ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৩:১২:৪৮ মে  ৩০, ২০১৭ - বিভাগ: স্বাস্থ্য


মানসিক ব্যাধি থেকে ৭ ব্যথা

Image

দুই ভাবে ব্যথার উৎপত্তি হতে পারে। ১. দেহ সমস্যাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যথা অনুভূত হয়। ২. সমস্যা রোধের সময় ব্যথা অনুভূত হয়। অর্থাৎ দেহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেতর থেকে যখন ক্ষত রোধের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে তখনও দেহে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। ব্যথা প্রত্যেক মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

স্বাভাবিকভাবে কেটে যাওয়া বা আঘাত থেকে দেহে ব্যথা সৃষ্টি হয়। তবে মানসিক কারণেও যে দেহে সাধারণ কিছু ব্যথা এবং যন্ত্রণার উৎপত্তি হতে পারে তা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

যা হোক, সব ব্যথার কারণ দেহের ক্ষত বা আঘাত নয়, কিছু ব্যথা এবং যন্ত্রণার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আবেগ এবং মানসিক চাপ  জড়িত। এই মানসিক যন্ত্রণা ধীরে ধীরে আমাদের দেহকে খারাপ থেকে আরো খারাপ অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। সুতরাং মানসিক চাপ এবং অবসাদকে হেয়ালি না করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

এ প্রতিবেদনে ৭ ধরনের ব্যথা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলো সরাসরি আবেগ এবং মানসিক সমস্যার সঙ্গে জড়িত।

পিঠে ব্যথা

ব্যাক পেইন বা পিঠে ব্যথা অতি পরিচিত একটি ব্যথা। কখনো কখনো একাকীত্ব, সন্দেহবাতীক এবং কোনো কিছুই ভালো না লাগা- এসব কারণেও ব্যাক পেইন হতে পারে। এক্ষেত্রে বন্ধু, পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে ভালো সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।

মেরুদন্ড বরাবর পিঠের নিচের দিকের ব্যথা

সাধারণত আপনি যখন অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছেন, আপনার আয় রোজগার আগের চেয়ে কমে গেছে, ঋণের বোঝা মাথার ওপর, এরকম অবস্থায় এই ধরনের ব্যথা টের পাবেন।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি সমস্যাগুলোকে পাত্তা দেয়া বন্ধ করে দিন, যতদূর পারা যায় ঝুলিয়ে রাখা হিসাবগুলোর মীমাংসা করে ফেলুন। অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য পেশাদার পরামর্শদাতাদের কাছে যান, অকর্মণ্য হয়ে বসে না থেকে পরিস্থিতি উন্নতির চেষ্টা করুন।

মাথাব্যথা

যখন আপনি প্রচন্ড মানসিক ধকলের স্বীকার, খুব বেশি মানসিক চাপ যাচ্ছে আপনার ওপর দিয়ে, এ রকম সময় আপনার দেহের অসুস্থতাও বাড়তে পারে। মাথাব্যথা, মাইগ্রেন জাতীয় অনেক ধরনের সমস্যার কারণ এই টেনশন এবং মানসিক চাপ।

এই ধরনের সমস্যা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করুন। নিজেকে শিথিল এবং উদ্বেগমুক্ত করার জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখুন অথবা বিনোদনের ব্যবস্থা করুন।

কনুই ব্যথা

আপনি কনুইতে আঘাতপ্রাপ্ত হননি, তবুও সেখানে ব্যথা অনুভব করছেন। এই ব্যথার উৎপত্তির কারণ এটাও হতে পারে যে, আপনি হয়তো আপনার জীবনের পরিবর্তনগুলো মেনে নিতে পারছেন না। যারা পরিবর্তন মেনে নিতে পারে না, তারা নিজেকে সহযোগিতা না করে নিজের সঙ্গে প্রতিমুহূর্তে যুদ্ধ করে, এই ধরনের টেনশন থেকে উদ্ধুদ্ধ সমস্যাগুলো আমাদের হাত এবং কনুইতে ধরা পড়ে।

কোনো পরিবর্তনকে আটকানোর প্রয়োজন নেই, পরিবর্তনের কাছে নিজেকে সঁপে দিন, আপনি খুব শিগগির ভালো অনুভব করবেন।

নিতম্বের ব্যথা

অবশ্যাম্ভাবী পরিবর্তনগুলোকে মেনে নিতে না পারায় যেমন হাতের কনুইতে ব্যথা হয় তেমনি ভবিষ্যতে ভয়ের আশঙ্কা থেকে নিতম্বে ব্যথা হতে পারে।

সম্ভবত আপনি সামনে এগিয়ে যেতে চান না। আপনি আত্মবিশ্বাস হীনতায় ভুগছেন, জীবন যুদ্ধে না নেমেই আপনি হেরে বসে আছেন। চেষ্টার ফলে জীবনের উন্নতি অনিবার্য। সুতরাং কেন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগকে ব্যবহার করবেন না? আর পিছিয়ে না থেকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

ঘাড় ব্যথা

আপনি আপনার ভেতরের বিরক্তি এবং ঘৃণাগুলোকে লুকিয়ে রাখেন, খুব কাছের মানুষের কাছেও মন খুলে কিছু বলেন না, ফলে এই ঘাড় ব্যথা থেকে শুরু করে ঘাড়ের স্নায়ুগুলো অনুভূতিহীন হয়ে যেতে পারে।

আপনার চারপাশের মানুষের ভালো দিকগুলোকে খুঁজে বের করা এবং ক্ষমা করার গুণই আপনাকে এ রকম অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পারে।

কাঁধে ব্যথা

মাঝে মাঝে কি আপনার মনে হয় যে, সারা পৃথিবীর ওজন আপনার কাঁধের ওপর?

আপনি সবসময় সবজায়গায় কাঁধের ওপর এই অসহ্য মানসিক ওজন বয়ে বেড়াচ্ছেন। এটা সত্য যে, এই যন্ত্রণা উপেক্ষা করা কঠিন, তবে আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যেন এই ধরনের উদ্বেগ থেকে আপনি মুক্ত থাকতে পারেন।

অন্যের সমস্যাগুলো সমাধান করতে গিয়ে তা নিজের কাঁধে নেয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, সমস্যা সমাধান করা আর সমস্যা নিজের কাঁধে নিয়ে ঘুড়ে বেড়ানো এক না।

তথ্যসূত্র : লিফটার


স্বাস্থ্য 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি