ঢাকা, শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭  ,
২১:২৮:৪৬ মার্চ  ১১, ২০১৭ - বিভাগ: বিদ্যুৎ/জ্বালানি


তরল গ্যাস
আমদানি হলে গ্যাসের দাম বাড়বে তিনগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

তরল গ্যাস বা এলএনজি আমদানি হলে গ্যাসের দাম বাড়বে তিনগুণ। খোদ সরকারি এক হিসেবে দেখা গেছে। দাম নির্ধারণে গঠিত কমিটির প্রস্তাব, এলএনজি আসার পর প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দর হবে ৩২ টাকার কিছু বেশি। আমদানি শুরুর আগে থেকেই গ্যাসের দাম বছরে ৯ ভাগ বাড়াতে বলেছে তারা। সরকারের পরিকল্পনা মতে এই গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হবে ২০১৮ সালের মার্চে। বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক ম তামিম মনে করেন, বিশেষ খাত চিহ্নিত না করে এলএনজি আমদানি হবে আত্মঘাতী।
গত দেড়যুগে দেশে আবিষ্কার হয়নি, বড় কোনো গ্যাসক্ষেত্র। কিন্তু শিল্প ও গৃহস্থালী কাজে বেড়েছে, এ জ্বালানির চাহিদা। ফলে বেড়েছে জোগান ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা। রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার আশঙ্কা আগামী বছর থেকে সরবরাহ আরও কমবে। এই ঘাটতি মেটাতে, আমদানিতেই চোখ সরকারের। তরল গ্যাস বা এলএনজি আমদানি করে, বিশেষ টার্মিনালের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে জাতীয় গ্রিডে। এজন্য মহেশখালীতে একটি ভাসমান টার্মিনাল তৈরির কাজ শুরু করেছে, মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। আগামী বছরের মার্চে, যেখান থেকে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। গ্রাহক পর্যায়ে এর দাম কতো হবে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গঠিত কমিটি গত বছরের মাঝামাঝি একটি প্রতিবেদন দেয় সরকারকে। এ নিয়ে সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি সভাও করেছে। ওই প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়, দেশে উৎপাদিত গ্যাসের সাথে আমদানি করা এলএনজি মিশিয়ে নতুন দর ঠিক করার। এলএনজি আসার আগেই প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে, প্রতি ঘনমিটার ১০ দশমিক ২৯১ টাকা। অন্যদিকে, দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি গ্রিডে যুক্ত হবে এটি মাথায় রেখে, গ্যাসের নতুন দর প্রস্তাব করা হয়েছে ৩২ দশমিক ৫৩২ টাকা। বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম বলছেন, এ গ্যাস কোথায় ব্যবহার করা হবে, তা আগেই ঠিক করা দরকার। বর্তমানে যে গ্যাস বিক্রি হয়, তাতে দামের সাথে প্রায় শতভাগ বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স-ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় সরকারকে। দামি এলএনজির ক্ষেত্রে এটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া আগে থেকেই গ্যাসের দাম বাড়িয়ে রাজস্ব পুল এবং একটি তহবিল গঠনেরও সুপারিশ করা হয়। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে, এসব নিয়ে আলোচনা করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। সরকার থেকে বলা হচ্ছে এলএনজি আসলে কী দামে গ্যাস বিক্রি করা যায়, সে বিষয়ে একটি উপায় অনুসন্ধানে নেমেছে তারা। বেশ কয়েক বছর ধরে নতুন শিল্প-কারখানায় গ্যাস দেওয়া সীমিত করেছে সরকার। এক হিসাবে শুধু বস্ত্রখাতেই গ্যাসের অভাবে অবকাঠামো থাকার পরও, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার শিল্প আসতে পারছে না উৎপাদনে। এলএনজি আসলে, তারাও গ্যাস চান সুলভে। বিশ্বে প্রতিনিয়তই বাড়ছে এলএনজির চাহিদা। বিশেষ করে এশিয়ায়, সবার চোখই বলতে গেলে এ তরল গ্যাসে। এনার্জি বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাস, ভবিষ্যতে এলএনজির দাম আরও বাড়বে।


বিদ্যুৎ/জ্বালানি'র অন্যান্য খবর

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি