি মোমিনদের প্রশংসায় বলেছেন- ‘তারা শেষ রাতে (সাহরির সময়) ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (সূরা জারিয়াত, ১৮)

রাব্বুল আলামিন এ আয়াতে ওই সব জান্নাতবাসী মানুষের প্রশংসা করেছেন যারা শেষ রাতে দোয়া-প্রার্থনা করে ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। এর মাধ্যমে তারা যে জান্নাত লাভ করবে এর সুসংবাদও দেয়া হয়েছে। সাহরির সময়টা এমন একটি সময় যখন আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটতম আকাশে অবতরণ করেন। যে সব মানুষ তখন তার প্রতি আগ্রহী হয়ে সালাত ও দোয়া-প্রার্থনা করে তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন।

যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘আমাদের মহান প্রতিপালক রাব্বুল আলামিন প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। তখন মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যে আমার কাছে দোয়া করবে আমি তাতে সাড়া দেব, যে আমার কাছে চাইবে আমি তাকে দান করব ও যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব।’ -(বোখারি ও মুসলিম)

তাই সাহরি খাওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তবে সাহরির খাবার হালকা হওয়া ভাল। এমন বেশি খাওয়া উচিত নয় যাতে দিনের বেলা কাজ-কর্মে অলসতা দেখা দেয়। যে কোন হালাল খাবার সাহরিতে গ্রহণ করা যায়। কোনো কারণে সাহরি খাওয়া সম্ভব না হলেও রোজা রাখতে হবে, কোনো প্রকার বাহানা বা এহেন ওজর রোজা ছাড়ার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে সাহরি বর্জন করা ঠিক নয়। এটি সুন্নতের বরখেলাপ।

সাহরির সময় হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি দান-প্রতিদানের সময়। এ সময় সে ব্যক্তিই তার সামনে হাজির হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন যিনি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব ভালভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজের নিয়তকে বিশুদ্ধ করেছেন। রাব্বুল আলামিন আমাদের সঠিকভাবে সাহরি ও রোজা পালনের তৌফিক দান করুন। -আমিন।

ইসলাম'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি