ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
১২:২৪:০৩ মে  ২৬, ২০১৭ - বিভাগ: স্বাস্থ্য


মাথাব্যথা যখন স্বাস্থ্য ঝুঁকি

Image

প্রায় প্রত্যেকেই কখনো না কখনো মাথাব্যথায় ভোগে। ডিহাইড্রেশন, অ্যালার্জি অথবা অতিরিক্ত কাজ এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির ফলেও মাথাব্যথা হতে পারে। যতক্ষণ না মাথাব্যথা অনুভব হচ্ছে ততক্ষণ কেউ এটা নিয়ে মাথা ঘামায় না।

মাথাব্যথা হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো। কারণ ডাক্তার আপনাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে, কারণ ও করণীয়গুলো বুঝিয়ে দেবে, মাথাব্যথার ধরন এবং চিকিৎসা সম্পর্কীয় যাবতীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে।

মাথাব্যথার রকমফের
হার্টফোর্ড হেলথকেয়ার হেডেক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিয়ান গ্রসবার্গ এর মতে, তিন শতাধিক মাথাব্যথা এবং মাথাব্যথার কারণ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত মাথাব্যথা অনেক সময় গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কখন কখন মাথাব্যথা হয়েছে এবং কি কি লক্ষণ ছিল, এই তথ্য রোগ শণাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাইগ্রেন
আনুমানিক হিসাবে দেখা যায় যে, প্রায় ৬% পুরুষ এবং ১৮% নারী মাইগ্রেনে আক্রান্ত। আপনি যদি এই ৬% অথবা ১৮% গ্রুপের একজন হয়ে থাকেন তবে আপনি অবশ্যই জানেন যে, মাইগ্রেন কতটা যন্ত্রণা তৈরি করতে পারে এবং দুর্বল করে দিতে পারে।

ইশা গুপ্তা নামের একজন নিউরোলজিস্ট বলেন, মাথার ভিতরে প্রচন্ড ধুঁকধুঁকানি এবং এক ধরনের অসহ্য নিস্পেষণ অনুভূত হওয়াকে মাইগ্রেন বলা যায়।

দেহের অনুভূতি হ্রাস
ডা. গুপ্তা বলেন, একাধিক লক্ষণ না থাকলে মাথাব্যথা, নিউরিজিমস জাতীয় রোগগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।

অতিরিক্ত মদ্য পানের ফলে কিছু লক্ষণ টের পাওয়া যায়, যেমন- চোখের পিছনে মাথার ভিতরে ব্যথা শুরু হয়। এ ধরনের লক্ষণ খুবই ভয়াবহ এমনকি জীবন নাশের হুমকি থাকে।

ডা. গুপ্তার ভাষায় সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হল, কখনো কখনো নিউরিজিমস- বাকশক্তির ঘাটতি, চিন্তাশক্তি হ্রাস, অস্বাভাবিক আচরণ, দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর অচলতা, নিস্তেজ দেহ এবং মুখমন্ডলের লাবন্যহীনতার সঙ্গে জড়িত। তিনি আরো বলেন, যদি আপনি যেকোনো একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া টের পান তবে যত দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব ততই ভালো।

মাথাব্যথা ঘুম ভাঙার কারণ
ডা. গুপ্তার মতে, শুনতে ভালো না লাগলেও এটা সত্যি যে, সবচেয়ে বাজে ক্যানসার হল ব্রেইন ক্যানসার। কারণ, বিভিন্ন ধরনের ব্রেইন ক্যানসার রয়েছে, তবে এগুলোর জন্য যথেষ্ঠ উপসর্গ পাওয়া যায় না। খুব কমসংখ্যক উপসর্গ দিয়ে এই ক্যানসারগুলোকে শণাক্ত করতে হয়।

স্কিন ক্যানসারের ক্ষেত্রে, দেহের এবং অবয়বের পরিবর্তনের ফলে আপনি নিজেই আপনার রোগ শণাক্ত করতে পারবেন।

ড. গুপ্তা বলেন, তীব্র মাথাব্যথার ফলে আপনি যদি ঘুম থেকে জেগে উঠেন, বিশেষ করে সকালের গভীর ঘুম ভেঙে যায় তবে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। মাথাব্যথার কারণগুলো পুরোপুরি এড়ানোর উপায় হল একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া, যিনি আপনার দেয়া লক্ষণগুলোর ওপর ভিত্তি করে মস্তিষ্ক এবং ব্লাড ভেসেলের (পুরো দেহে রক্ত বহনকারী উপাদান) অবস্থা বোঝার জন্য সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই করার নির্দেশনা দিবেন।

মাথাব্যথার স্থায়ীত্বতা বৃদ্ধি
ডা. ডিম্পসে তার বইতে বলেন, মাথাব্যথার লক্ষণগুলো স্পষ্ট হলে এবং মাথাব্যথার পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হলে দ্বিগুণ ব্যথানাশক ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, প্রচুর পানি পান সহ ঘুমেরও প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষত,  আপনি যদি ইতোমধ্যে অসহ্য মাথাব্যথার অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকেন আর সেই অভিজ্ঞতা ভুলতে না পারেন তবে  ক্ষতির পরিমান বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, কেউ যদি তার মাথাব্যথার প্যাটার্ন, সময় এবং ব্যথাস্থান ও চিকিৎসার প্রভাব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে, তবে এর সঠিক ও দ্রুত নিরাময় সম্ভব।

অসহ্য যন্ত্রণাময় মাথাব্যথা
সাধারণ মাথাব্যথায় বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক লার্নার কলেজ অব মেডিসিনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ইমাদ ইস্টিমালিক বলেন, জীবনের সবচেয়ে জঘন্য মাথাব্যথার দিনে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের দেখা মিলবে। আর লক্ষণগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। হতে পারে ইতোমধ্যে আপনি মিনিঙ্গিটস অথবা এনিউরিজমের ঝুঁকিতে আছেন।

অবয়বের পরিবর্তন
ডা. এস্টারনালিক বলেন, মাথাব্যথা আপনার মুখমন্ডলের অবয়ব সহ অতিরিক্ত ওজন হারানো, দুর্বলতা এবং বোধশক্তির হ্রাসকে ফুটিয়ে তুলবে। আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউণ্ডেশনের জরিপ অনুসারে, তিন ভাগের এক ভাগ মাইগ্রেন রোগীরা মাইগ্রেন পরবর্তী ধকল কাটিয়ে উঠতে পারে না, যাদের কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায় না তাদেরকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শমতো কাজ করা উচিত।

আপনি পঞ্চাশোর্ধ
ড. গ্রসবার্গ এর মতে, কোনো ব্যক্তি যদি পঞ্চাশে পৌঁছায় আর সে যদি তার পুরোনো মাথাব্যথাকে নতুন করে অনুভব করা শুরু করে তবে তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নেই।

হঠাৎ মাথাব্যথা
ডা. গ্রসবার্গ বলেন, মাথাব্যথাটা কি হঠাৎ অনুভূত হয়েছিল? মাথার ওপর কেউ হঠাৎ কোনো বেসবল দিয়ে আঘাত করার অনুভূতি হলে এবং দুই এক মিনিটের মধ্যে অসহ্য ব্যথা অনুভূত হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

ওষুধ কাজে লাগছে না
ডা. গ্রসবারগ এর মতে, সাধারণ ওষুধ পত্রে কাজ না হলে আপনাকে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। আবার, আপনি যদি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন তাহলেও নতুন করে  ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

তবে সাময়িক মাথাব্যথা দূর করার অনেক উপায় আছে, জেম্ব্রাসের মতো কিছু নতুন ওষুধ বের হয়েছে যা ১০ মিনিটের মধ্যে আপনার মাইগ্রেন সহ অনেক রোগ দূর করতে সক্ষম।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট


স্বাস্থ্য 'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি