ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
১৫:২৫:৫৮ মে  ২৮, ২০১৭ - বিভাগ: ইসলাম


গরমে সিয়াম সাধনা: আমাদের করণীয়

Image

প্রত্যেক সুস্থ মুসলিম ব্যক্তির ওপর পবিত্র মাহে রমজানের রোজা রাখা ফরজ। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মোত্তাকী হতে পার’- সূরা আল-বাক্বারাহ-১৮৩।

সমগ্র মাসের মধ্যে রমজান মাসের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। এই মাসের প্রথম রাত্রি থেকে শেষ রাত অবধি আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা রাখেন। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ রাখেন। শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করে রাখেন। রমজান মাস আগমনের সাথে সাথে একজন ফেরেশতা প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের ডেকে ডেকে বলতে থাকেন, ‘হে কল্যাণকামীরা এগিয়ে আসো, হে অকল্যাণকামীরা থেমে যাও’। আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসের প্রতিটি রাতে অসংখ্য গুনাহগার বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করেন। যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে রমজান মাসের দিনসমূহে সিয়াম সাধনা ও রাতে ইবাদত বন্দেগী করেন তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

হাদিসে কুদসীতে এসেছে, আল্লাহ বলেন, ‘বান্দার সকল ইবাদত কেবল বান্দার শুধুমাত্র রোজা ছাড়া, রোজা আমার, আমি আল্লাহ এর প্রতিদান নিজে দান করব, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়েও প্রিয়’।

রমজান মাসের দিন যতই লম্বা হোক আর যতই গরমের প্রচণ্ডতা থাকুক একজন সুস্থ ব্যক্তিকে অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। শুধুমাত্র অসুস্থ ব্যক্তি অথবা মুসাফির ব্যক্তি কেবল অসুস্থ থাকাকালীন এবং সফরকালীন রোজা ভাঙতে পারেন। তাদেরকে পরবর্তীতে সময়-সুযোগ মতো ভাঙা রোজাগুলো রাখতে হবে।

প্রচণ্ড গরম ও লম্বা দিনগুলোতে রোজা রাখতে আমরা কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারি, যা আমাদেরকে সুন্দরভাবে রোজা পালন করতে সহায়তা করবে।



নিয়ম:
১. সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠেই প্রচুর পরিমাণ পানি পান করে নিন। এরপর অজু, নফল নামাজ ইত্যাদি সেরে সেহরি খান। সেহরিতে অবশ্যই শাকসবজি খাবেন। ফাস্টফুড, গোশত, প্রসেসড রুটি খাবেন না। এতে সারাদিন পানি তৃষ্ণা লাগবে। সেহরিতে বিভিন্ন ধরনের ফল খেতে পারেন। বিশেষ করে দুটি খেজুর আপনাকে সারাদিন সুস্থ ও সতেজ রাখতে যথেষ্ট। দুধ, দই ইত্যাদিও আপনার সেহেরির মেন্যুতে রাখতে পারেন।

২. ইফতারিতে ভুলেও ভাজা পোড়া ও তৈলাক্ত খাবার খাবেন না। ভিজানো চিড়া, কলা, খেজুর এবং এক গ্লাস হালকা চিনির শরবত আপনাকে সতেজতা ফিরিয়ে দেবে। সারাদিন খালি পেটে থাকার পর ইফতারির সময় পেট ভরে খাবেন না। মাস গোশত খেতে চাইলে তারাবিহ’র পর অল্প পরিমাণ ভাতসহ খেতে পারেন।

৩. ইফতার ও সেহরির মাঝে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন।

৪. ইফতার ও সেহরিতে এক গ্লাস ইসবগুলের ভূষি পান করুন।

৫. দিনের বেলা রোদ পরিহার করুন। একান্ত বাইরে বের হতে হলে ছাতা ব্যবহার করুন।

৬. দিনে দুইবার গোসল করতে পারেন। এছাড়া বার বার ঠান্ডা পানি দিয়ে অজু করতে পারেন।

৭. ফ্যান / এসির মধ্যে অথবা ঠান্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন।

৮. যারা রোদে কাজ করেন তারা তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে কাজ করুন। যদি রাতে কাজ করে দিনে বিশ্রামে থাকা যায় তাহলে সেই অপশন গ্রহণ করা যেতে পারে।


৯. অলস সময় আল্লাহর যিকির ও কুরআন তেলাওয়াত করুন।

১০. ডায়োবেটিস, হৃদরোগ ও অন্যান্য জটিল রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে রোজা রাখুন। তারা যদি রোজা না রাখতে বলেন তাহলে অন্য ঠান্ডা সময়ে ছোট দিনগুলোতে রোজাগুলো আদায় করে নিতে পারেন।

১১. ডাক্তার রোজা রাখতে অনুমতি দিলে তাদের দেয়া নির্দেশনা মতো ঔষধ গ্রহণ করুন।

১২. যে সমস্ত রোগীকে ডাক্তার কখনোই রোজার অনুমতি দেন না তারা ৩০ টি রোজার জন্য ফিদইয়া আদায় করুন। ফিদইয়া স্বরুপ, প্রতিদিন একজন মিসকিনকে আপনার স্ট্যাটাস অনুযায়ী সেহরি, ইফতার ও রাত্রিকালীন খাবার দান করুন অথবা খাবারের মূল্য দান করুন। ফিদইয়া দিলে তাকে আর রোজা কাজা করতে হবে না।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সিয়াম সাধনা করে তার নৈকট্য ও তাকওয়া অবলম্বনের তৌফিক দান করুন। আমিন।



ইসলাম'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি